হিল ভয়েস, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিশেষ প্রতিবেদক: গতকাল (২ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ বাজার হতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক নারীসহ ৯ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী আটক হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
আটককৃতরা নিজেরাই রোহিঙ্গা বলে এবং তারা কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প হতে চলে এসেছেন বলেও স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
এখন কেউ কেউ রোহিঙ্গাদের এই অনুপ্রবেশের সাথে প্রশ্ন তুলছেন- কেউ কি এই রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসছে? একটি পাচারকারী দালাল চক্র কি অর্থের বিনিময়ে এসব করছে?
গতকাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল অভিযান চালিয়ে মাইনী বাজারের মাইনীমুখ লঞ্চঘাট এলাকা থেকে উক্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আটক করে। আটককৃতদের লংগদু থানা পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুসারে, আটককৃতদের নাম- মোঃ সাব্বির, মোঃ নুমাইর, মোঃ শাওন, মোঃ আব্দুল হাফেজ, মোঃ নুরুল আমিন, মোঃ হোসেন, মোঃ তৈয়ব, মোছাম্মদ ছাকিবুন ও মোছাম্মদ তহুরা।
অপর একটি সূত্রে জানা যায়, লংগদুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে আরও কিছু রোহিঙ্গা থাকতে পারে।
সূত্রটি জানায়, উক্ত আটককৃতরা সহ অন্তত ১২ জন ব্যক্তি গতকাল সকালে রাঙ্গামাটি শহর এলাকা থেকে স্পিড বোট ভাড়া করে লংগদুর মাইনীমুখ বাজারে যায়। উক্ত ১২ জনের মধ্যে ৯ জন আটক হলেও বাকী ৩ জন কারা তা জানা যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, বাকী ৩ জন হয় রোহিঙ্গা শরণার্থী, অথবা পাচারকারী দালালচক্রের লোক।
উল্লেখ্য যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশে বাধা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে চলেছে। বিভিন্ন সময় অনুপ্রবেশকালে অনেক রোহিঙ্গা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট আটক হলেও পাচারকারী দালালচক্র ও প্রশাসনের কায়েমি স্বার্থবাদীদের সহায়তায় অনেক রোহিঙ্গা গোপনে বিভিন্ন জায়গায় অনুপ্রবেশ করছে এবং অবস্থান করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিগত কয়েক বছরে শত শত রোহিঙ্গা বান্দরবান সহ তিন পার্বত্য জেলায় অনুপ্রবেশ করেছে বলে দীর্ঘ দিনের অভিযোগ রয়েছে।