Tuesday, 22 Sep 2026
আদিবাসী অধিকার August 14, 2026

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘আদিবাসী’ সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন

হিল ভয়েস, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ঢাকা: “বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী গোষ্ঠী নেই” বলে সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জগন্নাথ হল শাখা।

গতকাল বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬, এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জগন্নাথ হল শাখার সভাপতি মধুসূদন কর্মকার এবং সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণু পণ্ডিত এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রের একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেয়। এ জাতীয় বক্তব্য দেশে বসবাসরত বিভিন্ন অ-বাঙালি জাতিসত্তার মৌলিক অধিকার এবং পরিচিতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।

ছাত্র ইউনিয়ন নেতারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সকল নাগরিক আইনি অর্থে ‘বাংলাদেশী’ হলেও জাতিগতভাবে সবাই বাঙালি নয়। চাকমা, মারমা, গারো, সাঁওতাল, ওঁরাও, মুন্ডা, ত্রিপুরা ও হাজংসহ বহু জাতিসত্ত্বা যুগ যুগ ধরে এই ভূখণ্ডে বসবাস করে আসছে। আন্তর্জাতিক আইন (যেমন—ILO Convention 169 এবং ২০০৭ সালের UNDRIP-এর Article-3) এর মানদণ্ড অনুযায়ী এ দেশের অ-বাঙালি জাতিগোষ্ঠীগুলোই এই অঞ্চলের আদিবাসী।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১১ই আগস্ট ঢাকায় ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম গবেষণা ফাউন্ডেশন’ (সিএইচআরএফ) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়া ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’ নামের একটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, উক্ত সংগঠনটি গত বছরের ২৫ জানুয়ারি এনসিটিবি (NCTB) ভবনের সামনে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত ছিল। একটি চিহ্নিত ও বিতর্কিত সংগঠনকে সাথে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আদিবাসীদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালিয়েছেন বলে বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতির শেষাংশে বলা হয়, দেশে বসবাসরত সকল আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক ও সামাজিক স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব।