Tuesday, 22 Sep 2026
পার্বত্য চট্টগ্রাম August 19, 2026

সাজেকের তালছড়া স্কুলে পিসিপি’র নেতৃত্বে স্কুলব্যাগ বিতরণ, স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়

হিল ভয়েস, ‎১৮ আগস্ট ২০২৬, রাঙ্গামাটি: রাঙ্গামাটি জেলাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের তালছড়াতে ‎পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) বাঘাইছড়ি থানা শাখার উদ্যোগে ঢেবাছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলব্যাগ বিতরণ এবং স্থানীয় অভিভাবক, কার্বারি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎আজ ১৮ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার সকাল ৯.৩০ ঘটিকায় তালছড়া এলাকায় স্কুলব্যাগ বিতরণ ও মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

‎মতবিনিময় সভায় সঞ্চালনা ও স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ বাঘাইছড়ি থানা শাখার সহ-সভাপতি উদ্দীপন চাকমা এবং সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি চিবরন চাকমা। এছাড়া সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বাঘাইছড়ি থানা কমিটির সভাপতি পুলকজ্যোতি চাকমা, সংগঠনটির ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক বিপর্শী চাকমা ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুপেশ চাকমা প্রমূখ।

‎সাজেকের ঢেবাছড়ি বেসর: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পিসিপি’র নেতৃত্বে ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলব্যাগ বিতরণ

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় কার্বারি বিশ্বময় চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের বাঘাইছড়ি থানা শাখা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বাঘাইছড়ি থানা কমিটির আকস্মিক সফরে আমরা ঢেবাছড়ি ও তালছড়া এলাকাবাসী অত্যন্ত আনন্দিত এবং কৃতজ্ঞ।

‎তিনি আরও বলেন, বাঘাইছড়ির অন্যান্য ইউনিয়নের চাইতে বিশেষভাবে শিক্ষার দিক দিয়ে সাজেকবাসী অত্যন্ত পিছিয়ে। রাস্তাঘাটের যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও জায়গাগুলোর মধ্যে দূরত্ব বেশি হওয়ায় অনেকেই আমাদের মত স্কুলগুলোকে সেভাবে গুরুত্ব দিতে চান না। ‎তবে পিসিপি ও পার্টির শিক্ষার ব্যাপারে বর্তমানে যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে তাতে আমরা খুব আশাবাদী।

‎ঢেবাছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দিলীপ কান্তি চাকমা বলেন, ২০২৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে আমরা ঢেবাছড়ি স্কুলের একটি টীম সাক্ষাৎ করি, তিনি সেদিন আমাদের কথাগুলো খুব মন দিয়ে শুনেছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে স্যারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এখানে একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সরকার পতনের সাথে সাথে সেটির কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে যায়। তবে বর্তমানে জেলা পরিষদ থেকে পুনরায় সেটা অনুমোদন হওয়াতে নতুন করে গ্রামবাসীদের মনে আবারও আশার সঞ্চার ঘটেছে বলে তিনি জানান।

‎‎তালছড়া গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে উদয়রবি চাকমা বলেন, আমাদের স্কুলে মোট ৪ জন শিক্ষক থাকলেও প্রধান শিক্ষক মেম্পি চাকমা ও সহকারী শিক্ষক পিয়াসা চাকমা অনিয়মিত হওয়াতে বর্তমানে আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষকের প্রবল সংকট চলছে।

‎তিনি আরও বলেন, গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে আমাদের সন্তানদের পড়াশোনায় নানা ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। বর্তমানে এখানে বিদ্যুৎ-সংযোগ স্থাপন করা বেশ দুরূহ হওয়ায় বিদ্যালয়ে যদি সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার ক্ষেত্রে অনেক বেশি উপকৃত হবে।

‎খাগড়াছড়ি গ্রামের কার্বারি সত্যরঞ্জন চাকমা বলেন, ঢেবাছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান সংকট হলো সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকা। ফলে মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। তাই বিদ্যালয়ে একটি টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করা গেলে শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই উপকার হবে।

‎পিসিজেএসএস’র বাঘাইছড়ি থানা কমিটির সভাপতি পুলকজ্যোতি চাকমা বলেন, আমরা পিছিয়ে পড়া নয়, আমাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। প্রকৃত অর্থে জুম্মরা পিছিয়ে থাকা জাতি নয়।

‎তিনি বলেন, শিক্ষার ব্যাপারে রাষ্ট্রযন্ত্রের আন্তরিক স্বদিচ্ছার পাশাপাশি আমাদের স্থানীয় জুম্মদের থেকে  যারা আজকে শিক্ষকতা নামক মহৎ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন, তাদেরকেও আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। পাহাড়ে শিক্ষকতাকে তাদের পেশা হিসেবে না দেখে সেবা হিসেবে দেখতে হবে। ‎তিনি আরও বলেন, আজকে আপনারা যে অসুবিধার কথা আমাদের শোনালেন, আমরা কথা দিচ্ছি সেটা সুবিধা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।

‎পুলকজ্যোতি চাকমা আরও বলেন, সাজেকের তালছড়ার মত গ্রামাঞ্চলগুলোতে অল্প লেখাপড়া শিখে ঝরে পড়ার প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যায়। এ ব্যাপারে আমাদের অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। লেখাপড়ার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে আমাদের। যদি লেখাপড়া না জানেন, না বুঝেন তাহলে ঠকবেন। পদে পদে আপনাদের ঠকানো হবে।

‎সবশেষে মতবিনিময় সভার সভাপতি চিবরন চাকমার ‎সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পরে বিদ্যালয়ের ৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুলব্যাগ বিতরণ করা হয়।