Tuesday, 22 Sep 2026
ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ April 23, 2026

লামায় ত্রিপুরাদের কবরস্থান ও বসতভিটা দখল করে রিসোর্ট তৈরির প্রতিবাদে মানববন্ধন

হিল ভয়েস, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, বান্দরবান: বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে আদিবাসী ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত কবরস্থান ও বসতভিটা দখল করে “জঙ্গল বিলাস” নামক রিসোর্ট তৈরির প্রতিবাদে গতকাল ২২ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার সকালে বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচিতে স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।

অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসবাস করে আসা আদিবাসী পরিবারগুলোর পৈতৃক ভূমি দখলের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে মিথ্যা কাগজপত্র প্রণয়ন, প্রভাব খাটানো এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো নানা অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। পাশাপাশি, বন উজাড়, পাহাড় কাটা এবং পানির উৎসে বিঘ্ন সৃষ্টির ঘটনাও উল্লেখ করা হয়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বক্তারা বলেন, উক্ত ভূমি শুধুমাত্র বসবাসের স্থান নয়; বরং এটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও পূর্বপুরুষের স্মৃতির সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বিশেষত কবরস্থান সংরক্ষণ তাদের জন্য একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এ ধরনের ভূমি দখলের প্রচেষ্টা তাদের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, যারা এই বিষয়ে প্রতিবাদ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ, হয়রানি এবং মিথ্যা অভিযোগ আনার ঘটনা ঘটছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য প্রদান করেন, গ্রামবাসী রাই চন্দ্র ত্রিপুরা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উবাথোয়াং মারমা, মানবাধিকার কর্মী জন ত্রিপুরা, ম্রো স্টুডেন্ট কাউন্সিলের সভাপতি তনয়া ম্রো এবং গ্রামবাসী দীপা ত্রিপুরা।

মানববন্ধন শেষে আয়োজকবৃন্দের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যতদিন পর্যন্ত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার প্রতিষ্ঠিত না হবে এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা না হবে, ততদিন তাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।