হিল ভয়েস, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বান্দরবান: বান্দরবান জেলাধীন রুমা উপজেলার ১নং পাইন্দু ইউনিয়নের তংমক পাড়া গ্রামের এক মারমা কিশোরী (১৫) চার মারমা যুবক কর্তৃক গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।
গণধর্ষণের ঘটনাটি প্রায় ৪/৫ মাস আগে সংঘটিত হলেও মাত্র গত পরশু (১২ সেপ্টেম্বর) তা জনসমক্ষে প্রকাশ পেয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়টি জানার পর, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা গত পরশু (১২ সেপ্টেম্বর) রুমা থানায় গিয়ে এবিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর গতকাল পুলিশ অভিযুক্ত চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত ও গ্রেপ্তারকৃত চার যুবকের নাম- ১. ক্য সিং নু মার্মা, পীং-ক্যহ্লাচিং মারমা, ২. উ হাই মং মার্মা, ৩. সিং হ্লা মার্মা, ৩. উ শৈ নু মার্মা। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪/৫ মাস আগে গ্রামেরই এক নির্জন জায়গায় পেয়ে উক্ত চার যুবক মারমা কিশোরীকে ধর্ষণ করে। প্রথমে ক্য সিং নু মারমা জোর করে একটি গাছের তলায় নিয়ে গিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এরপর উ হাই মং মার্মা ও সিং হ্লা মার্মা পরপর ধর্ষণ করে। সবশেষে ধর্ষণ করে উ শৈ নু মার্মা। উ শৈ নু মার্মা এক ছেলের পিতা বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর ধর্ষকদের হুমকি এবং ভীতি ও লজ্জার কারণে ভুক্তভোগী কিশোরী বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি বলে জানা যায়।
তবে ঘটনার প্রায় ৪ মাস পর উ হাই মং মার্মা ভুক্তভোগী কিশোরীকে একপাতা ট্যাবলেট খেতে দেয় বলে জানা যায়। ওই ট্যাবলেট খাওয়ার পর কিশোরীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। একপর্যায়ে কিশোরীর শারীরিক অবস্থা জানতে পারলে তার বাবা-মা তাকে প্রথমে রুমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে কিশোরীর গর্ভধারণ ও গর্ভপাত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেলে গত ৮ সেপ্টেম্বর কিশোরীর পরিবারের কাছে গণধর্ষণের ঘটনাটি উন্মোচিত হয়। এরপর ঘটনার বিষয়ে আর বিস্তারিত জেনে কিশোরীর বাবা রুমা থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে এলাকার একাধিক মুরুব্বির নিকট জানতে চাওয়া হলে তারা ঘটনাটি সত্য বলে উল্লেখ করেন।