মিতুল চাকমা বিশাল
সর্বপ্রথমে ইউপিডিএফ-কে এটা স্মরণ করে দেওয়া যথোপযুক্ত হবে যে, “দাবিনামা” এবং “চুক্তি” দুটি সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস। অতএব, তারা যে প্রচার-প্রসার করে জনগণের সাথে শব্দের রাজনীতির বৃথাচর্চা করছে, সেসবের বাস্তবিক কোনো ভিত্তিই নেই। সহজ কথায় “দাবিনামা” বলতে কোনো কিছু দাবি করা বা চাওয়াটাকে বোঝায়। অর্থাৎ আমি কারো কাছ থেকে কোনো কিছু চাই, যেটা আমার পাওয়া উচিত। কিন্তু যার কাছ থেকে আমি চাইবো, ঐ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সেটা আমাকে দিতে বাধ্য নন। আরো সহজভাবে বললে, আমি যেকোনো কিছুই দাবি করতে পারি, কিন্তু কতটুকু পাবো তার কোনো গ্যারান্টি বা বাধ্যবাধকতা নেই। বিপরীতে “চুক্তি” হচ্ছে সমঝোতা। দুটি পরস্পর বিরোধী পক্ষ বা শক্তির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া। অর্থাৎ কিছু বিষয় ছাড় দিয়ে সকল পক্ষ এক স্থানে বা একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া। যেখানে সকল পক্ষই সেই সমঝোতা বা চুক্তির বিষয়গুলো মানতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
এখন আসা যাক, ইউপিডিএফের তথাকথিত সেই ৮৭ দফা দাবিনামার বিষয়ে, যেটি নিয়ে তারা অহংকার করে এবং জনশ্রুতিমতে গর্বও করে। তারা নিজেদেরকে রাজনৈতিক দল হিসেবেও দাবি করে, কিন্তু তাদের তথাকথিত “চুক্তি আকারে দাবিনামাটা” যে প্রকারে এবং যে পদ্ধতিতে তারা পেশ করেছে, সেটা রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম/কর্মপদ্ধতির মধ্যে পড়ে না। তারা তাদের দাবিনামা এমন একজন ব্যক্তির কাছে পেশ করেছে (একেবারে ধুমধাম করে), যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের একজন সাবেক কর্মকর্তা। ঐ ব্যক্তিকে সরকার বা সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করেছে এমন ব্যক্তিও নয়। সরকারের পক্ষে কোনো ব্যক্তিকে যদি আলোচনার জন্য নিয়োজিত করা হয়ে থাকে, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দিতে হয়। কিন্তু উক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজরকে সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ করা হয়েছিল এমন তথ্য জানা যায়নি। তাই ইউপিডিএফের দাবিনামা পেশ করার বিষয়টা এমনটা দাঁড়িয়েছে যে, সরকারের নিকট পেশ করার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়োগ করা ছাড়া কোনো পাবলিককে একগুচ্ছ দাবি পেশ করার সামিল বৈ কিছু নয়। যার কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্য নেই। যা সম্পূর্ণ হাস্যকরও বটে।
রাষ্ট্রের যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ (সরকার), আইন বিভাগ (সংসদ) এবং বিচার বিভাগের (হাইকোর্ট/সুপ্রীম কোর্ট) হাতেই থাকে, এটা ইউপিডিএফ-রা কিভাবে বেমালুম ভুলে গেল, সেটা অবশ্য আমার বোধগম্যতার বাইরে। তাহলে যেহেতু ইউপিডিএফ তাদের দাবিনামা পেশ করবে, সেটা অবশ্যই রাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে। সেটা নিয়ে আলোচনা হতে হবে, সমালোচনা হতে হবে, যুক্তি-পাল্টা যুক্তি হবে! তাহলে রাষ্ট্র অবশ্যই নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে এমন একটি কমিটি বা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করবে, যার কাজ হবে ঐ বিষয় সংক্রান্ত সকল কিছু তদারকি করা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া। এখন রাষ্ট্র কবে, কোন সময়ে একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজরকে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে ইউপিডিএফের দাবিনামা গ্রহণের জন্য খাগড়াছড়িতে পাঠালো, সেটা ইউপিডিএফ-রাই ভালো বলতে পারবে। এবং অবসরপ্রাপ্ত সেই মেজর এমদাদ রাষ্ট্রের উক্ত ৩টি বিভাগের কোন অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন, সেটাও তারাই ভালো বলতে পারবে।
উদাহরণস্বরূপ, আমাদের পার্শ্ববর্তী মিজোরামের সশস্ত্র সংগ্রামের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায় যে, ভারত স্বাধীনতার পরে ১৯৫২ সালে আসামের অধীনে মিজোরামকে যুক্ত করা হয়, তখন এর নাম ছিল লুসাই হিল ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল। তৎপরবর্তী ১৯৫৪ সালে এর নাম পরিবর্তন করে মিজো ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল করা হয়। ১৯৬৫ সালের ৩০ অক্টোবর মিজোরা লালডেঙ্গার নেতৃত্বে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর নিকট স্বারকলিপি আকারে প্রথম দাবিনামা পেশ করে। তাদের দাবি ছিল মিজোরাম হবে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। যদিও ঐ দাবিনামার বিষয়টি লাল বাহাদুর শাস্ত্রী সরাসরি নাকচ করে দেন। এটি ছিল মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট-এমএনএফ এর দাবিনামা। মনে রাখতে হবে যে, এটি দাবিনামা, কোনো চুক্তি নয়। তৎপরবর্তী ১৯৬৬ সাল থেকে স্বাধীনতার দাবিতে মিজোরা সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে এবং ১৯৭৬ সালের ১লা জুলাই ভারত সরকার ও মিজোদের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ভারতের রাজধানীতে দিল্লীতে। এর পরে অনেক দর কষাকষি ও সশস্ত্র সংঘাতের পরে ১৯৮৬ সালের ৩০ জুন উভয় পক্ষের সম্মতিতে স্বাক্ষরিত হয় “মিজো শান্তি চুক্তি”।
মিজোরা স্বাধীনতার দাবি থেকে সরে এসে ভারতের সংবিধানের ভেতরে থেকে স্বায়ত্তশাসনের পথটি বেছে নেয় এবং ভারত সরকারও সেটি মেনে নেয়, যার ফলস্বরূপ সেই প্রত্যাশিত চুক্তি। মিজোদের সাথে শান্তি আলোচনায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে মিজোরামের ব্যাপটিস্ট ও প্রেসবিটেরিয়ান চার্চের সমন্বয়ে গঠন করা হয় “মিজো চার্চেস পিস কমিটি” এবং সরকারের পক্ষ থেকে ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশনায় কূটনীতিক জি. পার্থসারথির নেতৃত্বে বিশেষভাবে একটি দল গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব আরডি প্রধানের নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ উচ্চ পর্যায়ের দল গঠন করা হয়।
একইভাবে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনের ইতিহাসের দিকে তাকালেও আমরা একই দৃশ্য দেখতে পাই। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে জনসংহতি সমিতির উত্থানের পরপরই ১৯৭২ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের কাছে এম এন লারমার নেতৃত্বে তৎকালীন জাতীয়তাবাদী জুম্ম নেতৃবৃন্দ পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য “প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন” দাবি করেছিলেন। এটা ছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কাছে জুম্ম জনগণের প্রথম আনুষ্ঠানিক দাবিনামা। পরবর্তী এই দাবিনামার উপর ভিত্তি করে দীর্ঘ ২ যুগের অধিক সশস্ত্র সংগ্রাম এবং ২৬টি বৈঠকের পরেই উভয় পক্ষের সম্মতিতেই ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয় ঐতিহাসিক “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি”। এটাই হল “চুক্তি”। প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন থেকে সরে এসে জুম্ম জনগণ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদের সমন্বয়ে “আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন” মেনে নিয়ে চুক্তিতে উপনীত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে তথা জনসংহতি সমিতির দাবিনামা বিষয়ে আলোচনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে “পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি” গঠন করা হয়। যে কমিটির প্রথম আহ্বায়ক (১৯৮৫-১৯৮৮) ছিলেন তৎকালীন পরিকল্পনা মন্ত্রী একে খন্দকার, তৎপরবর্তী বিএনপি সরকারের সময় ছিলেন যোগাযোগ মন্ত্রী ওলি আহমেদ (১৯৯২-১৯৯৫) এবং সর্বশেষ আওয়ামীলীগ সরকারের সময় এই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জাতীয় সংদের তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ (১৯৯৬-১৯৯৭)।
অতএব, দেখা যাচ্ছে যে, রাজনৈতিক অধিকার অর্জনের জন্য প্রথমে দাবিনামা পেশ করতে হয় এবং তাও ক্ষমতাসীন সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে, যার কাছে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত আছে। পরবর্তীতে সেই দাবিনামা সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য সরকার একটি বিশেষ কমিটি/দল গঠন করবে, যা দিয়ে সরকার আলোচনা চালিয়ে যাবে এবং উদ্ভূত সমস্যার সমাধান বের করবে। দাবিনামা সংক্রান্ত নানা আলোচনা-পর্যালোচনার পরেই উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে হয় “চুক্তি”। অর্থাৎ দাবিনামার উপর ভিত্তি করেই একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
কিন্তু ইউপিডিএফ-তাদের সেই তথাকথিত দাবিনামা নিয়ে তারা নিজেরাই পরিষ্কার নয়। তারা সেটিকে কখনও দাবিনামা বলে, আবার কখনও চুক্তি বলে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করে। কখনওবা চুক্তি আকারে দাবিনামা বলে চালিয়ে দেয়। এটি জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নিজেদের দেউলিয়াপনাকে ঢাকার বৃথাচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
ইউপিডিএফ-কে প্রথমে এটা পরিষ্কার করতে হবে যে, সেটা তাদের দাবিনামা কি না! যদি সেই ৮৭ দফাই তাদের দাবিনামা হয়ে থাকে, তাহলে দীর্ঘ বছর যে কল্পিত “পূর্ণস্বায়ত্তশাসন”-এর কি হলো? সেটা কি হাওয়াই নিরুদ্দেশ হয়ে গেল? নাকি ইউপিডিএফ তাদের নীতিগত টার্গেট থেকে সরে এসেছে? তাছাড়াও তাদের দাবি যদি ঐ ৮৭ দফাই হয়, তাহলে রাষ্ট্রের সাথে সমঝোতায় পৌঁছতে পৌঁছতে সেই ৮৭ দফার ১০ দফাও টিকে থাকতে পারবে কি না সন্দেহ থেকেই যায়। কেন বলছি সেকথা, মিজোরা স্বাধীনতার দাবি নিয়ে লড়াই করে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে চুক্তি করে। জনসংহতি সমিতি প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি নিয়ে লড়াই করে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন নিয়ে চুক্তি করে।
এখন যদি ইউপিডিএফ তাদের কল্পিত পূর্ণস্বায়ত্তশাসন দাবি থেকে সরে এসে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন দাবি নিয়ে লড়াইও শুরু করে তাহলে তারা তো স্বশাসিত জেলা পরিষদ পর্যন্ত যেতে পারে কিনা সন্দেহ। কেননা ইউপিডিএফের ৮৭ দফা দাবিনামাটা পুরোটাই “পার্বত্য চুক্তি”-কে ঘষামাজা করে বানানো। বরং কোনো কোনো জায়গাতে পার্বত্য চুক্তির চেয়েও জঘন্য কিছু জিনিস তারা ঢুকিয়েছে। যেমন-তাদের কথিত দাবিনামার অষ্টম ভাগ (চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি ও চুক্তির বলবৎকরণ) অংশে চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটিতে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি-কে তারা বসিয়ে দিয়েছে, যা সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং রাজনৈতিক ভন্ডামি। এছাড়াও তারা প্রায় সময়ই বলে, জনসংহতি সমিতির চুক্তিতে নাকি চুক্তি বাস্তবায়নের সময়সীমা নাই। অথচ, তাদের “চুক্তি আকারে দাবিনামা”-তেও তারা নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে নাই।
মজার বিষয় এই যে, ইউপিডিএফ তাদের স্বঘোষিত দাবিনামা পেশ করেছে ২০২২ সালের ৯ জুন, আজ থেকে ৪ বছর আগে। এই ৪ বছরের মধ্যে সরকারের সাথে তাদের কতবার আলোচনা হয়েছে, কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেটার উত্তর তাদের কাছে জানা নেই। সরকার কি তাদের দাবিনামা আদৌ মেনে নিয়েছে? যদি মেনে না নেয়, তাহলে তারা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছে না কেন!- সেই প্রশ্নটাও থেকে যায়।
সে যাই হোক! তাদের দাবিনামাতে কী আছে বা কী নেই, সেটা সম্পূর্ণ পরের বিষয়। আলোচনা-পর্যালোচনা সেটাও আরো দূরের। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, যার কাছে তারা দাবিনামা পেশ করেছে, সেই বিষয়টি। তারা দাবিনামা পেশ করেছে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার কাছে। যিনি সরকারের কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও নন, সরকার কর্তৃক মনোনীত কোনো বিশেষ প্রতিনিধিও নন। এমনকি তাদের এই দাবিনামার বিষয়ে খোদ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পার্বত্যমন্ত্রী কেউই জানেন না। এখন প্রশ্ন হল, যেই দাবিনামা সরকারের হাতেই পৌঁছেইনি, সেই দাবিনামা নিয়ে ইউপিডিএফ-রা বড়াই করে কোন যুক্তিতে? দাবিনামা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা বহু দূরের আলাপ, কিন্তু দাবিনামাটাই তো সরকারের কাছে পৌঁছেইনি! তাহলে এই ব্যর্থতা কার? আর সেই ব্যর্থ প্রচেষ্টাকে দিয়ে ঘোলা জলে মাছ শিকারের বৃষ্টা কার?
বাস্তবিকপক্ষে, এটা ছিল রাষ্ট্রযন্ত্র এবং এর গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক সৃষ্ট একটি চাল। আর এই চালের গুটি ইউপিডিএফ। রাষ্ট্রযন্ত্র যেরূপে বিভিন্ন ইন্টারেস্ট গ্রুপ সৃষ্টি করে পাহাড়কে অস্থিতিশীল রাখতে চায় এবং সেই অস্থিতিশীলতা দমনের নামে পাহাড়ে সেনাক্যাম্প বৃদ্ধি করার প্রচেষ্টা চলমান রাখে, ঠিক একই কায়দায় রাষ্ট্রযন্ত্র চেয়েছিল ইউপিডিএফ-কে দিয়ে একটি অস্তিত্বহীন দাবিনামা পেশ করাতে এবং তারা সেটি করেছেও। এসবের উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে পাহাড়ের বাস্তবতাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের রাজনীতি করা। অর্থাৎ ইউপিডিএফ-কে দিয়ে দাবিনামা পেশ করে এটা বোঝানো যে, ১৯৯৭ সালে সম্পাদিত চুক্তিটির বৈধতা এখন নেই, পাহাড়ের অর্ধেক অংশ এই চুক্তিতে বিশ্বাসী নয়, অতএব এই চুক্তির গ্রহণযোগ্যতা আর নেই ইত্যাদি। ফলশ্রুতিতে পাহাড়ে সামরিকায়ন আর ইসলামীকরণের গতিকে তারা ত্বরাণ্বিত করতে পারবে এবং বহিরাগতদের বসতিপ্রদানের প্রক্রিয়াটিকে আরো দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিতে পারবে। ফলে, সারমর্ম হলো সর্বসাকুল্যে ইউপিডিএফের কাজ বা তথাকথিত আন্দোলনের ফল হলো চুক্তির বাস্তবায়নকে বা জুম্ম জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করা বৈ কিছু নয়।