হিল ভয়েস, ১১ আগস্ট ২০২৬, বান্দরবান: গতকাল (১০ আগস্ট) বান্দরবান জেলাধীন থানচি উপজেলার বলীপাড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের জনিরাম পাড়া (বটগাছপাড়া) গ্রামের এক কিশোর সহ ৪ নিরীহ গ্রামবাসী সেনাবাহিনীর মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল দুপুর ১২ টার দিকে বান্দরবানের আলীকদম সেনা জোনের সেনাদলের সদস্যরা উক্ত গ্রামবাসীদের হয়রানিমূলক প্রশ্ন করে বিনা অপরাধে অমানবিকভাবে মারধর করে।
মারধরের শিকার গ্রামবাসীরা হলেন- ১. সলোমন ত্রিপুরা (১৮), পীং-মানিঙ্গ ত্রিপুরা; ২. জীবন ত্রিপুরা (১৫), পীং-মানিঙ্গ ত্রিপুরা; ৩. জগদীশ ত্রিপুরা (২১), পীং-নথিচন্দ্র ত্রিপুরা ও ৪. ইলিসাই ত্রিপুরা (২৮), পীং-মৃত আইরা ত্রিপুরা।
প্রহৃতদের মধ্যে জীবন ত্রিপুরা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং গ্রামবাসীরা তাকে চিকিৎসার জন্য আজ (১১ আগস্ট) অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট থেকে আলীকদম সেনা জোন থেকে জোন কমান্ডারের নেতৃত্বে একটি বড় সেনাদল থানচির বলীপাড়া ইউনিয়নের ক্যাচুপাড়া এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করে এবং আশেপাশের এলাকায় টহল অভিযান শুরু করে। উক্ত সেনাদল হতে ২০ জনের একটি সেনাদল গতকাল বলীপাড়া ইউনিয়নের জনিরাম পাড়া (বটগাছ পাড়া) গ্রামে যায়।
উক্ত সেনাদলটি সেনা সদস্যরা উক্ত চার গ্রামবাসীকে তাদের এলাকায় ‘শান্তিবাহিনী আসে কিনা, এখানে থাকে কিনা ইত্যাদি’ নানা হয়রানিমূলক প্রশ্ন জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং এক পর্যায়ে বেদম মারধর করে।
এক পর্যায়ে সেনা সদস্যরা গ্রামে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেশিয় বন্দুকের বাটের একটি খণ্ড খুঁজে পায়। এরপর সেনাসদস্যরা গ্রামবাসীদের বন্দুক থাকলে দিতে বললে, গ্রামবাসীরা বন্যশুকর শিকারের জন্য ব্যবহৃত দুটি দেশিয় ‘গাদা বন্দুক’ সেনাবাহিনীর হাতে দেয়। সেনা সদস্যরা সেই বন্দুকগুলো দেখার পর আবার গ্রামবাসীদের ফেরত দেয়।
এরপর সেনাদলটি প্রহৃত উক্ত চার গ্রামবাসীকে আগামী রবিবার বলীবাজার বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে হাজিরা দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়ে চলে যায়।
বর্তমানেও আলীকদম সেনা জোনের সেনাদলটি ক্যাচুপাড়া গ্রামে অবস্থান করছে এবং জোন কমান্ডার গ্রামবাসীদের ডেকে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞাসাবাদ করে হয়রানি করছেন বলে জানা গেছে। এতে এলাকার গ্রামবাসীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানা গেছে।