Tuesday, 22 Sep 2026
পার্বত্য চট্টগ্রাম August 2, 2026

বান্দরবানে হামে আক্রান্ত রোগীদের দেখতে হাসপাতালে জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধি দল

হিল ভয়েস, ২ আগস্ট ২০২৬, বান্দরবান: আজ (২ আগস্ট) রবিবার সকাল ৯ টার দিকে বান্দরবানে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের দেখতে বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে গিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির একটি প্রতিনিধি দল।

জনসংহতি সমিতির বান্দরবান জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য মেঞোচিং মারমা এই দলের নেতৃত্ব দেন। এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন থোয়াইক্যজাই চাক, থুইমংপ্রু মারমা, যীরমিয় ত্রিপুরা, তিংক্য খুমী, রেংয়ং ম্রো, ফিলিপ খিয়াং, সুশীল বিকাশ চাকমা ও মংশৈ কার্বারী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিনিধি দল হাসপাতালে পৌঁছে একে একে রোগীদের স্বাস্থ্য চিকিৎসার খোঁজ নেন। রোগীদের নানা সমস্যা এবং হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার নানা ঘাটতির দিকগুলি আলোচনায় উঠে আসে।

রোগীদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নেয়ার পর প্রতিনিধি দলটি জেলা সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন এর সাথে রোগীদের নানা সমস্যা বিষয়ে কথা বলেন। এসময় হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: তৌহিদ ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য (স্বাস্থ্য বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা: সানাইপ্রু ত্রিপুরা উপস্থিত ছিলেন।

জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধি দলটি বান্দরবান পার্বত্য জেলার সকল উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অ্যাম্বুলেন্স সুনিশ্চিত করার পরামর্শ দেয়। হাম রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় যাবতীয় সকল ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়। হাম রোগীদের অভিভাবকদের বিনামূল্যে খাবার প্রদান করারও পরামর্শ দেয়া হয়।

এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে টিকা প্রদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের সময়মত টিকা প্রদান সুনিশ্চিত করারও কথা বলে প্রতিনিধি দলটি। পাশাপাশি বান্দরবান সদর হাসপাতালে নির্মিত নতুন ভবন দ্রুত চালু করার পরামর্শ দেয়া হয়। রোগীরা বিরক্ত হয় এমন পরিস্থিতি এড়াতে সেদিকে নজর দিতে বলা হয়। প্রয়োজনে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য জেলা পরিষদ পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিতে পারে বলেও প্রতিনিধি দলটি মন্তব্য করে।

উল্লেখ্য, বান্দরবানে ডায়রিয়া প্রাদুর্ভাবের পর চলতি বছরে মার্চ মাস থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন হামে আক্রান্ত হয়। তন্মধ্যে রুমা থেকে ৯ শিশু এবং আলীকদমে ১৩ জন হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আক্রান্ত হওয়া অধিকাংশ অঞ্চল দুর্গম এবং সেখানে ম্রো ও খুমী জনগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। এছাড়াও কিছু খিয়াং, বম, ত্রিপুরা, মারমা ও তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীরও রয়েছে।