Tuesday, 22 Sep 2026
পার্বত্য চট্টগ্রাম September 19, 2026

বিলাইছড়িতে সেনাবাহিনী কর্তৃক জুম্মর বসতঘর ভাঙার নির্দেশ, জুম্মদের উচ্ছেদ করে পর্যটন ব্যবসার পাঁয়তারা

হিল ভয়েস, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিশেষ প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার ৩নং ফারুয়া ইউনিয়নের তুমপাড়া গ্রামে এক জুম্ম গ্রামবাসীর বসতঘর ভেঙে ফেলা এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় ও গাছবাগান গ্রামে কোনো বাড়ি নির্মাণ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে। সেনাবাহিনী ঐসব এলাকা থেকে জুম্মদের উচ্ছেদ করে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, বিলাইছড়ির ৩নং ফারুয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের তুমপাড়া গ্রামে একটি বসতঘর ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে ২৬ ইসিবি সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর দেওয়া এক নোটিশে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে বাড়িটি ভেঙে ফেলার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বে সড়ক নির্মাণকালে ধসে যাওয়া রাস্তা ভরাটের জন্য ২৬ ইসিবি-র তৎকালীন ওয়ারেন্ট অফিসার রঞ্জন চাকমা পাহাড়িদের জায়গা থেকে মাটি কাটার অনুমতি চান। পরবর্তীতে সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করা যাবে, এমন শর্তে এলাকাবাসী মাটি কাটতে দেন। মাটি কাটার পর সমতল হওয়া জায়গায় পর্যটকদের জন্য কয়েকটি বেঞ্চ বসিয়ে সেনাবাহিনী পরবর্তীতে বাড়ি তৈরির বিষয়ে সম্মতি জানালেও, বর্তমানে ২৬ ইসিবি-র ক্যাপ্টেন ইকবাল উক্ত স্থানকে ‘জিরো পয়েন্ট’ দাবি করে বসতবাড়ি নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তিনি নির্মিত বাড়িটির মালিককে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজ দায়িত্বে বাড়ি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পাঁয়তারা হিসেবেই সেনাবাহিনী তুমপাড়ার উক্ত জায়গা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের দাবি, স্থানীয় জুম্ম জনগণকে নিজ ভূমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।

এদিকে একই উপজেলার গাছবাগান এলাকাতেও বসতবাড়ি নির্মাণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার, ২৬ ইসিবির ক্যাপ্টেন ইকবালের নির্দেশে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আয়ুব ও ওয়ারেন্ট অফিসার সুবেদার নাছিরের উপস্থিতিতে উক্ত এলাকার ১১ জন হেডম্যান, কারবারি, জুরাছড়ির ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার এবং ফারুয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বারকে ক্যাম্পে ডেকে একটি সভা করা হয়। সভায় ক্যাপ্টেন ইকবাল গাছবাগান গ্রামের রাস্তা থেকে ৫০ হাতের মধ্যে কোনো নতুন বাড়িঘর নির্মাণ করা যাবে না এবং ওই সীমার মধ্যে বাড়ি নির্মাণ করা হলে সেনাবাহিনী তা ভেঙে দেবে বলে জানান। সেনাবাহিনীর এমন নির্দেশে গ্রামবাসীদের মধ্যে স্বভূমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

গাছবাগান গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সেনাবাহিনী নির্দেশ দিয়েছে, পুরনো বাড়িগুলো ভাঙলে মেরামত করা যাবে না এবং কোনো নতুন বসতিও স্থাপন করা যাবে না। ওই এলাকায় কোনো মুসলিম জনগোষ্ঠী না থাকা সত্ত্বেও সেখানে মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছবাগান এলাকাটিও ভবিষ্যতে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে। এ কারণে ধীরে ধীরে স্থানীয় জুম্ম জনগণের বসতবাড়ি নির্মাণ বন্ধ করে তাদের নিজস্ব ভূমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

স্থানীয়দের মতে, এটি পাহাড়ি জুম্মদের তাদের নিজস্ব বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদ করে জায়গা দখলের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। নিজেদের জায়গা হারানোর ভয়ে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় জুম্মরা।