হিল ভয়েস, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিশেষ প্রতিবেদকঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ও অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি উপেক্ষিত থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
গতকাল শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, দেশের প্রায় সব প্রধান রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে ধর্মীয় ও নৃ-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করে ঐক্য পরিষদ।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে ‘টার্গেট করে’ সহিংসতার অভিযোগকে ‘নির্বাচনী রাজনৈতিক বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করায় সংগঠনটি গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ঐক্য পরিষদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিদ্যমান দায়বদ্ধতার অভাবকেই স্পষ্ট করে তোলে।
সংগঠনটি আরও জানায়, নির্বাচনকালীন সময়ে কেবল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েই সংখ্যালঘু জনগণের মধ্যে আস্থা ও আশ্বাস সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নির্বাচনের আগে ও পরে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী বারবার সহিংসতা, লুটপাট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে, যার সুষ্ঠু বিচার ও কার্যকর প্রতিকার আজও নিশ্চিত হয়নি।
প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়, আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার প্রবণতা ভবিষ্যতে তাদের অস্তিত্ব, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতির দায় কোনো একটি দল বা গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই; বরং এটি সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যর্থতা।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার, নিরাপত্তা ও সমতার প্রশ্নে রাজনৈতিক দলসমূহকে আরও দায়িত্বশীল, স্পষ্ট ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মণীন্দ্র কুমার নাথ।