Tuesday, 22 Sep 2026
আন্তর্জাতিক July 17, 2026

এমরিপের ১৯তম অধিবেশনে ভবিষ্যত কার্যক্রম ও সুপারিশমালার অগ্রগতি বিষয়ে অগাস্টিনা চাকমার বক্তব্য উপস্থাপন

হিল ভয়েস, ১৭ জুলাই ২০২৬, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জাতিসংঘের আদিবাসী অধিকার বিষয়ক এক্সপার্ট মেকানিজমের (এমরিপ) ১৯তম অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধি অগাস্টিনা চাকমা এজেন্ডা আইটেম ১১: “পূর্ববর্তী গবেষণা ও পরামর্শে প্রণীত সুপারিশমালার ধারাবাহিকতা সহ এক্সপার্ট মেকানিজমের ভবিষ্যত কার্যক্রম” বিষয়ে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

এমরিপের ১৯তম অধিবেশনটি শুরু হয় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ অফিসে গত ১৩ জুলাই ২০২৬ এবং শেষ হবে আজ (১৭ জুলাই)।

তার বক্তব্যে অগাস্টিনা চাকমা বলেন, “ঊনত্রিশ বছর আগে বাংলাদেশ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণ একটি শান্তিুচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে বেসামরিকীকরণ, স্বশাসন, ভূমি ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে। ঊনত্রিশ বছর পর, সেগুলো এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

এই বছর এই অপেক্ষা আরও গুরুতর রূপ নিয়েছে। সৈন্যদের প্রত্যাহারের পরিবর্তে সরকার ৩৪টি নতুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের আউটপোস্ট স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে চার শতাধিক অস্থায়ী ক্যাম্প এখনো রয়ে গেছে। এই অঞ্চলটি পার্বত্য চট্টগ্রামের নিজস্ব পরিষদসমূহের মাধ্যমে পরিচালিত হয় না, হচ্ছে বরং “অপারেশন উত্তোরণ” নামক এক সামরিক আদেশের মাধ্যমে, এমন এক পলিসির জন্য যা কেবল বেদখলের জন্ম দিয়েছে। যেখানেই চুক্তি বাস্তবায়ন হয় না, সেখানেই ভূমি বেদখল, হামলা, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ, নারী ও শিশুর উপর সহিংসতা সংঘটিত হয়।

কোথায় ভুল তার আবার নতুন বিবরণ দেওয়া এই মেকানিজমের প্রয়োজন নেই। তার প্রয়োজন সে ইতোমধ্যে তা জানে সে বিষয়ে কাজ করা।

প্রথমত: ২০২২ সালে এমরিপ কর্তৃক পুনর্ঘোষিত, ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত আদিবাসীদের সুরক্ষায় একটি নিবন্ধনস্থান সহ, চুক্তি ও সমঝোতা বিষয়ক বিরোধ সমাধানকল্পে একটি আন্তর্জাতিক মেকানিজমের জন্য আহ্বান। তার রূপ যাই হোক, জুম্মদের মত সমাজসমূহের ক্ষেত্রে তা কার্যকরভাবে উপস্থাপিত হয়নি। আমি নতুন কোনো কাঠামোর কথা বলছি না। আমি মেকানিজমকে একটি দৃশ্যমান ব্যবস্থার অনুরোধ জানাই এবং সেটি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দিয়ে শুরু করে।

দ্বিতীয়ত: বাংলাদেশ এখন তার সার্বজনীন পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা (ইউপিআর) চক্রের মধ্যবর্তী অবস্থানে রয়েছে এবং তার একটি মধ্য-মেয়াদী রিপোর্ট পেশ করার সুযোগ রয়েছে। আমি এটা কাজে লাগানোর জন্য এই পরিষদকে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন: ক্যাম্প প্রত্যাহার, ভূমি কমিশন এবং আঞ্চলিক পরিষদ ও পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাংলাদেশকে চাপ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাই।

আগামী বছর পার্বত্য চুক্তির ত্রিশ বছর। ত্রিশ বছর কোনো বিলম্ব নয়, এটা একটা বেছে নেওয়া বিষয়। জুম্মরা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার জন্য একটি চুক্তি করেনি। তারা মুক্ত হওয়ার জন্যই এই চুক্তি করেছে।”