Tuesday, 22 Sep 2026
আদিবাসী অধিকার May 22, 2026

হিউম্যান রাইটস কংগ্রেসের রিপোর্ট: বাংলাদেশে আদিবাসী সহ সংখ্যালঘুদের উপর অব্যাহত নিপীড়ন চলছে

হিল ভয়েস, ২২ মে ২০২৬, বিশেষ প্রতিবেদক: হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিস (HRCBM) বিগত জানুয়ারি-এপ্রিল ২০২৬ মাসের একটি জাতীয় ডকুমেন্টেশন রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, যেখানে বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন হামলায় আদিবাসী সহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অব্যাহতভাবে নিপীড়নের শিকার হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টে বাংলাদেশের ৬২টি জেলায় ও ৮টি বিভাগে সংঘটিত ৫০৫টি ঘটনার তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে হত্যা ও সন্দেহজনক মৃত্যু, শারীরিক আক্রমণ, অপহরণ, যৌন সহিংসতা, মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভূমি বেদখল, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভীতি প্রদর্শন, ধর্মের প্রতি কটাক্ষ সংক্রান্ত নিপীড়ন ইত্যাদি।

এই চার মাসের ডকুমেন্টেশন রিপোর্টটি বাংলাদেশে হিন্দু এবং অন্যান্য ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলিকে প্রভাবিত করছে এমন অব্যাহত মানবাধিকার লংঘন সম্পর্কে হিউম্যান রাইটস কংগ্রেসের সমন্বিত সাম্প্রতিক সিভিল সোসাইটির মূল্যায়নের অন্যতম একটি উপস্থাপনা।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্যসমূহ দিকনির্দেশ করে যে, উপস্থাপিত ঘটনাবলী বিচ্ছিন্ন বা স্থানীয়করণকৃত কোনো ঘটনা নয়, বরং দেশব্যাপী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলিকে প্রভাবিত করছে এমন সহিংসতা, ভীতিপ্রদর্শন, যৌন নিপীড়ন, ভূমি বেদখল, ধর্মীয় আক্রমণ, মব আগ্রাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাদানে ব্যর্থতা’র পুনরাবৃত্ত উদাহরণের প্রতিফলন ঘটায়।

আদিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ঝুঁকির বিষয়ে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তালিকাটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিশেষত পার্বত্য চট্টগ্রামে ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে জাতিগত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সমূহকে প্রভাবিত করছে এমন ঘটনাবলী। এইসব ঘটনাবলীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ভূমি-সংশ্লিষ্ট হামলা, শারীরিক আক্রমণ, হুমকি, রাজনৈতিক ভীতিপ্রদর্শন এবং সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাহীনতা।

এতে আরও বলা হয়েছে, এই উদাহরণ আলাদাভাবে বিবেচনা করা উচিত, কারণ আদিবাসী সম্প্রদায়সমূহ প্রায়ই জাতিগত পরিচয়, ভূমি অধিকার, সামরিকায়ন, স্থানান্তরের চাপ এবং দুর্বল আইনগত সুরক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন স্তরের ঝুঁকির সম্মুখীন হয়ে থাকে।

রিপোর্টের শেষের দিকে বাংলাদেশ সরকার, পুলিশ ও প্রসিকিউশন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ (জাতিসংঘ, ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কমনওয়েল্থ ও কুটনৈতিক মিশনসমূহ) এবং গণমাধ্যম ও ডিজিটাল প্লাটফর্মসমূহ এর নিকট আলাদাভাবে বিভিন্ন সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়।

বাংলাদেশ সরকারের নিকট ‘জানুয়ারি-এপ্রিল ২০২৬ সময়ের মধ্যে ধর্মীয়, জাতিগত ও আদিবাসী সংখ্যালঘুদের প্রভাবিত করেছে এমন সহিংসতা ও নিপীড়নের বিষয়ে একটি স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিটি প্রতিষ্ঠা করা’, ‘হত্যা, সন্দেহজনক মৃত্যু, যৌন সহিংসতা, অপহরণ, মন্দির আক্রমণ, ভূমি বেদখল, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও ভীতিপ্রদর্শন সম্পর্কিত একটি কেন্দ্রীভুত সংখ্যালঘু-অধিকার নিরীক্ষণ ব্যবস্থা সৃষ্টি করা’, ‘সংখ্যালঘুদের ভূমি ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এর জন্য বিশেষ প্রশাসনিক মনিটরিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, বিশেষত যেখানে জাল দলিল, ভীতিপ্রদর্শন, জোরপূর্বক দখল, অথবা আদালতের রায় লংঘনের অভিযোগ রয়েছে’ সহ বিভিন্ন সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়েছে।