হিল ভয়েস, ৯ আগস্ট ২০২৬, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: আদিবাসীদের পরিচয়ের স্বীকৃতি একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আজ রোববার ৯ আগস্ট, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই স্মৃতি হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উদ্যোগে “আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত জ্ঞানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন: জীবন সুরক্ষা ও কল্যাণময় জীবন গঠন” শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে এ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, “বিশ্বব্যাপী বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত জ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম। তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই জ্ঞানকে টিকিয়ে রেখেছে, যা দেশের অমূল্য সম্পদ। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এই জ্ঞানকে সম্মান জানানো এবং আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

সংবিধানের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানে আদিবাসী জনগণের আত্মপরিচয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি বিগত ৫০ বছরেও বদলায়নি। অথচ প্রতিটি জাতির নিজস্ব আত্মপরিচয় নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। আত্মপরিচয় ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় এই ন্যায়সংগত লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।”
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, “আদিবাসীদের জীবন ভূমি ও প্রকৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে সরকারি নীতিমালার কারণে তারা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সমস্যার সমাধানে আমাদের উদার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী ভূমি ব্যবস্থার সংস্কার এবং আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় সরকারের বিশেষ পদক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, চট্টগ্রাম অঞ্চলের শরৎ জ্যোতি চাকমার সভাপতিত্বে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি আদর্শ চাকমার সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন চবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রেনঙি ম্রো।
সভাপতির বক্তব্যে শরৎ জ্যোতি চাকমা বলেন, “আদিবাসীদের বৈষম্য ও অস্তিত্ব সংকটে রেখে বাংলাদেশ কখনো সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হতে পারবে না। পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের বিকাশে সাংবিধানিক স্বীকৃতি জরুরি।”
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষু, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ দক্ষিণ জেলার সভাপতি তাপস হোড় এবং ঐক্য ন্যাপ চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি পাহাড়ী ভট্টাচার্য।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এবং আলোচনা পর্ব শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠী’র আয়োজনে জাতীয় সংগীত, গণসংগীত ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।