হিল ভয়েস, ১৩ আগস্ট ২০২৬, শেরপুর: শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পূর্ব গজারীকুড়া-বন্দধারা এলাকায় গারো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) কেন্দ্রীয় কমিটি। ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক করে নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ১২ আগস্ট ২০২৬, বিল্লাল হোসেন (৪৫) নামে এক স্থানীয় ধান ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব গজারীকুড়া ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও সহিংসতার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর বাঙালিদের একটি পক্ষ স্থানীয় কয়েকটি গারো পরিবারের বাড়িঘরে হামলা চালায়। অভিযোগ উঠেছে, বেশ কিছু বাড়িতে ভাঙচুর, আসবাবপত্রে অগ্নিসংযোগ এবং গবাদিপশু ও মালামাল লুটপাট করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় আদিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
আজ ১৩ আগস্ট ২০২৬, বাগাছাস কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তির অপরাধের ব্যক্তিগত দায়ভার কখনো পুরো জাতিগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো যায় না। অপরাধের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রচলিত আইনে তার বিচার হতে হবে। কিন্তু পরিচয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নিরীহ আদিবাসীদের সন্দেহ, হয়রানি বা প্রতিহিংসার শিকার করা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে আজ বাগাছাস কেন্দ্রীয় কমিটি, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (TWA) কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশীয় দলসহ বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনের প্রতিনিধিরা শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার জনাব জহিরুল ইসলাম-এর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকে প্রতিনিধি দল পুলিশের কাছে ৮টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরে:
১. ক্ষতিগ্রস্ত ও আতঙ্কগ্রস্ত গারো পরিবারগুলোর দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
২. এলাকায় শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা।
৩. হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা।
৪. প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা।
৫. কোনো নিরীহ ব্যক্তি বা পরিবার যেন ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার না হন।
৬. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব জায়গায় গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ।
৭. স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
৮. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি সহায়তা ও উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
বৈঠকে শেরপুরের পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম প্রতিনিধি দলের বক্তব্য মনোযোগের সঙ্গে শোনেন এবং মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা জোরদার ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করেন।
বিবৃতিতে বাগাছাস সবাইকে শান্ত থাকার এবং দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সত্যতা যাচাই না করে কোনো ছবি, ভিডিও বা গুজব দেখে উত্তেজিত না হওয়ার জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়। আলোচনা, ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই পুরো শেরপুরে দ্রুত সম্প্রীতির পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।