Tuesday, 22 Sep 2026
পার্বত্য চট্টগ্রাম May 25, 2026

নাইক্ষ্যংছড়িতে আরসা’র পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে ৩ জুম্ম নিহত

হিল ভয়েস, ২৪ মে ২০২৬, বান্দরবান: আজ রোজ রবিবার (২৪ মে) সকাল ১১ ঘটিকার দিকে বান্দরবান জেলাধীন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়া পাড়ায় তুমব্রু ৪২ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) কর্তৃক পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে তিন জুম্ম গ্রামবাসী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন, ১) চিংক্ষং চাকমা (৪৪), পিতা: ঐমং চাকমা, মাতা: রংমা বোং; ২) চোপোচিং চাকমা (৪৭), পিতা: শুনিঅং চাকমা, মাতা: পেলবি চাকমা; ৩) অংক্যমং তংচংগ্যা (৪৫), পিতা: মৃত নেমং তংচংগ্যা, মাতা: মৃত বাশাচিং তংচংগ্যা। তাদের সকলের বাড়ি বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ২৬৮ নং রেজু মৌজায় ভালুকিয়া পাড়া গ্রামে।

সূত্র মোতাবেক জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জুমের কলাবাগানে দেখতে না যাওয়ায় আজ তারা সকালে সেখানে কাজ করতে যান। এই সময় তারা কলাবাগানে পৌঁছলে অংক্যমং তনচংগ্যা প্রথমে মাইনের বিস্ফোরণের শিকার হন। পরবর্তীতে বাকি দুজন তাকে উদ্ধারের জন্য গেলে তারাও মাইনের বিস্ফোরণের শিকার হন এবং ঘটনাস্থলে তিনজনই নিহত হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সীমান্তবর্তী ঐ অঞ্চলে রোহিঙ্গা জঙ্গী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী (আরসা) সদস্যরা নিয়মিত ভারি অস্ত্রসহ প্রশাসনের নাকের ডগায় চলাচল করে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, বিগত দুই বছরের অধিক সময় ধরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের জুম্মরা নানাভাবে রোহিঙ্গা জঙ্গী সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্তৃক হয়রানি, অপহরণ, মারধর, নির্বিচারে হত্যা, জুম্ম নারীদের ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার মতো জঘন্য ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

হিল ভয়েসের বিভিন্ন রিপোর্ট মোতাবেক, গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ এবং ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ বান্দরবান জেলাধীন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৩ নং ঘুমধুম ইউনিয়নে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কর্তৃক তিনজন তঞ্চঙ্গ্যা গ্রামবাসী মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক এবং অপর দুজনের মধ্যে একজন নারী ও একজন পুরুষ বলে জানা যায়।

গত ৮ অক্টোবর ২০২৫ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড সংলগ্ন গর্জন বনিয়া থেকে সুমন তঞ্চঙ্গ্যা নামে এক জুমচাষীকে এবং গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়া থেকে ওয়ামং তঞ্চঙ্গ্যা নামে আরেক গ্রামবাসীকে অপহরণ করে আরএসও ও আরসা জঙ্গীরা। তাদের এখনো হদিস পাওয়া যায়নি।

গত ১৬ মে ২০২৪ তারিখে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং নাফ নদ ৫ নম্বর স্লুইসগেট এলাকা থেকে ছৈলা মং চাকমা (২৯) ও ক্যমংখো তঞ্চঙ্গ্যা (২৫) নামে দুইজন তঞ্চঙ্গ্যা গ্রামবাসীকে রোহিঙ্গ্যা জঙ্গী গোষ্ঠী কর্তৃক অপহরণ করা হয়। তাদেরও এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এর আগেও গত ১ মার্চ ২০২২ দুপুর আনুমানিক ১২:০০ টার দিকে সুজন তঞ্চঙ্গ্যা নামে এক গ্রামবাসী নিজেদের গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় গরু খুঁজতে যায়। গরু খোঁজার এক পর্যায়ে আরসার পুঁতে রাখা মাইনের হঠাৎ বিস্ফোরণে আঘাতপ্রাপ্ত হলে গুরুতর আহত হন সুজন তঞ্চঙ্গ্যা।