হিল ভয়েস, ২৭ জুলাই ২০২৬, রাঙ্গামাটি: আজ (২৭ জুলাই) রাঙ্গামাটি জেলাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়ন এলাকায় সেটেলার বাঙালিদের একটি দল স্থানীয় জুম্মদের ভূমি বেদখলের চেষ্টার সময় জুম্মদের উপর হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এসময় সেটেলার বাঙালিদের হামলায় ধারালো দা’এর আঘাতে খেদারমারা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাবলাখালী এলাকার বাসিন্দা মহেন্দ্র চাকমা (৫৫), পীং-মনোভদ্র চাকমা নামে এক জুম্ম গ্রামবাসী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নিজের ভূমি বেদখলে বাঁধা দিতে গিয়ে মহেন্দ্র চাকমা এই হামলার শিকার হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সোমবার, সকাল ১০:০০ ঘটিকায় বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার সীমান্তবর্তী দক্ষিণ পাবলাখালির স্থানীয় জুম্ম অধিবাসী মহেন্দ্র চাকমা (৫৫), নোবেল চাকমা (৩৪) চিরঞ্জীব চাকমা (৫৫) ও চিজিমুনি চাকমা(৩০)-এর জমি বেদখলের উদ্দেশ্যে লংগদু উপজেলা থেকে মোঃ কুদ্দুস, মোঃ মনির ও মোঃ বেলালের নেতৃত্বে আনুমানিক ১৫ জন সেটেলার বাঙালি জায়গা পরিষ্কার করতে আসে।
বিষয়টি জানতে পেরে মহেন্দ্র চাকমা তৎক্ষণাৎ সেখানে বাঁধা দিতে যান এবং ঐ জায়গা থেকে মোঃ কুদ্দুস ও অন্যান্যদের বাড়িতে চলে যেতে বলেন। কিন্তু কুদ্দুস জায়গাটি দক্ষিণ পাবলাখালি গ্রামের মিটন চাকমা (৩৮), পিতা-মঙ্গল কুমার চাকমা’র কাছ থেকে অনেকদিন আগে নগদ ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছে দাবি করে চলে যেতে অপারগতা জানায়।
অন্যদিকে মিটন চাকমার (বর্তমানে চট্টগ্রামে কোম্পানিতে চাকরি করেন) সাথে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মুঠোফোনে আলাপ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বলেন, এ বিষয়ে আমি কিচ্ছু জানি না।
এ নিয়ে তাদের উভয়পক্ষের মধ্যে বিস্তর বাগবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে মহেন্দ্র চাকমার উপর দা দিয়ে হামলা চালায় সেটেলাররা। পরে আশেপাশের স্থানীয় গ্রামবাসীরা ঘটনাটি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সেটেলারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সেটেলাররা সেখান থেকে পালিয়ে যায় এবং গ্রামবাসীররা মহেন্দ্র চাকমাকে মৃত্যুর হাত থেকে উদ্ধার করে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং স্থানীয় পুলিশ ও আনসার সদস্য এবং লংগদু সেনা জোন থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল সেখানে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, বাঘাইছড়ি এবং লংগদুর উক্ত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভূমি নিয়ে স্থানীয় জুম্ম গ্রামবাসী ও সেটেলারদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পাতাছড়া ক্যাম্প কমান্ডার মেজর হারুনুর রশিদ মির্জা লংগদু উপজেলা সীমান্তবর্তী গ্রাম উত্তর রহমতপুর হইতে গোলটিলা পুলিশ ক্যাম্প বরাবর পশ্চিমে পাশে সেটেলার ও পূর্বে বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন হেদারমারা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাবলাখালী গ্রামটি জুম্মদের জন্য সীমান্ত নির্ধারণ করে দেন। এতদসত্ত্বেও সেটেলাররা সীমানা লঙ্ঘন করে জুম্মদের জায়গা বেদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে বহুদিন ধরে। ফলে প্রায়ই সেটেলার বাঙালিরা জুম্মদের সাথে সংঘর্ষ লিপ্ত হচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দক্ষিণ পাবলাখালি গ্রামের গুটিকয়েকজন ভূমি দালাল সেটেলার বাঙালিদের সাথে যোগসাজস করে গ্রামবাসীদের না জানিয়ে বিনা অনুমতিতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সেটেলারদের কাছে অবৈধভাবে তাদের জমিগুলো বিক্রি করে দিয়েছে। এর ফলে সেখানে জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মূল মালিকদের না জানিয়ে সেটেলারদের নিকট অবৈধভাবে ভূমি বিক্রয়ে জড়িত জুম্মরা হলেন—১। রুমান্তু চাকমা (৪০); ২। লালনজিৎ চাকমা (৪৭); ৩। অনিল বিহারি চাকমা (৬০); ৪। প্রিয় বিকাশ চাকমা (৪৩); ৫। মলিন বিকাশ চাকমা (৩৭); ৬। অর্থ বিকাশ চাকমা (৫২); ৭। সুমন চাকমা (৫৮); ৮। বিপ্লব জয় চাকমা (৪৫); ৯। রিন্টু চাকমা (২৬); ১০। কালিজয় চাকমা (৩৭); ১১। আদর বিজয় চাকমা (৪৫); ১২। রূপায়ন চাকমা; ১৩। সমীরণ চাকমা(৬৫); ১৪। প্রেম কুমার (৩৫); ১৫। শান্তি বিকাশ চাকমা (৬৫); ১৬। প্রেমান্টু চাকমা (৩৭); ১৭। প্রীতিময় চাকমা (৪২); ১৮। তরুণ কান্তি চাকমা(৬৫); ১৯। গুল চোগা চাকমা (৪০); ২০। সুশান্তি চাকমা (৬০); ২১। যতিন বিকাশ চাকমা (৬৩); ২২। নান্টু বিকাশ চাকমা (৪০)।