হিল ভয়েস, ২৯ আগস্ট ২০২৬, রাজশাহী: আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি মালিকানা, অধিকার সুরক্ষা, মাতৃভাষায় শিক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবিতে রাজশাহীতে এক সমন্বিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১১টায় নগরীর ‘এস ফুড’ রেস্টুরেন্টে এ সভার আয়োজন করা হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘এলআরডি’ (ALRD), ‘রুলফাও’ (RULFAO), ‘এসকেএস’ (SKS) ও ‘মাসাউস’ (MAASAUS)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রুলফাও-এর নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সামাজিক কল্যাণ সংস্থা এসকেএস (SKS)-এর নির্বাহী পরিচালক সম্রাট রায়হান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা অফিসার মো. আব্দুল মমিন। সভায় বক্তব্য দেন বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার নির্বাহী পরিচালক ফয়জুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের রাজশাহী জেলা সভাপতি কল্পনা রায়, আসুস নির্বাহী পরিচালক রাজকুমার শাউ পরিবর্তনের নির্বাহী পরিচালক মো. রাশেদ রিপন, বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম, বেলার বিভাগীয় সমন্বয়ক তন্ময় কুমার সান্যাল, দিনের আলো হিজরা সংঘের সভাপতি মিস মোহনা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাবিত্রী হেমব্রম, আদিবাসী যুব পরিষদ রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি উপেন রবিদাস, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমানসহ সহ বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি কলেজের প্রতিনিধিবৃন্দ আদিবাসী উন্নয়ন ও অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় উপস্থিত বক্তারা বরেন্দ্র ও সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের বিদ্যমান নানা সংকট তুলে ধরে বলেন, আদিবাসীদের ভূমির মালিকানা রক্ষা, অবৈধ দখলদারিত্ব ও উচ্ছেদ বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আদিবাসী শিশুদের নিজস্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে হবে এবং তাদের ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল যেন প্রান্তিক আদিবাসীদের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভাতা ও সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা সুষমভাবে বণ্টনের দাবি জানানো হয়।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে আফজাল হোসেন বলেন, আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা ও মূলস্রোতের উন্নয়নে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ।
সভা শেষে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার ও ভূমি-শিক্ষা সংকটের টেকসই সমাধানে ভবিষ্যতে আরও জোরালো ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।