Tuesday, 22 Sep 2026
আদিবাসী অধিকার April 24, 2026

থানচিতে সেটেলার বাঙালি কর্তৃক এক ম্রো শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা

হিল ভয়েস, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, বান্দরবান: গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান জেলাধীন থানচি উপজেলার ৩নং থানচি সদর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের দনরই পাড়া গ্রামে এক সেটেলার বাঙালি কর্তৃক এক ম্রো শিশু (১২) ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয় বলে জানা যায়।

পরে ডিজিএফআই রাজদুল ও এনএসআই মন্নান নামে দুই রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে মাত্র ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা দিয়ে ঘটনাটি মিমাংসা করা হয় বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম: মোঃ রাসেল (৩২)। সে দেশের সমতল অঞ্চল হতে এসে বান্দরবান সদরে আর্মি পাড়া নামক এলাকায় বসতিস্থাপনকারী একজন সেটেলার বাঙালি। তার আসল বাড়ি যশোর জেলায় বলে জানা যায়। সে পেশায় ভাঙারি বিক্রেতা বলে জানা গেছে।

সূত্র মোতাবেক, গতকাল (২৩ এপ্রিল) সকালে মো: রাসেল দনরই পাড়ায় প্রবেশ করে এবং পুরনো ভাঙা জিনিসপত্র কেনার জন্য এলাকাবাসীদের উদ্দেশ্য করে হাঁকডাক দিতে থাকে। পরে গ্রামের লোকজন জানায় যে, এখানে কোনো ভাঙা জিনিস পাওয়া যাবে না এবং তাকে পাশের ‘খুমী পাড়ায়’ যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে রাস্তা বলে দেয়। ঐ পথে দুটি রাস্তা ছিল, যার একটি খুমী পাড়ায় যাওয়ার রাস্তা এবং অপরটি গ্রামের পানি আনার আসা-যাওয়া রাস্তা।

পরবর্তীতে অভিযুক্ত মো: রাসেল খুমী পাড়ার রাস্তার দিকে না গিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পানি তোলার নির্জন স্থানে চলে যায়। সেখানে পাড়ার ভুক্তভোগী ম্রো শিশুটি একা পানি তুলছিল। পরে সেটেলার বাঙালিটি তার কাছে গিয়ে পিপাসা লেগেছে বলে পানি খুঁজতে থাকে। শিশুটি সহজ সরল মনে পানি এগিয়ে দিলে মো: রাসেল পানিতে ময়লা আছে অজুহাত দেখিয়ে নতুন করে পানি তুলে দিতে বলে। ভুক্তভোগী শিশুটি পুনরায় পানি তোলার জন্য সামনের দিকে নত হলে রাসেল অতর্কিতভাবে শিশুটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সে জোরপূর্বক শিশুটির সংবেদনশীল ও গোপন অঙ্গে হাত দেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে শিশুটি ভয়ে ও আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার, কান্নাকাটি করতে করতে কোনমতে প্রাণ বাঁচিয়ে দৌঁড়ে গ্রামে পালিয়ে আসে এবং পাড়াবাসীদের কাছে এই পৈশাচিক ঘটনার বিবরণ দেয় বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানান, এই খবর শোনার পর গ্রামের এক যুবক তৎক্ষণাৎ দৌড়ে গিয়ে ধর্ষণচেষ্টাকারী মোঃ রাসেলকে ধরে আটক করে রাখে। পরে বিকালের দিকে গ্রামের মানুষ জুমের কাজ থেকে ফিরলে সঠিক ও আইনি বিচারের আশায় সেখানকার স্থানীয় ৩৬২নং মৌজার হেডম্যান রেংচিন ম্রোকে জানানো হয়। তিনি উক্ত ধর্ষণকারীকে তার কাছে নিয়ে যেতে বলেন এবং অভিযুক্তকে নেওয়া হলে, একা তার পক্ষে এই বিচার করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।

পরে তিনি থানচি বাজারের জসিম নামের এক বাঙালি সওদাগরকে ডাকেন। এরপর ঐ বাঙালি সওদাগর থানায় ফোন দেওয়ার নামে ডিজেএফআই ও এনএসআই দুইজন কর্মকর্তাকে কল দিয়ে ডেকে আনেন। পরবর্তীতে উক্ত দুই গোয়েন্ডা কর্মকর্তা মাত্র ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা জরিমানা দিয়ে ঘটনাটি আপসে সমাধান করার নির্দেশ দেন এবং তাদের নির্দেশনা অনুসারে ধর্ষণচেষ্টাকারী মোঃ রাসেলকে সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে সসম্মানে মুক্ত করে দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় গ্রামের স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই নিয়ে স্থানীয় এক মুরুব্বি জানান, আইনের রক্ষক যখন ভক্ষক হয়ে ধর্ষণ চেষ্টার মতো একটি চরম অপরাধী আসামীকে শুধুমাত্র ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাকে যথাযথ আইনের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি না দেওয়া একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। যার ফলে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে পাহাড়ি সমাজে রাষ্টীয় বাহিনীর উপর দিন দিন এক অবিশ্বাসের জন্ম দিচ্ছে।