হিল ভয়েস, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ঢাকা: আদিবাসী পরিচয়কে অপ্রাসঙ্গিক ও বাংলাদেশে কোনো ‘আদিবাসী’ গোষ্ঠী নেই মর্মে সরকারের দুই মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যকে ‘ইতিহাস ও বাস্তবতা বিবর্জিত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছে ২৫টি আদিবাসী ছাত্র, যুব, নারী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। একই সঙ্গে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ ৪ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
আজ ১৩ আগস্ট ২০২৬, প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো এ প্রতিবাদ জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১১ আগস্ট ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আদিবাসী পরিচয় নিয়ে যেসব মন্তব্য করেছেন, তা দেশের প্রায় ৫০টিরও বেশি জাতিগোষ্ঠীকে ক্রমাগত প্রান্তিকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ একটি বহু জাতি, বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির দেশ। মহান মুক্তিযুদ্ধে আদিবাসীদের বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে কোনো সরকারই তাদের ন্যায্য অধিকার দেয়নি। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এমন একরৈখিক বক্তব্য আদিবাসীদের অস্তিত্বকেই সংকটাপন্ন করে তুলছে।”
২০০৭ সালের জাতিসংঘ আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্রের কথা উল্লেখ করে এতে বলা হয়, তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশ এতে অনুস্বাক্ষর না করলেও একটি দায়িত্বশীল সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে এই ঘোষণা মানা নৈতিক দায়িত্ব। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ব দরবারে নিজেদের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রমাণ করতে অন্যান্য দেশগুলো যেখানে পরবর্তীতে এটি মেনে নিয়েছে, বাংলাদেশেরও সে পথেই হাঁটা উচিত ছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আদিবাসীদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে বিকাশের সুযোগ না দিয়ে ‘মূলধারার’ সাথে একীভূতকরণের যে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, তা বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার ‘রেইনবো-নেশন’ ধারণার সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ।
সংগঠনগুলোর চার দফা দাবি হলো:
১. বাংলাদেশের আদিবাসীদেরকে আদিবাসী হিসেবেই সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে।
২. আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারসহ তাঁদের ভ‚মি, ভূখন্ড ও প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৩. আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জ্ঞান সংরক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ, সুরক্ষা ও বিকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৪. আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্র-২০০৭ বাস্তবায়ন করতে হবে।
যৌথ এই বিবৃতিতে বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস্ কাউন্সিল; ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরাম, বাংলাদেশ; বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফোরাম; বম স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন; বাংলাদেশ ম্রো স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন; বাংলাদেশ খুমী স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন; বাংলাদেশ খেয়াং স্টুডেন্টস ইউনিয়ন; বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন( বাগাছাস); বাংলাদেশ গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন (জিএসএফ; বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠন (বাহাছাস); বাংলাদেশ মাহাতো আদিবাসী ছাত্র সংগঠন); হাজং স্টুডেন্ট কাউন্সিল (হাসুক); বাংলাদেশ গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (গাসু); খাসি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন; হিল উইমেন্স ফেডারেশন; পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ; বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ; বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরাম; বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ; আরফি, জাহাঙ্গীরনগর; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুম্ম শিক্ষার্থী পরিবার; ইন্ডিজিনাস স্টুডেস্টস ইউনিয়ন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়; ইন্ডিজিনাস স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন ও এসোশিয়েশন অফ ইন্ডিজিনাস স্টুডেন্টস, সাস্টসহ মোট উক্ত ২৫টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্বাক্ষর করেন।