হিল ভয়েস, ১০ আগস্ট ২০২৬, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ১নং খাগড়াছড়ি ইউনিয়নের গামারিঢালায় আদালতের রায় উপেক্ষা করে এক জুম্মর পৈত্রিক জমি বেদখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন সেটেলার বাঙালিদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট ২০২৬, শনিবার দিবাগত রাতে গামারিঢালা মৌজার নতুন পাড়ার বাসিন্দা সেটেলার মো. মঈনুল ইসলাম, পিতা: মো. মোজাম্মেল হক; মো. সামাদ, পিতা: শমশের আলী বিশ্বাস ও সাহেরা বেগম, পিতা: মোহাম্মদ শেখ তাঁদের সহযোগীদের নিয়ে জমিটি বেদখলের উদ্দেশ্যে সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করেন। বর্তমানেও তারা সেখানে অবস্থান করে আরও ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, উক্ত জমিটির মূল মালিক কাপ্তাই বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত প্রজা স্বর্গীয় প্যারী মোহন চাকমা। তিনি খাগড়াছড়ি জেলার ২৫৬ নং গামারীঢালা মৌজায় আর.এস খতিয়ান নং- ০৫ এর অধীনে বিভিন্ন দাগে সর্বমোট ৭.৯৫ একর ভূমি বন্দোবস্তি পেয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন। ২০০৩ সালে তাঁর মৃত্যুর পর ওয়ারিশগণ জমিটিতে এজমালি দখলে রয়েছেন। বর্তমানে প্যারী মোহন চাকমার সন্তান ও জমির ওয়ারিশ বৈরী মিত্র চাকমা খাগড়াছড়ি সদরের অপর্ণা চৌধুরী পাড়ায় বসবাস করেন।
ঘটনার পটভূমি পর্যালোচনায় দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা জমিটি বেদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। গত বছরের (২০২৫) ২৬ জুলাই বৈরী মিত্র চাকমা শ্রমিক নিয়ে জমি পরিষ্কার করতে গেলে অভিযুক্ত সেটেলাররা বাধা দেয় এবং বেড়া ভেঙে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এ ঘটনায় জমি বেদখলের আশঙ্কায় গত ২৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে বাদী বৈরী মিত্র চাকমা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলা ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত শেষে বাদীদের নিরঙ্কুশ দখলের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর ভিত্তিতে গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফ মামলাটি নিষ্পত্তি করে বাদী বৈরী মিত্র চাকমার পক্ষে রায় প্রদান করেন। রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, বাদী নালিশী ভূমিতে তাঁর নিরঙ্কুশ ভোগদখল প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় তাঁকে দখলদার সাব্যস্ত করা হলো এবং অন্য কোনো আদালতের ভিন্নরূপ আদেশ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে ওই ভূমিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ (বারিত) করা হলো।
আদালতের এই নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শনিবার মধ্যরাতে আসামিরা জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে ঘর নির্মাণ করে দখলে নেয়।
এ বিষয়ে জমির মালিক পরিবারের সদস্য বাগিশ চাকমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের কাজ বন্ধ রাখতে এবং সেখানে অবস্থান না করতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে পুলিশের নির্দেশ সত্ত্বেও আসামিরা দখল ছাড়েনি।
বাগিশ চাকমা আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আদালতের স্পষ্ট রায় ও পুলিশের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পাশের বিজিতলা আর্মি ক্যাম্পের কাছাকাছি এলাকায় কীভাবে আইন অমান্য করে এই দখলদারিত্ব চলছে, তা উদ্বেগজনক। এলাকাটিতে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে, সেজন্য তিনি অবিলম্বে বেআইনিভাবে নির্মিত ঘর অপসারণ এবং ভূমি বেদখলকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।