হিল ভয়েস, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, চট্টগ্রাম: গত (১৪ জানুয়ারি) রোজ বুধবার খাগড়াছড়ি সদরের কমলছড়ি ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ার অন্তর্ভুক্ত খালপাড় নামক স্থানে সেটেলার বাঙালি কর্তৃক হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত বিমল ত্রিপুরা (৩৭) পিতা: মৃত মনোরাম ত্রিপুরা, মাতা: মৃত কুমারী ত্রিপুরা, গ্রাম: নুয়াপাড়া, ২৬২ নং ভুয়াছড়ি, খাগড়াছড়ি সদর আজ সন্ধ্যা ৬:৩০ ঘটিকার সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানা যায়।
বিমল ত্রিপুরা গত ১৪ জানুয়ারি বিকাল ৪ ঘটিকার সময়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলাধীন কমলছড়ি ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ার অন্তর্ভুক্ত খালপাড় নামক স্থানে ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সেটেলার বাঙালি কর্তৃক ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হলে তিনি সহ আরো দুজন জুম্ম মারাত্মকভাবে জখম হন।
পরে তিনজনের মধ্যে বিমল ত্রিপুরা গুরুতর আহত হলে খাগড়াছড়ি হাসপাতাল হতে চট্টগ্রামের এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটাল লিমিটেড হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে বিকাল ৩ ঘটিকার সময়ে জরুরি ভিত্তিতে এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটাল লিমিটেড হতে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় এবং দীর্ঘ ৯ দিন আইসিউতে থাকা অবস্থায় আজ মৃত্যুবরণ করেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে সেটেলার বাঙালি আব্দুল বশি, পিতাঃ তাজির উদ্দিন, ঠিকানাঃ ভুয়াছড়ি (জোরপূর্বক বসতি স্থাপন)’র সাথে থৈহ্লাঅং চৌধুরীর একটি জায়গার বিরোধ চলমান ছিল। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে থৈহ্লাঅং চৌধুরী উক্ত জায়গায় আমবাগান করে আসছিলেন। কিন্তু হঠাৎ সেটেলার বাঙালি আব্দুল বশি জায়গায়টি তার বলে অবৈধভাবে দাবি করতে থাকে। এক পর্যায়ে আদালতে মামলা করা হলে আদালতের নির্দেশে ভূমি অফিস থেকে জায়গাটি তদন্তের জন্য আসলে সেটেলার বাঙালিদের বাধাদানের কারণে তা করা সম্ভবপর হয়নি।
পরবর্তীতে থৈহ্লাঅং চৌধুরী দুইজন শ্রমিক অর্থাৎ বিমল ত্রিপুরা ও মিলন চাকমাকে নিয়ে গত ১৪ জানুয়ারি তার আমবাগানের আগাছা পরিষ্কার করতে গেলে বিকাল ৪ ঘটিকার সময়ে আব্দুল বশি, তার দুই ছেলে রশিদ ও নাসিরসহ আরো কয়েকজন সেটেলার বাঙালিকে নিয়ে তাদের বাগান পরিষ্কার করতে বাধা প্রদান করে। এতে সেখানে সেটেলার বাঙালিদের সাথে থৈহ্লাঅং চৌধুরীর বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সেটেলাররা তাদের উপর উপর্যুপরি দেশিয় ধারালো দা দিয়ে হামলা চালায়। এতে বিমল ত্রিপুরাকে মাথায় গুরুতরভাবে আঘাত করা হয়।
এই ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকেই পৃথক মামলা করা হয়। জুম্মদের পক্ষ থেকে মংশিতু মারমা বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। অপরদিকে সেটেলার বাঙালিদের পক্ষে মোছা. খাদিজা পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরেকটি মামলা করেন।
তবে খাদিজার মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে এর মধ্যে জামিন নিয়েছেন বলেও জানা যায়।
আরো জানা যায়, এরই মধ্যে পুলিশ মো. আব্দুর রশিদ ও মো. আল আমিন নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে আব্দুর রশীদকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও আল আমিনকে (২২ জানুয়ারি) কুমিল্লার কান্দিরপাড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।