Tuesday, 22 Sep 2026
মানবাধিকার May 23, 2026

জার্মান পার্লামেন্টের বম সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি এবং পার্বত্য চুক্তি বিষয়ে আলোচনা ও বিবৃতি

হিল ভয়েস, ২২ মে ২০২৬, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত ২০ মে ২০২৬ জার্মান পার্লামেন্ট বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বম আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও মানবাধিকার ইস্যু এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিষয়ে আলোচনা করেছে এবং একটি বিবৃতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

জার্মানির বুন্ডেসটাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, গত বুধবার (২০ মে) জার্মান বুন্ডেসটাগের মানবাধিকার কমিটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বম আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছে। আলোচনায় বম সম্প্রদায় সামাজিক বৈষম্য, শিক্ষায় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং ঐতিহ্যগত ভূমি ও বসবাসের জায়গা ক্রমশ হারানোর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ফেডারেল ফরেন অফিসের একজন প্রতিনিধি জানান, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই উত্তেজনার সঙ্গে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, বাঙালি বসতিস্থাপনকারী, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী জড়িত। ১৯৯৭ সালে কয়েক দশক ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপক্ষ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু চুক্তিটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

এতে আরও বলা হয়, ফেডারেল ফরেন অফিসের ওই কর্মকর্তা বলেন, শান্তিচুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত ও অপর্যাপ্তভাবে বাস্তবায়িত অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আঞ্চলিক স্বশাসন, প্রত্যাগত শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত আদিবাসীদের পুনর্বাসন এবং ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ। তিনি আরও জানান, সর্বশেষ ইউপিআর অধিবেশনে ডেনমার্কের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমা ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সম্মত হয়েছে। তবে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিচয় ও অধিকার স্বীকৃতির বিষয়ে জার্মানির সুপারিশ বাংলাদেশ সরকার কেবল নোট করেছে, অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ বা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেনি।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ৫৯ জন বম, যাদের মধ্যে ৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক, বিচার ছাড়াই আটক রয়েছেন বলে জানা যায়। অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০২৪ সাল থেকে হেফাজতে তিনটি মৃত্যুর ঘটনাও জানিয়েছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরও অভিযোগ করেছে যে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিজেদের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাঙালি বসতিস্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে সমর্থন দিয়েছে। অনেক আদিবাসী মানুষ তাদের গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন এবং কেউ কেউ দেশও ছেড়েছেন।

বম জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি নিয়ে এই ব্রিফিংয়ের অনুরোধ করেছিল জার্মান পার্লামেন্টের বামপন্থী দল ডি লিংকে।