Tuesday, 22 Sep 2026
মানবাধিকার April 29, 2026

রামুর বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধমূর্তিসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ

হিল ভয়েসে, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, কক্সবাজার: গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ রাত আনুমানিক ১:৩০ ঘটিকার সময়ে কক্সবাজার জেলাধীন রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে উত্তর মিঠাছড়ি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ১০০ ফুট বৌদ্ধ বিহার নামে পরিচিত একটি প্রসিদ্ধ বৌদ্ধ বিহার থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তি কর্তৃক বুদ্ধমূর্তিসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ঘটনার রাতে বিহারের ঘুমে যখন সবাই আচ্ছন্ন ছিল তখন অজ্ঞাত ব্যক্তি/ব্যক্তিগণ কর্তৃক বিহারের মূল ভবনে ঢুকে বুদ্ধমূর্তির কপালে থাকা স্বর্ণের টিপ (স্বর্ণের তিলক), ৭ ফুট উচ্চতার একটি পিতলের বুদ্ধমূর্তি এবং কল্পতরু বা টাকার গাছ থেকে নগদ অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় বিহারে বিদ্যুৎ না থাকায় সহজে চোর/চোরেরা ভবনে ঢুকে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই সময় বিহারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অজ্ঞাত ঐ ব্যক্তি বিহারের গ্রিল দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে এই কর্মকান্ড চালায় এবং চুরি করার পর চলে যাবার সময় বিদ্যুৎ আসায় চুরির কিছু দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়।

আরো জানা যায়, ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও টেকনাফে ১২টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৫০টিরও বেশি বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটনার পর উক্ত বিহার সহ বেশ কয়েকটি বিহারে নিরাপত্তার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৪ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে এবং তাদের থাকার জন্য আলাদা আবাসনও রয়েছে। কিন্তু দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে এই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি মত প্রকাশ করেন।

উক্ত ঘটনার পরপরই রামু থানা পুলিশ ১০০ ফুট বৌদ্ধ বিহারে পরিদর্শনে যান। এই ঘটনায় বিহারের পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সীপন বড়ুয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এই পর্যন্ত এখনো কাউকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে জানা যায়।

এর আগেও রামুতে বিভিন্ন সময়ে বৌদ্ধ বিহারে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং নতুন করে বৌদ্ধ বিহারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।