হিল ভয়েস, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, রাঙ্গামাটি: রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন থেকে সেনামদদপুষ্ট মগ পার্টি সন্ত্রাসীদের কর্তৃক ১২ দিন পূর্বে অপহরণের শিকার হওয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদুমং মারমা এখনো মুক্তি পাননি। বরং অপহরণকারীরা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে ১ কোটি টাকা দাবি করছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে, এত টাকা মুক্তিপণ কিভাবে দেবে এবং অপহৃত চেয়াম্যান আদুমং মারমা আদৌ সুস্থ আছেন কিনা- সেই চিন্তা নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে, অপহরণের বিষয়টি বাঙ্গালহালিয়া সেনা ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের নিকট বারবার অবহিত করা হলেও এবং চেয়ারম্যান আদুমং মারমার মুক্তির জন্য সহযোগিতা চাওয়া হলেও সেনা ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট, বিকাল আনুমানিক ৩ টার দিকে মগ পার্টির সন্ত্রাসীদের কর্তৃক চেয়ারম্যান আদুমং মারমা অপহরণের শিকার হন।
জানা গেছে, ঐদিন চেয়ারম্যান আদুমং মারমা রাজস্থলীতে তার ভাতা তুলতে যান। ভাতা তোলার পরপরই মগ পার্টির থার্ড-ইন-কমান্ড বলে পরিচিত সাইলুমং মারমা ফোন দিয়ে চেয়ারম্যান আদুমং মারমাকে যতদ্রুত সম্ভব পোয়াইতু পাড়ায় অবস্থিত তাদের আস্তানায় একা গিয়ে দেখা করতে বলে। সেখানে যাওয়ার আগে চেয়ারম্যান তার সহকারী ক্যশৈহ্লা মারমা (অবঃ পুলিশ সদস্য)-এর হাতে তার ভাতাগুলো দিয়ে পোয়াইতু পাড়ার দিকে যান। সেদিন থেকে চেয়ারম্যান আদুমং মারমা এখনো বাড়িতে ফেরেননি। তার ফোনও বন্ধ রয়েছে। মগ পার্টির নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন।
সম্প্রতি অপহৃত আদুমং মারমার পরিবারের লোকজন মগ পার্টির নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করলে, তারা অপহৃতের মুক্তিপণ হিসেবে ১ কোটি টাকা দাবি করেন বলে জানা যায়।
দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, সেনাবাহিনী, সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর, কোনো কোনো সময় আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি দীপংকর তালুকদারের মদদে ও আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এই মগ পার্টি খ্যাত তথাকথিত মারমা ন্যাশনালিস্ট পার্টি (এমএনপি) এর সন্ত্রাসীরা রাজস্থলী এলাকায় অবস্থান করে জনসংহতি সমিতি ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের খুন, অপহরণ সহ চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে।