হিল ভয়েস, ৯ মে ২০২৬, চট্টগ্রাম: গতকাল মঙ্গলবার (৮ মে) মহামায়া লেক, মিরসরাই, চট্টগ্রামস্থ পলিটেকনিক আদিবাসী শিক্ষার্থীদের “এসো হে নবীন ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে, গাই জয়োগান উচ্ছাসে মিলায় মোরা প্রাণে প্রাণ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নবীন বরণ ও বার্ষিক মিলনমেলা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত মিলনমেলা ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-র চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি আদর্শ চাকমা, পিসিপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সহ-সভাপতি সৌরভ চাকমা, পিসিপি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রিয় জ্যোতি চাকমা (রিবেক), পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জুডিশিয়াল ত্রিপুরা প্রমুখ।
চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর শিক্ষার্থী সোহেল খেয়াংয়ের সঞ্চালনা এবং পূর্ণ জ্যোতি চাকমার সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইচুক ত্রিপুরা।
এই সময় আইচুক ত্রিপুরা বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও চট্টগ্রামে পড়ালেখা করতে আসা পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা মিলিত হবার সুযোগ পেয়েছি। এতে করে আমাদের মধ্যে এক মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়।
জুডিশিয়াল ত্রিপুরা বলেন, পলিটেকনিক থেকে পড়ালেখা শেষ হওয়ার পরে অনেকেই বিভিন্ন জব সেক্টরে চাকরি করবেন। তবে মনে রাখতে হবে শুধুমাত্র চাকরি পাওয়ার জন্য পড়ালেখা করলে হবে না। আমাদের যে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে সেগুলোকে নিয়েও ধারণা রাখতে হবে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পরে অনেকেই নিজের জন্য ভাবে, কিন্তু সমাজ, জাতির জন্য ভাবে না। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন সুশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে জাতি ও সমাজে কাজ করার মন-মানসিকতা থাকতে হবে।
রিবেক চাকমা বলেন, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আজকে আমাদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। আজকে চীনের মত প্রভাবশালী দেশ তাদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে রেখেছে তাদের কারিগরি দক্ষতায়। তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপটে জুম্ম অর্থনীতিকে বিশ্বের সাথে তাল মিলাতে আমাদের কারিগরি দক্ষতা সম্পন্ন হতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের পাহাড়িদের হাতে বাজারের যে বিশাল অর্থনীতি সেটি কিন্তু আমরা লুফে নিতে পারছি না শুধুমাত্র আমরা দক্ষ নই বলে। একই সাথে আমাদের জুম্মদের ভাষা, সংস্কৃতি লালনপালন করার চেষ্টা করতে হবে।
সৌরভ চাকমা বলেন, দীর্ঘ ২ যুগেরও বেশি সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে বাংলাদেশ সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্য যে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে সে চুক্তির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভাগ্য নিহিত রয়েছে। চুক্তিকে জানা এবং বোঝা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রয়োজন রয়েছে। পড়ালেখা করে যতই চাকরি করি কিন্তু নিজের জাতির দুর্দশা কোনদিন লাঘব হবে না। সেজন্য সবারই উচিত নিজ জাতি এবং সমাজের জন্য কিছু একটা করার চেষ্টা করা।
আদর্শ চাকমা বলেন, আমরা পাহাড় থেকে অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করার জন্য শহরে আসি। আমাদের শেকড় পাহাড়, এ শেকড়কে ভুললে আমাদের হবে না। পাহাড়ের যে নির্মম ইতিহাস সে ইতিহাসকে আমাদের জানতে হবে এবং ধারণ করতে হবে। আমরা যদি ধারণ করতে না পারি তাহলে আমাদের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে কোনো লাভ হবে না। নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি রক্ষা থেকে শুরু করে জাতি, সমাজে ভালো কাজ করার মন-মানসিকতা সবার মধ্যে বিদ্যমান থাকা উচিত, নয়তো একসময় আমাদের ইতিহাস বিলুপ্ত হবে। ইতিহাসের বুকে টিকে থাকতে যেমন লড়াই সংগ্রাম প্রয়োজন, তেমনি পড়ালেখার গুরুত্বও রয়েছে।
সকালের পর্বে খেলাধুলা আয়োজনের পরে আলোচনা সভা শুরু হয় এবং পুরস্কার অনুষ্ঠান শেষে সভাপতি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা সমাপ্ত করা হয়।