Tuesday, 22 Sep 2026
আন্তর্জাতিক April 24, 2026

জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রীতিবিন্দু চাকমার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও জেলে অন্তরীণ নিরীহ বমদের মুক্তির আহ্বান

হিল ভয়েস, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) প্রতিনিধি প্রীতিবিন্দু চাকমা গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের ২৫তম অধিবেশনে এজেন্ডা আইটেম ৫(এ): “আদিবাসীদের সাথে সংলাপ (রুদ্ধদ্বার বৈঠক) [পারস্পরিক সংলাপ]” বিষয়ে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।

আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের এই অধিবেশনটি শুরু হয় গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে এবং তা সমাপ্ত হবে ১ মে ২০২৬।

অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তিন প্রতিনিধি চঞ্চনা চাকমা, অগাস্টিনা চাকমা ও প্রীতিবিন্দু চাকমা অংশগ্রহণ করছেন। অপরদিকে, বাংলাদেশের আদিবাসীদের পক্ষে এআইপিপি’র সেক্রেটারি জেনারেল পল্লব চাকমা, এমরিপ-এর ড. বিনোতাময় ধামাই ও বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি টনি চিরানও এই অধিবেশনে অংশগ্রহণ করছেন।

প্রীতিবিন্দু চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, “চুক্তি এবং গঠনমূলক ব্যবস্থাসমূহ হলো আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও রাষ্ট্রসমূহের মধ্যকার মৌলিক আইনি দলিল, যার মূল বিষয়বস্তু হলো ভূমি, সম্পদ এবং আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার। জাতিসংঘের মানদন্ডের ওপর প্রতিষ্ঠিত এই দলিলগুলো এমনভাবে সম্মান ও প্রতিপালন করার কথা, যাতে সেগুলোর মূল চেতনা ও অভিপ্রায় যথাযথভাবে বজায় থাকে।

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলাদেশ সরকার ও আদিবাসী জুম্ম জনগণের মধ্যে ১৯৯৭ সালে এ ধরনের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যা ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর ২৮ বছর অতিক্রান্ত হলেও চুক্তির মৌলিক বিষয়সহ চুক্তির দুই-তৃতীয়াংশ ধারা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

বাংলাদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার গঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর বর্তমান সরকার এখনো পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রাঙ্গামাটি আসন থেকে নির্বাচিত একজন আদিবাসী এমপিকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু তার সাথে উক্ত মন্ত্রণালয়ে একজন অ-আদিবাসী এমপিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, যা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মূল চেতনার সাথে বিরোধাত্মক। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের নাগরিক সমাজের দাবি সত্ত্বেও এখনো উক্ত প্রতিমন্ত্রীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অন্য মন্ত্রণালয়ে সরানো হয়নি।

অত্যন্ত বেদনার সাথে বলতে হচ্ছে যে, ২০২৪ সালে বান্দরবান জেলায় ‘কেএনএফ’ নামে পরিচিত একটি ক্ষুদ্র সশস্ত্র বম গোষ্ঠীর দ্বারা একটি ব্যাংক লুট হওয়ার ঘটনার জেরে, বম আদিবাসী সম্প্রদায়ের ১৪২ জন মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছিলেন যুবক-বৃদ্ধ, গৃহিণী, শিক্ষার্থী, একজন গর্ভবতী নারী এবং তিন বছরের এক শিশুসহ এক মা। কর্তৃপক্ষ ৮০ জনকে মুক্তি দিয়েছে; যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বাকি ৫৯ জন এখনো কারাগারে বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা এখনো বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উপর আস্থা রাখতে চাই। তাই পার্মানেন্ট ফোরামের এই অধিবেশন থেকে আমি বাংলাদেশ সরকারকে আহ্বান জানাতে চাই যে, আসুন, জাতিসংঘের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তিতে অনুস্বাক্ষরকারী হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের যে আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা রয়েছে, তার আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসুন এবং জেলে অন্তরীণ নিরীহ বম ব্যক্তিদেরকে মুক্তি দিন।”