হিল ভয়েস, ১৩ আগস্ট ২০২৬, বিশেষ প্রতিনিধি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের ‘বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই’ ও “বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক” এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আদিবাসী ছাত্র পরিষদ। একই সঙ্গে তারা দুই মন্ত্রীর প্রদত্ত বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
গতকাল বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অনিল উরাও সাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে উক্ত প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশ একটি জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বৈচিত্রের দেশ। দেশের সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক এবং সবার জাতীয় পরিচয় ‘বাংলাদেশী’। তবে সমতলের সাঁওতাল, মুন্ডা, ওরাঁও, বেদিয়া, কুর্মি, রাজোয়ার, তুরি, লোহার, মালো, পাহাড়িয়া, গন্ড, ভূমিজ, মাহালী, মুসহর, কোলসহ অন্যান্য সমতল ও পাহাড়ের জাতিসত্তাগুলো যুগ যুগ ধরে নিজেদের পরিচয় হিসেবে ‘আদিবাসী’ শব্দটিকে সামাজিকভাবে ব্যবহার করে আসছে, যা সর্বজনস্বীকৃত।
তারা অভিযোগ করেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্য আদিবাসীদের জাতিগত আত্মপরিচয়কে অস্বীকার করার শামিল। এ ধরনের বক্তব্য দেশে বৈষম্য সৃষ্টি করে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে সংবিধান সংশোধন করে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ১১ আগস্ট ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য আদিবাসী পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ ‘আদিবাসী’ নয়। ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় আমাদের মূল পরিচয় আমরা সকলেই ‘বাংলাদেশী’।” উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘আদিবাসী’ শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক। দুই মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরপরই আদিবাসী সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।