Tuesday, 22 Sep 2026
পার্বত্য চট্টগ্রাম April 24, 2026

আলিকদমে হামের প্রাদুর্ভাবে এই পর্যন্ত ৫ শিশুর মৃত্যুর খবর, আক্রান্ত শতাধিক

হিল ভয়েস, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, বিশেষ প্রতিবেদক: বান্দরবান জেলাধীন আলীকদম উপজেলার ৪নং কুরুকপাতা ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাবে গত কয়েক দিনে আক্রান্ত হয়ে এক স্কুলছাত্রীসহ এই পর্যন্ত ৫ ম্রো শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে উক্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়ায় ও একটি ছাত্রাবাসে শতাধিক শিশু আক্রান্ত অবস্থায় থাকলেও দুর্গমতা ও সঠিক চিকিৎসার অভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া লামা ও আলিকদম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও উদ্বেগজনকহারে হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

হিল ভয়েসের রিপোর্ট অনুযায়ী এপর্যন্ত ৫ ম্রো শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে একজনের নাম সোনামনি চাংমুম ম্রো (৮), পিতা: পাসং ম্রো, মাতা: তুমরুম ম্রো, গ্রাম: রুইতন পাড়া, ৯ নং ওয়ার্ড, কুরুকপাতা ইউনিয়ন, আলিকদম উপজেলা। অন্য দুই ভুক্তভোগী শিশুর নাম এখনো জানা যায়নি।

ছবি: হামে মৃত্যু হওয়া সোনামনি চাংমুম ম্রো

সোনামনি চাংমুম ম্রো ইয়াংরিং মাংক্রাত পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক মেধাবী শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল রাতে প্রচন্ড জ্বরে আক্রান্ত সোনামনি চাংমুম ম্রোকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে স্থানীয় স্কুল ছাত্রদের প্রেননৈ হোস্টেলের ৩৫ জন এবং কুরুকপাতা ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়ায় শতাধিক শিশু আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে উচ্চ জ্বর, পেটব্যথা ও ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আক্রান্তদের শরীরে হামের স্পষ্ট লক্ষণ থাকলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এটিকে ‘জলবসন্ত’ বলে দাবি করছে। যথাযথ পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আলীকদমে সঠিক চিকিৎসা ও সিট সংকটের কারণে অনেক রোগীকে পার্শ্ববর্তী লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত ১১ এপ্রিল ২০২৬ একই কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত রিংলত ম্রো পাড়া গ্রামে হামে আক্রান্ত হয়ে ২ ম্রো শিশু মারা যায়। হামে মারা যাওয়া ওই শিশুদের নাম: ১। জংরুং ম্রো (৩ মাস), পিতা- লেংক্লাং ম্রো, মাতা- কামবুং ম্রো এবং ২। খতং ম্রো (৭ মাস), পিতা- লুকুন ম্রো, মাতা- কাইরু ম্রো।

আরো উল্লেখ্য যে, গত পরশু (২২ এপ্রিল) পর্যন্ত সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সমতল জেলাগুলোতে হামে মোট ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৮৫টি শিশুর।

এছাড়া গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ২৫ হাজার ৯৩৫টি শিশুর মধ্যে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৭ হাজার ৮৫টি শিশু। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৮০৫ শিশুর হাম শনাক্ত হয়। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ১০৬।

আলিকদমের স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ পার্বত্য চট্টগ্রামে হামের প্রাদুর্ভাবের উপর মোটেও নজর দিচ্ছে না। এতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।