Tuesday, 22 Sep 2026
পার্বত্য চট্টগ্রাম June 27, 2026

চবিতে কল্পনা চাকমা অপহরণের প্রতিবাদে শহীদ ৪ জুম্ম শিক্ষার্থীর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

হিল ভয়েস, ২৭ জুন ২০২৬, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের তৎকালীন নেত্রী কল্পনা চাকমা অপহরণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিহত ও গুম হওয়া চার জুম্ম শিক্ষার্থীর ৩০তম শহীদ দিবস পালিত হয়েছে।

শনিবার ২৭ জুন ২০২৬, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), চবি শাখার উদ্যোগে ক্যাম্পাসে এক স্মরণসভা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

১৯৯৬ সালের এই দিনে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে কল্পনা চাকমা অপহরণের প্রতিবাদে সড়ক ও নৌপথ অবরোধ চলাকালে ভিডিপি ও স্যাটেলারদের হামলায় রূপম চাকমা শহীদ হন এবং মনতোষ চাকমা, সমর বিজয় চাকমা ও সুকেশ চাকমা গুমের শিকার হন।

পিসিপি চবি শাখার সহ-সভাপতি এনতেস চাকমার সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক প্রেনঙি ম্রো-এর সঞ্চালনায় স্মরণসভায় স্বাগত বক্তব্য দেন পিসিপি কর্মী বিপুল তঞ্চঙ্গ্যা। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রিবেক চাকমা এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বিজক চাকমা। সভার শুরুতে জুম্ম জনগণের অধিকার আদায়ে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

স্মরণসভায় বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও দীর্ঘ ২৯ বছরেও তা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে পাহাড়ে ভূমি বেদখল, জাতিগত নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনা এখনো থামেনি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রিবেক চাকমা বলেন, জুম্ম জনগণের লড়াইকে স্তিমিত করতেই সেদিন কল্পনা চাকমাকে অপহরণ এবং তার প্রতিবাদ করায় চার তরুণকে হত্যা ও গুম করা হয়েছিল। চুক্তির পরও পাহাড়ের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন আসেনি। শাসকগোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে পাহাড়ী অধিবাসীদের নিজ ভূমিতে সংখ্যালঘু বানানোর চেষ্টা করছে।

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বিজক চাকমা তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, সরকারের অনীহা এবং জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের কারণে পার্বত্য চুক্তির রাজনৈতিক অধিকারগুলো এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শাসকগোষ্ঠী পাহাড়ের মানুষের আন্দোলন দমাতে রাজনৈতিক বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। এই ষড়যন্ত্র রুখতে তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে বিপুল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন বাঘাইছড়ির নিজ বাড়ি থেকে কল্পনা চাকমাকে অপহরণ করা হয়েছিল, যার বিচার আজও মেলেনি। পাহাড়ের ১৪টি জাতিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে ছাত্র ও যুব সমাজকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।

স্মরণসভা শেষে চবি ক্যাম্পাসে এক আবেগঘন পরিবেশে শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।