হিল ভয়েস, ২৩ আগস্ট ২০২৬ বান্দরবান: “সকল প্রকার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলনে জুম্ম ছাত্র সমাজ অধিকতর সামিল হউন” এই স্লোগানকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, বান্দরবান লামা থানা শাখার ৮ম সম্মেলন ও কাউন্সিল-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল শনিবার ২২ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৩:০০ ঘটিকায় উক্ত সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে পিসিপির লামা থানা শাখার সভাপতি মংক্যএ মারমার সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি মংএনু মারমার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন থানা শাখার অর্থ সম্পাদক জিসান মারমা।
উক্ত সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির লামা থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন আসাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অন্তর চাকমা, পিসিপি বান্দরবান জেলা শাখার সহ-সভাপতি সাহ্লাউ খেয়াং প্রমুখ।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) লামা থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন আসাম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আজও জুম্ম জনগণ কঠিন অনিশ্চয়তা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছে। চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পরও সরকার তা বাস্তবায়ন না করে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।
লক্ষ্য পূরণে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে হাতিয়ার উল্লেখ করে তিনি জুম্ম জনগণ তথা অবহেলিত, নির্যাতিত, নিপীড়িত একমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রাম তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে পার্টির বৃহত্তর আন্দোলনে ছাত্র ও যুব সমাজকে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অন্তর চাকমা বলেন, উন্নয়নের নামে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বেদখল করা হচ্ছে। লামাতে রাবার প্ল্যান্টেশন ও বিভিন্ন কোম্পানির নামে শত শত একর ভূমি অবৈধভাবে দখল করে নেওয়া হয়েছে। যে ভূমিকে আমরা যুগ যুগ ধরে আগলে রেখেছি সেই ভূমি তারা এখন অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। একদিকে শাসকগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামে ইসলামীকরণের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। যেদিকে যায় উপজাতীয় মুসলিম পাড়া নামে সাইনবোর্ড লাগানো গ্রাম দেখা যায়। অন্যদিকে সচেতনতার অভাবে আমাদের স্বকীয় সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মদের দাসত্বের মতো জীবনে বন্দী রাখা হয়েছে। এই জীবন মেনে নেওয়ার জীবন নয়। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের উপর শাসন-শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতন চালাচ্ছে জুম্ম নারীর উপর ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার মতো ঘটনা সংঘটিত করছে। কিন্তু কোনো ঘটনারও যথাযথভাবে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের প্রক্রিয়া দেখা যায়নি। শাসকগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামে এইভাবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি জিইয়ে রেখেছে। এই দাসত্বের জীবন থেকে মুক্তির জন্য লড়াই সংগ্রাম করতে হবে। যে লড়াই সংগ্রামের সূচনা এম এন লারমারা করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে চুক্তির পূর্বে ২৪বছর সশস্ত্র সংগ্রাম করতে হয়েছে। এই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যে চুক্তির জন্য লড়াই সংগ্রাম হয়েছে সেই চুক্তি ভূলুণ্ঠিত করতে সরকার বিভিন্ন অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র জারি রেখেছে। তাই এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সকল প্রকার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে ছাত্র সমাজকে অধিকতর সংগ্রামে সামিল হতে হবে।
সাহ্লাউ খেয়াং বলেন, বর্তমানে দেখা যায় ছাত্র সমাজ অধিকাংশই রাজনীতি বিমুখ ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন নয়। কিন্তু, জুম্ম জনগণের অধিকার পেতে হলে আমাদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও অধিকার সচেতন হওয়া আবশ্যক। যারা পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাথে যুক্ত হতে চায় তাদেরকে বিভিন্ন হামলা, মামলা, গুম, হত্যা করার প্রবণতা দেখিয়ে শাসকগোষ্ঠী আমাদের ভয়ের সংস্কৃতিকে জিইয়ে রেখেছে। এই ভয় কাটিয়ে উঠে আমাদের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকল্পে ছাত্র সমাজকে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ এযাবৎকাল ধরে জুম্ম জনগণের অধিকার নিশ্চিতকরণে লড়াই সংগ্রাম করে আসছে, এখনো সেই লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে কাউন্সিল অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে মংক্যএ মারমাকে সভাপতি, মংএনু মারমাকে সাধারণ সম্পাদক এবং মংখ্যাসিং মারমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট পিসিপি’র লামা থানা শাখার নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক উশৈহ্লা মারমা।