Tuesday, 22 Sep 2026
সংখ্যালঘু July 19, 2026

হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের আশু মুক্তির দাবিতে ঢাকায় ঐক্য পরিষদের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

হিল ভয়েস, ১৯ জুলাই ২০২৬, ঢাকা: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ কালী মন্দির চত্বরে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী। কথিত অর্থপাচারের মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাঁর আশু মুক্তির দাবিতে গতকাল ১৮ জুলাই, শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে এক বিশাল সমাবেশ ও প্রতিবাদ সভা করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিলও বের করা হয়।

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহার পরিচালনায় উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।

সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ১২ জুলাই ২০২৬ রাতে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও অগ্রহণযোগ্য। বেশ কিছুকাল যাবৎ একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক মহল এই মূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা করে আসছে এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে দেশজুড়ে অহেতুক ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির অবসানে সেই উগ্র মহলের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। উল্টো সাম্প্রদায়িক হুমকির শিকার হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের নির্লজ্জতম পরিপন্থী।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, হরিদাস চন্দ্র তরুনী কেবল মন্দিরে দেব-দেবীর বিগ্রহ নির্মাণই নয়, বরং সেখানে বৃদ্ধাশ্রম, চিকিৎসাকেন্দ্রসহ নানান জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে মানবিক কাজের সাথে জড়িত ছিলেন।

সমাবেশে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলাদেশের সকল সম্প্রদায় সমান অধিকার ভোগ করবে এবং কারো প্রতি বৈষম্য করা হবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, নির্বাচন-পরবর্তী গত চার মাসে পত্রপত্রিকায় প্রায় দুইশতটি সাম্প্রদায়িক ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, ধর্ষণ, মন্দিরে হামলা, আদিবাসীদের উপর হামলা এবং কথিত ধর্ম অবমাননার নামে গ্রেপ্তারের মতো হিংসাত্মক ঘটনা রয়েছে। অথচ, এর একটিরও দোষীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হয়নি।

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এ্যাড. সুব্রত চৌধুরী, মনীন্দ্র কুমার নাথ, অজয় চক্রবর্তী, রবীন্দ্রনাথ বসু, হেমন্ত আই কোরাইড়া, অতুল চন্দ্র মণ্ডল, কৃষ্ণ দাস, মঞ্জু রানী প্রামানিক, সজীব সরকার, এ্যাডভোকেট মিন্টু দাস, নির্মল চন্দ্র, মনোরঞ্জন রায়, পার্বতী রানী দাস ও স্মরণ সাহা প্রমুখ।

এছাড়াও সমাবেশে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন মিলন কান্তি দত্ত, অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, প্রদীপ দাস, রমেন মণ্ডল, এ্যাড. দিপংকর ঘোষ, সুখেন্দু শেখর বৈদ্য, ব্রজ গোপাল দেবনাথ, এ্যাড. কিশোর কুমার রায় চৌধুরী পিন্টু, প্রাণতোষ আচার্য্য শিবু, এ্যাড. অপূর্ব ভট্টাচার্য্য, এ্যাড. তপু গোপাল ঘোষ, সুবীর চক্রবর্তী, বিপ্লব দে, উজ্জ্বল দত্ত, এ্যাড. তপন কুমার চক্রবর্তী, তাপস কুণ্ড, গিরিধারি সাহা, মি. থিওফিল রোজারিও, মি. ভিক্টর রে, বিশ্বম্ভর কুমার নাথ, লক্ষীকান্ত কর্মকার ও অমল কৃষ্ণ সাহাসহ সংগঠনের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানানো হয়।