Tuesday, 22 Sep 2026
মানবাধিকার April 27, 2026

টেকনাফের পালংখালিতে কাঁকড়া খুঁজতে গিয়ে অপহরণের পর হত্যার শিকার এক আদিবাসী গ্রামবাসী

হিল ভয়েস, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, বিশেষ প্রতিবেদক: কক্সবাজার জেলাধীন টেকনাফ উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে জীবিকার তাগিদে কাকড়া খুঁজতে গিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্তৃক এক স্থানীয় আদিবাসী চাকমা যুবক অপহৃত হওয়ার পর নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

হত্যার শিকার ওই আদিবাসী গ্রামবাসীর নাম: সা মুং চিং চাকমা (৪৪), পিতা: উগবা, ঠিকানা: লাম্বাঘোনা, পালংখালী ইউনিয়ন, টেকনাফ। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সা মুং চিং চাকমা (৪৪) অতি সহজ-সরল একজন দিনমজুর। তার পরিবারে তিনি এবং তার স্ত্রী-সন্তানসহ মোট ৫ জন সদস্য রয়েছে। অন্যের বাসায় দিনমজুরি করে চলে তার নিত্যদিনের সংসার। তবে মাঝেমধ্যে তার কপালে দিনমজুরের কাজ না জুটলে স্ত্রী সন্তানদের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দেবার জন্য কাঁকড়া শিকার করতে যেতেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ নাফ নদীর পালংখালী এলাকায় তিনি রাতে কাঁকড়া শিকার করতে গিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী (নবী হোসেন গ্রুপ) কর্তৃক অপহরণের শিকার হন। এরপর কয়েকদিন যাবত অনেক খোঁজাখুঁজি এবং স্থানীয় বিজিবি সহ পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েও তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। ২৩ এপ্রিল, অপহৃতের স্ত্রী ছাম্মিয়াউ তঞ্চঙ্গ্যা (৪৪) উখিয়া থানায় জিডি করলেও তাতেও কোনো কাজ হয়নি।

সর্বশেষ আজ (২৭ এপ্রিল ২০২৬) সকালে TTN exclusive নিউজে নবী হোসেন গ্রুপ কর্তৃক অপহরণের পর মুক্তিপণের বিনিময়ে বাড়ি ফেরা একজন স্থানীয় বাঙালি যুবকের সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, অপহরণের পরপরই অর্থাৎ ২২ এপ্রিল ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০ ঘটিকায় সামু চিং চাকমাকে (৪৪) নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা ওই বাঙালি যুবক যিনি একইদিন সা মু চিং চাকমার সাথে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্তৃক অপহরণের শিকার হয়েছিলেন, পরে ৪ লক্ষ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্তি পান।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সা মু চিং চাকমার পরিবারে শোকের ছায়া নেমেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন। অনেকেই অভিযোগ করে বলেছেন, রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা একই ঘটনা বারবার ঘটানোর পরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোন জোরালো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। অপহরণ এবং অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় বাণিজ্যে স্থানীয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হাত রয়েছে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, গত দুই বছর আগেও একইভাবে মাছ ধরতে গিয়ে দুইজন আদিবাসী চাকমা যুবক রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কর্তৃক অপহরণের শিকার হন এবং আজ পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি বলে সূত্রে জানা গেছে।