হিল ভয়েস, ২৪ মে ২০২৬, বান্দরবান: বান্দরবান জেলাধীন থানচি উপজেলার থানচি সদর ইউনিয়নে সেটেলার বাঙালি তরুণ কর্তৃক ৫ বছর বয়সী এক আদিবাসী ত্রিপুরা নারী শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ধর্ষকের নাম বিজয় বড়ুয়া (১৬), পিতা-মৃত মফি বড়ুয়া, মাতা-রেখা বড়ুয়া, স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রাম-ক্যামেলিয়া পাড়া, আদুনগর, আমিরাবাদ ইউনিয়ন, থানা-লোহাগাড়া, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমান ঠিকনাঃ নতুন পাড়া (মল্লিকা বড়ুয়ার বাড়ি), থানচি বাজার এলাকা।
ঘটনাটি গতকাল (২৩ মে) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে থানচি বাজার এলাকায় মল্লিকা বড়ুয়ার বাড়িতে ঘটেছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী শিশুটি থানচি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী বলে জানা যায়।

আজ (২৪ মে) ভুক্তভোগীর পিতা এন্দ্রোজয় ত্রিপুরা একা থানচি থানায় গিয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক বিজয় বড়ুয়াকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করলে পুলিশ এক পর্যায়ে বিজয় বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
এন্দ্রোজয় ত্রিপুরার দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল (২৩ মে) সকাল আনুমানিক ১০.০০ ঘটিকার সময় ভুক্তভোগী শিশুটি বাসা থেকে বের হয়ে বাসার পাশের মাঠে অভিযুক্ত বিজয় বড়ুয়ার ভাগ্নি সানু বড়ুয়ার (৭) সাথে খেলাধুলা করার জন্য যায়। খেলাধুলা করার সময় দুপুর আনুমানিক ১২.০০ ঘটিকার সময় অভিযুক্ত বিজয় বড়ুয়া ভুক্তভোগী শিশুটিকে তাদের বাসায় ডেকে নিয়ে শিশুটির পরিহিত প্যান্ট খুলে তাকে ধর্ষণ করে। পরে রাতের বেলায় খাওয়াদাওয়া শেষে আনুমানিক ৯.০০ ঘটিকার সময় ভুক্তভোগী শিশুটি তার মাকে জানায় যে, তার যৌনাঙ্গ ব্যাথা করছে। ব্যাথার কারণ জানতে চাইলে শিশুটি বিজয় বড়ুয়া তাকে ধর্ষণ করেছে তার মাকে জানায়।
আজ দুপুরের দিকে ছাত্র-যুব সমাজ সহ এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পারলে তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর এলাকার জুম্ম ছাত্র-যুবকরা সংঘবদ্ধ হয়ে থানায় যায় এবং ধর্ষণকারীর চেহারা দেখতে চায়। জুম্ম ছাত্র-যুবকদের এই সমাবেশ দেখে সেখানে একদল বিজিবি সদস্য উপস্থিত হয় এবং ছাত্র-যুবকদের ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে বেশ কিছুক্ষণ ছাত্র-যুবক ও বিজিবি সদস্যদের মধ্যে বাকবিতন্ডা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এসময় জুম্ম ছাত্র-যুবকরা বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বিজিবি সদস্যরা ধর্ষকের পক্ষাবলম্বন করছে বলে অভিযোগ তোলে।
একপর্যায়ে বিজিবির জনৈক কমান্ডার ধর্ষণকারীর যথাযথ বিচার হবে বলে আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।
