Tuesday, 22 Sep 2026
আদিবাসী অধিকার April 22, 2026

আলীকদমে ম্রো সম্প্রদায়ের বাড়িতে ডাকাতি, লুটপাট, এক জনকে অপহরণ, পরে মুক্তি

হিল ভয়েস, ২১ এপ্রিল ২০২৬, বান্দরবান: গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত ৯ ঘটিকায় বান্দরবান জেলাধীন আলীকদম উপজেলার ৩নং নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে ছাইয়া ম্রো কারবারি পাড়া গ্রামে দুই ম্রো গ্রামবাসীর বাড়িতে ১৭-১৮ জনের অধিক একটি ডাকাত দল কর্তৃক লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে। ঘটনায় কাইখ্যং ম্রো নামে গ্রামের একজনকে অপহরণ করা হয় বলেও জানা যায়।

ডাকাতির শিকার বাড়ির মালিকরা হলেন- দেমুয়াই ম্রো কার্বারি (৪৫), পিতা: মৃত বংঙ্গু ম্রো, মাতা: তিনদং ম্রো (৬২) এবং দেমুয়াই ম্রো’র আপন ছোট ভাই রেনওয়াই ম্রো (৩৩)। রেনওয়াই ম্রো ৩নং নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার বলে জানা গেছে।


জানা যায়, দেমুয়াই ম্রো’র বাড়ির পাশে তার আপন ছোট ভাই রেনওয়াই ম্রো পাশাপাশি বসবাস করেন।

গতকাল রাত ৯ ঘটিকায় ১৭-১৮ জনের অধিক একটি ডাকাত দল কর্তৃক (যেখানে ম্রো, ত্রিপুরা, মারমা এবং বাঙালিও ছিল) দুই ভাইয়ের বাড়িতে লুটপাট করে। এই সময় দেমুয়াই ম্রো কার্বারির বাড়ি থেকে রুপা ৫০০ পিস যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা এবং রেনওয়াই ম্রো থেকে তার বড় ভাই দেমুয়াই ম্রো দেওয়া ৭০ হাজার টাকা নগদ লুট করে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। ডাকাতরা যাওয়ার সময় দেমুয়াই ম্রো কার্বারির এক আত্মীয় কাইখ্যং ম্রো নামে একজনকে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি বর্ডার এলাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ডাকাতদের হাতে ভারী অস্ত্র ছিল বলেও খবর পাওয়া গেছে।

আরো জানা যায়, লুটপাটের সময় দেমুয়াই ম্রো ও তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। বাড়িতে ছিল শুধুমাত্র তাদের ছেলে-মেয়ে। যার কারণে ডাকাতরা তাদের ছেলে-মেয়েদের জিম্মি করে বাড়িতে লুটপাট চালায়।

গ্রামবাসীদের ভাষ্য মতে, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা ক্ষোভের জায়গা থেকে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে।

আরো জানা যায়, পাড়াতে এই দেমুয়াই ম্রো’র চেয়ে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবার ছিল। তাদের ডাকাতি না করে দেমুয়াই ম্রো কার্বারি এবং রেনওয়াই ম্রো বাড়িতে কেন ডাকাতি হয়েছে সেটি নিয়ে গ্রামবাসীর মনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ বিকেলের দিকে ভুক্তভোগীর বাড়িতে আলীকদম জোন থেকে সেনাবাহিনীর একদল গিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সেখানে রুপা ৫০০ পিস (যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা) পাশাপাশি রেনওয়াই ম্রো’র বড় ভাই দেমুয়াই ম্রো দেওয়া ৭০ হাজার টাকা নগদ লুট হওয়ার খবর জানানো হলেও তারা বিশ্বাস করেনি বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় থানায় এখনো মামলা দায়ের করা হয়নি।