হিল ভয়েস, ২৪ মে ২০২৬, বান্দরবান: বান্দরবান জেলাধীন লামা উপজেলার ৫ নম্বর সরই ইউনিয়নের কেচু হেডম্যান মৌজায় ডুলুঝিড়ি এলাকায় গত শনিবার (২৩ মে) আদিবাসী ম্রো সম্প্রদায়ের ২ একর পৈত্রিক জমি সেটেলার বাঙালি সাম মিয়া কর্তৃক জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর আগে কেচু মৌজার তৎকালীন হেডম্যান (বর্তমান জোহান ত্রিপুরার বাবা) ঐ এলাকায় ‘ফাট্টরি কোম্পানি’ স্থাপনের জন্য প্রায় ১০০ একর জমি বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে কোম্পানির জন্য নির্ধারিত সেই জায়গার বাইরে ম্রোদের অবশিষ্ট ২ একর পৈত্রিক জমিটুকুও এখন জোরপূর্বক বেদখলের চেষ্টা করছে সাম মিয়া নামের এক সেটেলার বাঙালি।
ম্রো সম্প্রদায়ের অভিযোগ, গত শনিবার সেটেলার বাঙালি সাম মিয়া সেখানে নতুন করে রাবার বাগান করার উদ্দেশ্যে ম্রোদের নিজস্ব জমিতে অবৈধভাবে সীমানা পিলার স্থাপন করেন। একই সাথে বেশ কয়েকজন বহিরাগত শ্রমিক নিয়ে এসে জমির গাছপালা কাটা শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ম্রো সম্প্রদায়ের স্থানীয় এলাকাবাসী একতাবদ্ধ হয়ে উক্ত জবরদখলে তীব্র বাধা দেন এবং কাজ বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে জমিতে গাছ কাটার খবর শুনে কেচু বাজার সংলগ্ন ত্রিপুরা পাড়ার এক মুরুব্বি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যান এবং বিষয়টি সামাজিক বা ঐতিহ্যগত নিয়মে মীমাংসা করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভুক্তভোগী ম্রো প্রতিনিধিরা স্থায়ীভাবে এই ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কেচু মৌজার সাবেক হেডম্যান জোহান ত্রিপুরার দ্বারস্থ হন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক হেডম্যান জোহান ত্রিপুরা বিষয়টি সমাধান না করে উল্টো জবরদখলকারী সেটেলার বাঙালিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের ধারণা, জোহান ত্রিপুরা দখলদার চক্রের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে অন্যায়ভাবে এই অবৈধ কাজে নিরবে মদদ দিয়ে যাচ্ছেন।
এই নিয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যিনি আমাদের অধিকার রক্ষা করার কথা তিনিই টাকার বিনিময়ে বহিরাগতদের দালালি করছেন। আমরা নিজেদের জমিতে এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
হিল ভয়েসের অনুসন্ধানী রিপোর্ট অনুযায়ী, জোহান ত্রিপুরা আগে উক্ত মৌজার হেডম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও নানা অনিয়মের কারণে ইতিমধ্যে তার দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও নিজের মৌজার আদিবাসীদের স্বার্থের পরিপন্থী গিয়ে তার এমন বিতর্কিত ভূমিকা এবং সেটেলার বাঙালিদের জবরদখলের চেষ্টায় স্থানীয় ম্রো সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।