Tuesday, 22 Sep 2026
আদিবাসী অধিকার May 24, 2026

বিলাইছড়িতে সেটেলার বাঙালি কর্তৃক এক জুম্ম শিক্ষার্থী ধর্ষণ চেষ্টার শিকার

হিল ভয়েস, ২৪ মে ২০২৬, রাঙ্গামাটি: গতকাল শনিবার (২৩ মে) বিকাল ৪ ঘটিকার সময়ে রাঙ্গামাটি জেলাধীন বিলাইছড়ি সদর উপজেলায় হাসপাতাল ঘাট এলাকায় সেটেলার বাঙালি কর্তৃক ৯ম শ্রেণিতে পড়ুয়া (১৫) এক জুম্ম শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার খবর জানা গেছে।

ধর্ষণচেষ্টাকারীর পরিচয়: আব্দুল গফুর শেখ(৬২)। সে দেশের সমতল অঞ্চল হতে এসে বর্তমানে বিলাইছড়ি উপজেলার গাছ কাটা ছড়া নামক এলাকায় বসতিস্থাপনকারী একজন সেটেলার বাঙালি বলে জানা যায়।

সূত্র মোতাবেক, গতকাল বিকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়া শেষে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে রাস্তায় তাকে একা পেয়ে শুরুতে ধর্ষণচেষ্টাকারী আব্দুল গফুর শেখ বিভিন্ন কুৎসিত ও আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করে ডাকতে থাকে। পরে লম্পট গফুরের উদ্দেশ্য ও বিপদ টের পেয়ে স্কুলছাত্রীটি ভয়ে দ্রুত উক্ত স্থান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এই সময় অভিযুক্ত আব্দুল গফুর শেখও তাকে পিছন থেকে ধাওয়া করে। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রীটি মানিক নামে এক দোকানে অবস্থানরত স্থানীয় লোকদের ঘটনার বিষয়ে অবগত করলে অভিযুক্ত সেটেলার আব্দুল গফুর শেখকে দোকানে অবস্থানরত লোকজন তাকে হাতে-নাতে ধরে ফেলে।

স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র মোতাবেক, লোকজন যখন উক্ত অভিযুক্ত সেটেলারকে বিলাইছড়ি থানায় নিয়ে যাচ্ছে তখন গাছকাটা ছড়া সেনা ক্যাম্পের একদল সেনাবাহিনী তাদের সেখানে আটকিয়ে থানায় না নেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রামাচরণ মারমা’র (রাসেল) কাছে নিতে বলে এবং বিচার প্রক্রিয়া সেখানকার বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সর পুরাতন ভবনে সেনাবাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে করার নির্দেশ প্রদান করে।

পরে কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রামাচরণ মারমা’র (রাসেল) নেতৃত্বে কেংড়াছড়ি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার মোহাম্মদ রবিউল, কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার দয়ারঞ্জন চাকমা, ডিজিএফআই, থানার ডিএসবি এবং সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্য উপস্থিতিতে এই বিচার প্রক্রিয়া করা হয়।

সেখানে অভিযুক্ত সেটেলার আব্দুল গফুর শেখের কাছ থেকে একটি মুচলেকা নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না সেই সাথে উক্ত এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত জানিয়ে তাকে বিনা দোষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে এ ব্যপারে চেয়ারম্যান এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। কেউ কেউ মনে করছেন, অভিযুক্ত সেটেলারকে থানায় না নিয়ে এই ধরণের বিচারিক কার্য করার কারণে আসামীরা বিনা দোষে মুক্তি পাচ্ছে। যার কারণে এই ধরণের জনগ্য কাজ করার সাহস পায়।

উল্লেখ্য, কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রামাচরণ মারমা’র (রাসেল) বিগত আওয়ামীলীগ আমলের চেয়ারম্যান। জানা যায়, তিনিই বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনে সেনাবাহিনীর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প করার অনুমতি দেন।