হিল ভয়েস, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বান্দরবান: জুম্ম জাতীয় জাগরণের অগ্রদূত মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এম এন লারমা)-এর ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি), রোয়াংছড়ি থানা শাখার উদ্যোগে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংগঠনের রোয়াংছড়ি থানা শাখার সহ-সভাপতি অংশৈসাই মার্মার সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অংসাপ্রু মার্মার সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক চসিংথোয়াই মার্মা।
স্বাগত বক্তব্যে চসিংথোয়াই মার্মা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগণের আত্মপরিচয়, ভূমি, অধিকার, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ও অস্তিত্বের প্রশ্নে এম এন লারমার রাজনৈতিক ভূমিকা আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৬০-এর দশকে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে বিপুলসংখ্যক পাহাড়ি মানুষের বাস্তুচ্যুতি ও ভূমি হারানোর ঘটনা এম এন লারমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তিনি ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ এবং ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নকালে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র জাতিসত্তা ও পরিচয়ের বিষয়টি উপেক্ষিত হওয়ায় তিনি গণপরিষদ থেকে ওয়াকআউট করেন এবং সংবিধানে স্বাক্ষর করেননি, যা পাহাড়িদের আত্মপরিচয়ের লড়াইয়ে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।
স্মরণসভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস), রোয়াংছড়ি থানা শাখার সাবেক সভাপতি মঙ্গলসেন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, এম এন লারমার জীবন, রাজনৈতিক দর্শন ও সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর চিন্তা ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে পাহাড়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব রক্ষায় তরুণ সমাজকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
স্মরণসভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রোয়াংছড়ি থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক তিতু তঞ্চঙ্গ্যাসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও ছাত্র-যুব প্রতিনিধিরা। পরিশেষে সভাপতি অংশৈসাই মার্মার সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে স্মরণসভার সমাপ্তি ঘটে।