Tuesday, 22 Sep 2026
Uncategorized @bn August 9, 2026

আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ ১৬ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ

হিল ভয়েস, ৯ আগস্ট ২০২৬, বগুড়া: আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠনসহ ১৬ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ।

গতকাল, শনিবার ৮ আগস্ট দুপুর ১২টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ফিলিমন বাস্কে’র সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রমের সঞ্চালনায় সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খোকন সুইটেন মূর্মূ। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাটোর জেলা সভাপতি রঘুনাথ এক্কা, কোষাধ্যক্ষ মার্টিন মূর্মূ, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রবি সরেন, বগুড়া জেলা সভাপতি সন্তোষ সিং বাবু ও পাবনা জেলা সভাপতি আশিক বানিয়াস। এতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বাসদ বগুড়া জেলা সমন্বয়ক এডভোকেট সাইফুল ইসলাম পল্টু।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত লিখিত বক্তব্যে সমতলের আদিবাসীদের জমি রক্ষা, জবরদখল ও বেহাত হওয়া জমি উদ্ধারে স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন এবং রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭(৮) ধারার যথাযথ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। এছাড়া গাইবান্ধার সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের ১৮৪২.৩০ একর জমি প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেওয়া এবং ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর পুলিশের গুলিতে নিহত তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবি পুনরুল্লেখ করা হয়।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রতিটি জাতিসত্তার মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অন্তত একজন আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি আদিবাসীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও চাকরিতে ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল এবং চা বাগানের শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের পক্ষ থেকে ১৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়:

১. সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন করা।
২. সংবিধানে আদিবাসীদের ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান।
৩. রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৭(৮) ধারার যথাযথ বাস্তবায়ন।
৪. দখলি শর্তে খাস জমি, বসতভিটা, কবরস্থান ও পুকুর আদিবাসীদের নামে বণ্টন করা।
৫. বনায়নের নামে জমি দখল এবং বনবিভাগের দায়ের করা মামলা ও হয়রানি বন্ধ করা।
৬. আদিবাসী এলাকায় যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা ও এনভায়রনমেন্টাল ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (EIA) প্রতিবেদন প্রকাশ করা।
৭. সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের ১৮৪২.৩০ একর জমি প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেওয়া, ৩ সাঁওতাল হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৮. নিজস্ব ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালু এবং আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অন্তত ১ জন আদিবাসী শিক্ষক নিয়োগ।
৯. উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে আদিবাসীদের জন্য ৫% কোটা সংরক্ষণ।
১০. প্রতিটি আদিবাসী অধ্যুষিত জেলায় সাংস্কৃতিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে আদিবাসী জনবল নিয়োগ।
১১. পৃথক আদিবাসী ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন।
১২. জাতীয় সংসদে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে ৪টি সংরক্ষিত আসন এবং ২টি সংরক্ষিত আদিবাসী নারী আসনের বিধান রাখা।
১৩. বাদ পড়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা।
১৪. আদিবাসীদের ওপর সংঘটিত হত্যা, ধর্ষণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
১৫. চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়ন।
১৬. ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রতিশ্রুতিসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের অস্তিত্ব রক্ষা, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য উল্লেখিত দাবিগুলো অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।