Tuesday, 22 Sep 2026
পার্বত্য চট্টগ্রাম May 21, 2026

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না- রাঙ্গামাটিতে ঊষাতন তালুকদার

হিল ভয়েস, ২০ মে ২০২৬, রাঙ্গামাটি: আজ বুধবার (২০ মে) সকাল ১০ ঘটিকায় রাঙ্গামাটি সদররে কুমার সুমিত রায় জিমনেশিয়াম প্রাঙ্গনে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের ৩৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক বিশাল ছাত্র ও জন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্র ও জন সমাবেশে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতির সহ সভাপতি ঊষাতন তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শিশির কান্তি চাকমা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়া রেজা এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উলি সিং মারমা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিয় তঞ্চঙ্গ্যার সঞ্চালনায় উক্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রুমেন চাকমা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পিসিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি জিকো চাকমা এবং গণসংগীত পরিবেশনা করেন গিরিসুর শিল্পীগোষ্ঠী।

এই সময় ঊষাতন তালুকদার বলেন, ১৯৪৭ সালে রেডক্লিফ মিশন অমুসলিম অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রামকে মুসলিম অধ্যুষিত পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করে ঐতিহাসিক ভুল করে। এই ভুলের মাশুল পার্বত্য অঞ্চলের জুম্ম জনগণকে এখনও দিতে হচ্ছে। ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান জুম্মদের জাতীয় অস্তিত্বকে অস্বীকার করে তাদেরকে বাঙালি হতে বলেছেন। তারপর আশির দশকে জিয়াউর রহমান পার্বত্য অঞ্চলে সেটেলার বাঙালি পুনর্বাসন করে এ অঞ্চলের জনমিতি পরিবর্তন ও জুম্মদের সংখ্যালঘুকরণ নীতি শুরু করে। সকল শাসকের নীতি জুম্মদের জাতীয় অস্তিত্ব ধ্বংস ও নির্মূলের জন্য গৃহীত হয় কিন্তু অধিকার সচেতন জুম্ম জনগণ বরাবরই শাসকগোষ্ঠীর এসব নীতির বিরোধিতা করে এসেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মদের জাতীয় মুক্তির আন্দোলনের দীর্ঘ সশস্ত্র সংগ্রামে কৃষক-শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ জুম্মরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। জনসংহতি সমিতিকে জনগণ আপন করে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সহযোগিতা দিয়ে পাশে থেকেছেন এবং এখনও নানাভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে জুম্ম জনগণের এই ঐক্যবদ্ধ শক্তিই আমাদের বর্তমান সময়েও অন্যতম দাবিদার।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের মানুষ এখনও সরকারের প্রতি বিশ্বাস রেখে চুক্তি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করে যাচ্ছে। সময় অনেক গড়িয়ে গেছে, আমরা আর অযথা সময় ব্যয় করতে পারিনা। পাহাড়ের মানুষ সংখ্যায় কম হতে পারে, কিন্তু শক্তিতে তাদেরকে কম ভাবা ভুল হবে। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে কোন ছাড় দেওয়া হবেনা। আমাদের এখানে রাষ্টীয় ক্ষমতায় যারা বসে তথা শাসকগোষ্ঠী সুনির্দিষ্ট একটি শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করে চলে। তারা আপনার-আমার, কৃষক-শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থের কথা ভাবে না। বাংলাদেশের আপামর জনমানুষের এখন এজন্যই এতো দুর্দশা। জুম্মদের জাতীয় মুক্তির দীর্ঘস্থায়ী লড়াই-সংগ্রামে নীতির প্রশ্নে কারোর সাথে কোন আপোষ নয় এবং দ্রুত নিষ্পত্তির কৌশলে আমাদের আন্দোলন করে যেতে। ৬০-৭০ দশকের সেসময়কার একতা ফিরিয়ে আনতে হবে, ঐক্য ছাড়া বিকল্প নাই।

নাজমুল হক প্রধান বলেন, একসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিল শান্তিপূর্ণ জনপদ। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিশেষ করে সেখানে সেটেলার বাঙালিদের পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ে অশান্তির সূচনা হয়। বর্তমানে সেই সেটেলার গোষ্ঠীর একটি অংশ পাহাড়কে অস্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বর্তমান প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা হলো ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন। তাই পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারকে দ্রুত চুক্তির সকল ধারা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

ছবি: পিসিপি’র ছাত্র ও জন সমাবেশ উদ্বোধন করেন ঊষাতন তালুকদার

শিশির চাকমা বলেন, পিসিপি দীর্ঘ ৩৭ বছরের সংগ্রামে পাহাড়ি জুম্ম সমাজের মধ্যে আস্থার সঞ্চার করেছে। পিসিপি’র ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে দীর্ঘ সংগ্রামে ত্যাগ-তিতিক্ষার অঙ্গীকার রয়েছে। আগামী দিনেও পিসিপিকেই জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে। উন্নয়নের ফুলঝুড়ি আমাদের শান্তির জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাগুলো একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে জিইয়ে রেখেছে। আমরা বারুদের উপর বসে আসি। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। সংগ্রাম ব্যতীত আমাদের বিকল্প কোনো পথ নেই। ঐক্যবদ্ধ থেকে পিসিপিকে কাজ করে যেতে হবে।

মুক্তা বাড়ৈ বলেন, পিসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে একদিকে যেমন সবার মুখে আনন্দের ছাপ দেখা যাচ্ছে, তেমনি উপস্থিত সবার চোখেমুখে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও স্পষ্ট। পিসিপি যেমন পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে, তেমনি ১৯৯৭ সালে জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিচয় ও অধিকারকে অস্বীকার করা হয়েছে। সংবিধানে কখনো তাদের ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’, আবার কখনো ‘উপজাতি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনের পেছনে একটি উগ্র-গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে তিন পার্বত্য জেলায় আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ থাকলেও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার অভাবে তা আজও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। বরং বিভিন্ন নীতির কারণে তিন পার্বত্য জেলায় আদিবাসীরা নিজেদের ভূমিতেই ক্রমশ সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করতে সকল অস্থায়ী সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি বলে তিনি দাবি জানান।

মাহির শাহরিয়ার রেজা বলেন, বিভিন্ন সরকার পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব সংকটে ঠেলে দিয়েছে। স্বৈরাচারী পতিত সরকার চুক্তি স্বাক্ষর করলেও তাদের বিন্দুমাত্র প্রতিশ্রুতির সততা রক্ষা করেন। বরং পাহাড়ি মানুষের আত্মপরিচয় মুছে দিয়ে উপজাতি বানানোর পায়তারা চালিয়েছে। সংবিধানে সকল জাতির আত্মপরিচয়ের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন পরবর্তী নির্বাচিত সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একজন বাঙালি প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে চুক্তির লঙ্ঘন করেছে। নির্বাচিত সরকার ও চুক্তি বাস্তবায়ন করবেন কিনা সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন পিসিপির জন্মলগ্ন থেকে লড়াই-সংগ্রামে পাশে ছিলো। উভয় সংগঠনের লড়াইয়ের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ছিলো। আগামীতে পাহাড় ও সমতলে শোষিত মানুষের লড়াইয়ে আমরা একসাথে লড়বো।

উলিসিং মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম জনগণের অস্তিত্ব রাষ্ট্রীয় নীতি ও ব্যবস্থার কারণে আজ হুমকির মুখে রয়েছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিবর্তন হলেও ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। বরং উন্নয়নের নামে পার্বত্য অঞ্চলে আদিবাসীদের ভূমি বেদখল করে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে, কিন্তু জুম্ম জনগণের ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও ভূমির প্রশ্নে দৃশ্যমান কোনো ইতিবাচক ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নারীদের আরও গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে নারীদের অংশগ্রহণ জুম্ম জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবে।

এই সময় উক্ত ছাত্র ও জন সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে একটি প্রচারপত্র প্রচারণা করা হয়।

উক্ত প্রচার পত্রে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৯ সালের ৪ঠা মে অধুনা রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার লংগদু উপজেলায় সেনাবাহিনী ও সেটেলার বাঙালিদের কর্তৃক জুম্ম জনগণের উপর সংঘটিত বর্বরোচিত গণহত্যার প্রতিবাদে ১৯৮৯ সালের আজকের এ দিনে জন্ম লাভ করা পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ তার গৌরবময় সংগ্রামের পথচলার ৩৭তম বছরে পদার্পণ করলো। মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নির্দেশিত ‘মানবতাবাদ’কে আদর্শ হিসেবে এবং শিক্ষা, সংহতি, সাম্য, প্রগতি এই চার মূলনীতিকে অন্তরে ধারণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জুম্ম জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ইস্পাত কঠিন পথ অতিক্রম করে হিমালয়ের মত অটল থেকে মুক্তির সংগ্রামে অন্যতম অগ্র সেনানির ভূমিকা পালন করে চলেছে।

আরো বলা হয়, দুই যুগেরও অধিক সশস্ত্র সংগ্রামের পর পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু এখনো পার্বত্য চুক্তির অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধারাসমূহ এখনও অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থানের পরে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সেটলার বাঙালি কর্তৃক জুম্মদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলায় ৭ জন জুম্ম নিহত, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি ঢাকায় আদিবাসী ছাত্র জনতার উপর সেটেলার বাঙালিদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ২০২৪ সালে কেএনএফের ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় আটক ১৪২ জনের মধ্যে ৮০ জনকে মুক্তি দেয়া হলেও এখনও পর্যন্ত ৫৯ জনকে মুক্তি দেয়া হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ২০২৫ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩২ জন জুম্ম নারী ও শিশুর উপর সহিংসতা, ৩০ জন ম্রো শিশুকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরকরণ, বহিরাগত কোম্পানী, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সেটেলার বাঙালি কর্তৃক কমপক্ষে ৩০০ একর ভূমি বেদখল করা হয়েছে। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার গত ১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য জেলা পরিষদকে পাশ কাটিয়ে তিন পার্বত্য জেলার ভূমির খাজনা বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে যা সম্পূর্ণরূপে বেআইনী ও চুক্তি বিরোধী। বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার গঠিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বদৌলতে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দীপেন দেওয়ানকে নিয়োগ করা হলেও উদ্বেগজনকভাবে চুক্তিকে লঙ্ঘন করে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে যা পার্বত্যবাসীকে চরম হতবাক করেছে।

প্রচারপত্রে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণ আজ এক অনিশ্চিত বাস্তবতার মুখোমুখি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যখন নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়, তখন অধিকার আদায়ের জন্য বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হয় যে কোন মুক্তিকামী। পার্বত্য চট্টগ্রামের মুক্তিকামী জুম্ম জনগণ স্বাধিকার-আত্মপরিচয় নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। এজন্য তারা যেকোন ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে সর্বদা প্রস্তুত। আর এই মুক্তিকামী জুম্ম জনগণের অগ্রগামী অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। জুম্ম জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে শাসকগোষ্ঠীর সকল প্রকার ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ তথা জুম্ম ছাত্র সমাজ আজ বদ্ধ পরিকর।

পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ সরকারের কাছে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ তুলে ধরে-

১. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট সময়সূচিভিত্তিক কর্ম পরিকল্পনা ঘোষণা কর।
২. জুম্ম নারীর ওপর সহিংসতার বিচার দ্রুত নিশ্চিতকরণে ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ গঠন কর।
৩. জুম্ম অধ্যুষিত বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণপূর্বক পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে পর্যাপ্ত শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণসহ শিক্ষক সংকট নিরসন কর।
৪. দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জুম্ম জনগণের প্রধান ও বৃহত্তম সামাজিক উপলক্ষে উৎসব পাঁচ দিনের ছুটি চালু কর।
৫. উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ভর্তির ক্ষেত্রে এবং প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকুরিতে আদিবাসীদের জন্য ৫% কোটা চালু কর।