Tuesday, 22 Sep 2026
পার্বত্য চট্টগ্রাম July 31, 2026

পিসিপির রোয়াংছড়ি থানা শাখার ১৮তম বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্পন্ন

হিল ভয়েস, ৩০ জুলাই ২০২৬, বান্দরবান: “সকল প্রকার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলনে জুম্ম ছাত্র সমাজ অধিকতর সামিল হউন” এই স্লোগানকে সামনে রেখে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রোয়াংছড়ি টাউন হলে পিসিপির রোয়াংছড়ি থানা শাখার ১৮তম বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিলে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বান্দরবান জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক অংশৈ মং মারমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অন্তর চাকমা, পিসিপি বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উশৈহ্লা মারমা প্রমুখ।

এই সময় অংশৈ মং মারমা বলেন, দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন চুক্তি বাস্তবায়ন করেনি এবং বর্তমান বিএনপি সরকার আসতে না আসতে চুক্তি লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। এখানকার অঞ্চল সেনা ছাউনিতে ঘেরা, কিন্তু দেশের অন্যান্য জায়গায় কয়টি আর্মি ক্যাম্প দেখা যায়? অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামের বেলায় অগণিত ক্যাম্প রয়েছে। সামান্য রোয়াংছড়ি উপজেলাতেও প্রত্যক জায়গায় সেনা ক্যাম্প রয়েছে। প্রতিনিয়ত এখানকার মানুষ হয়রানি শিকার হচ্ছে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এইসব শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে তরুণদের রুখে দাঁড়াতে হবে।

অন্তর চাকমা বলেন, এই পাহাড়ের ইতিহাস শোষণ বঞ্চনার ইতিহাস। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরে মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা সংসদে শোষণ বঞ্চনার কথা বলেছিলেন, কিন্তু এই উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদ ইসলামী সম্প্রসারণবাদের শাসকগোষ্ঠী জুম্ম জনগণের দুর্দশার কথা কর্ণপাত করেনি। তারই বিপরীতে জুম্ম জনগণ এম এন লারমার নেতৃত্বে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অধিকারের আদায়ে প্রতিরোধ সংগ্রাম করেছে। যার ফলস্বরূপ বাংলাদেশ শাসকগোষ্ঠী ১৯৯৭সালে জুম্ম জনগণের সাথে চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু আজ ২৯টি বছর অতিক্রম হয়ে গেলেও কোনো সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রণী ভূমিকা রাখেনি। প্রতিনিয়ত এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামে নানাভাবে নিপীড়ন নির্যাতন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের জুম্ম জনগণের মধ্যে যে ঐক্য সংহতি তা বিনষ্ট করতে শাসকগোষ্ঠী নানাভাবে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। ‘ভাগ কর শাসন কর নীতি’ অবলম্বন করে জুম্মদের অস্তিত্বকে বিলুপ্ত করে দেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম্ম অধ্যুষিত অঞ্চল ছিল, সেই জুম্ম অধ্যুষিত অঞ্চলকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে বহিরাগতদের পুনর্বাসন করিয়ে জুম্মদের ভিটা-মাটি বেদখল করা হয়েছে। এছাড়াও কখনো সেনা ক্যাম্প সম্প্রসারণের নামে, কখনো উন্নয়নের নামে জুম্মদের ভূমি বেদখলের চিত্র আমরা এখনো দেখতে পায়। পাহাড়ের ভূমি সমস্যা এখনো বিরাজমান রয়েছে। চুক্তি মোতাবেক ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার কথা থাকলেও ভূমি কমিশনের কোনো কার্যক্রম অগ্রগতি সরকার করেনি। তাই সকল ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলনে এই ছাত্র সমাজকে সামিল হয়ে লড়াই সংগ্রাম বেগবান করতে হবে।

উশৈহ্লা মারমা বলেন, ঔপনিবেশিক শাসনের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসন ব্যবস্থা জারি রেখেছে। এখানে সেনা শাসনের যে তৎপরতা একদিকে উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়া, ইসলামী সম্প্রসারণ, নারী নির্যাতন, ধর্ষণের মতো কার্যক্রম পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসকগোষ্ঠী চলমান রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার আমাদের জুম্মদেরকে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় শাসকগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত জুম্মদের ভূমি বেআইনীভাবে বেদখল করে যাচ্ছে। আরেক দিকে জুম্মদেরকে সংখ্যালঘু থেকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করে জুম্মদের অস্তিত্ব চিরতরে মুছে দেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে।

পরবর্তীতে কাউন্সিল অধিবেশনে মনিলাল তঞ্চঙ্গ্যাকে সভাপতি, চসিংথোয়াই মারমাকে সাধারণ সম্পাদক এবং অংসাপ্রু মারমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট রোয়াংছড়ি থানা শাখা কমিটি গঠন করা হয়। এই সময় নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রেং ইয়ং ম্রো।

সম্মেলনে রোয়াংছড়ি থানা শাখার সভাপতি হ্লামংচিং মারমার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মনিলাল তঞ্চঙ্গ্যার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অংশৈ সাই মারমা।