শুভজিৎ চাকমা
দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগ করানোর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক মুল্যবোধের উপর কুঠারাঘাত করা হয়েছে। তাই এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সরকার যদি এই কথা উপলদ্ধি করে যে, দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগে বাধ্য করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর যে কুঠারাঘাত করা হয়েছে এবং তা থেকে সরকার দায়মুক্তি পেতে চায় তাহলে তাঁকে তাঁর স্ব-পদে পুনর্বহাল করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। তাঁর পদত্যাগপত্রে শারীরিক অসুস্থতা মূল কারণ দেখানো হয়েছে সত্য কিন্তু সেটা তাঁর পদত্যাগকে বৈধতা দেওয়ার জন্য একটা অপকৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল এই কথা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। কারণ পদত্যাগের মূল কারণ অসুস্থতা এই কথা মানুষ স্বীকার করেনি এবং করবেও না। তাই দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ নিয়ে সরকার আইনীভাবে জিতলেও নৈতিক ও গণতান্ত্রিকভাবে জিতেনি। এখানেই মূল প্রশ্ন যে, বাংলাদেশ রাষ্ট্র তাহলে তাত্ত্বিক ও সাংবিধানিক কাঠামো অনুসারে জনগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলেও কাজেকর্মে গণতান্ত্রিকও নয় এবং এই বাস্তবতাটাই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য বড় অশনি সংকেত কি না!
এছাড়াও সরকার পূর্ব অভিজ্ঞতা (“দায়মুক্তি” যা স্বেচ্ছায় ও জোর করে নেওয়া হয়ে আসতেছে এযাবত) থেকে যদি দীপেন দেওয়ানের সমস্যাকে আসলে কোন ব্যাপরাই মনে করে না তাহলে সরকার বড় ভুল করবে। আর উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীরাও যদি এই বিষয়টাকে একান্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিষয় তাই এখানে তাদের কোন কিছুই করার নেই এবং থাকলেও তারা করবে না এবং এ নিয়ে তাদের কোন ক্ষতি হবারই সুযোগ নেই বিধায় এ নিয়ে কোন সংশোধন কিংবা সমাধানের উদ্যোগ না নিলেও চলবে তাহলে তারাও ভুল করে বসবে। অতীতে কিছুই হয়নি বলে বর্তমানে কিংবা ভবিষ্যতেও কিছুই হবেনা তা ভেবে থাকলে একদিন তা আপনাদের দলেরই ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে! তাই বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে যদি সত্যিকার অর্থে আমরা একটি কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে এবং পেতে চাই তাহলে দীপেন দেওয়ানের এই ইস্যুটিকে ক্ষুদ্র কিংবা সংখ্যালঘুদের ব্যাপার এই দৃষ্টিতে না দেখে এটিকে অবশ্যই যথাযথভাবে মোকাবিলা করার মধ্য দিয়ে ভুল শোধরানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নতুবা এ নিয়ে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রকে অনেক মাসুল দিতে হতে পারে পাশাপাশি দল হিসেবে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা এমনকি বিরোধীরাও এই কলংক থেকে রেহাই পাবেনা।
এত কিছুর পরেও যদি দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার না করে সরকার তার সিদ্ধান্তে অটল থাকতে চায় তাহলে থাকতেই পারে! এতে কারো কিছুই করার নেই এত বড় রাষ্ট্রীয় শক্তির বিরুদ্ধে এবং এতে করে নিকট ভবিষ্যতে কোন প্রভাবই অনুভূত হবেনা সরকারের। কিন্তু নিশ্চিত করে কি থাকা যাবে! কাজেই সরকার তথা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যেভাবেই হোক দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগ করানোর মাধ্যমে যে ভুল করেছে যদি তা সংশোধন করার উদ্যোগ না নেয় এবং অহংবোধের দ্বারা চালিত হয়ে অনড় অবস্থানে থাকে তাহলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ এটিকে কেন্দ্র করেই হয়তো নিকট ভবিষ্যতে ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার একটি মোক্ষম অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
তাছাড়া বড় ঋণের বোঝাওতো কম ভোগাবে বলে মনে হয়না আগামীর বাংলাদেশকে! তাই যেহেতু দীপেন দেওয়ানই যে কোন উপায়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগুলোর স্বাধিকার অধিকার প্রতিষ্ঠার সর্বশেষ ভরসা এবং তিনি পুনর্বহাল না হলে এর ফলে তাদের সেই স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে এবং ফলত তারা কেবল আতংকিত ও বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়বে না, বিপরীতক্রমে প্রবল প্রতিরোধ আন্দোলনের পথেও ধাবিত হতে পারে! এমনকি এই অন্যায়, অনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক নজির জনপ্রতিনিধিত্বমূলক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক বিকাশকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং এর প্রভাব চরম নেতিবাচকভাবে পড়ে গোটা রাজনৈতিক অঙ্গণকে প্রভাবিত করতে পারে! আর এই সুযোগ হয়তো উগ্র ইসলামিক এবং জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী তাদের স্বার্থে সদ্ব্যবহার করতেও পারে! সেহেতু বাংলাদেশকে কার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে সঠিক পথে থাকতে হলে অন্যান্য অনেক বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়াসহ অবশ্যই উপরোল্লিখিত মৌলিক তিনটি বিষয়ের উপর বিশেষ নজর দিয়ে চলতে হবে। মোট কথা রাষ্ট্রে ধর্মের অযথা ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, সংখ্যালঘূদের সমস্যা সমাধান করে রাষ্ট্রে অন্তর্ভূক্তিকরণের মাধ্যমে তাদেরকে আস্থায় আনতে হবে এবং ভূরাজনৈতিক স্বার্থ সংঘাতে না জড়িয়ে আঞ্চলিক ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রীয় বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে পারস্পরিক সুসম্পর্ক রাখার এই পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ে অটল থাকতে হবে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব একটি অত্যন্ত মৌলিক বিষয়। পাহাড়ি জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে বাইরে থেকে কোন ব্যক্তিকে ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার অর্থ হলো ঐ অঞ্চলের স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করা। তাই জনপ্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এখন কি করবে তা দেখার বিষয়। কারণ এই স্পিরিট অনুযায়ী দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগ করানো কোনভাবেই বৈধতা পেতে পারেনা। মোট কথা তাঁর পদত্যাগ নিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। তাঁকে পদত্যাগ করানোর পর কিছু সময়ের জন্য নানা মহলে ও মাধ্যমে শোনা গিয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্য একজন সাংসদকে উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে স্বয়ং প্রধান মন্ত্রী এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন এই প্রচেষ্টাও চালানো হয়েছিল যা কোনভাবেই নৈতিক নয়। এমনকি সেই সাংসদকে যদি পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বও দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে সেখানেও পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের কথা বলার আছে। কারণ সেই সাংসদ আসলেই দীপেন দেওয়ানের মতো পার্বত্য অঞ্চলের ব্যাপক মানুষের প্রতিনিধি কিনা!
আবার কখনো কখনো শোনা যায় যে, দীপেন দেওয়ানকে অন্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীত্ব দেওয়া হবে! আর বর্তমান প্রতিমন্ত্রী জনাব মীর হেলাল উদ্দিনকে রেখেই এই মন্ত্রণালয় পরিচালনা করা হবে। এই সিদ্ধান্ত নিলেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবচেয়ে বড় ভুল করে বসবে! দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অন্য মন্ত্রণালয়ে নয়্, কারণ এই মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো নয়। আর দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ ভোট দিয়েছিল পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের হয়ে কাজ করার জন্য। অন্যদিকে বর্তমানে যিনি পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন তিনি পার্বত্য চটট্টগ্রামের মানুষের নির্বাচিত প্রতনিধি নন। এই নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সরকার অবশ্যই ভুল করে বসেছে। আর এই ভুলকে আরো বড় করে বসবে যদি শোনা কথাটি বাস্তবায়ন করা হয় যে দীপেন দেওয়ানকে অন্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীত্ব দেওয়া হয় আর বর্তমান প্রতিমন্ত্রী জনাব মীর হেলাল উদ্দিনকে রেখেই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিচালনা করা হয়। এ বিষয়ে সরকার হয়তো আইনীভাবেও বৈধতা পাবে কিন্তু নৈতিকভাবেতো নিশ্চিতভাবইে নয় এমনকি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের আলোকেও নয়। তবে এতসব বাদ দিয়ে তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকলে রাষ্ট্রের সরকারই জিতবে কিন্তু দেশ হিসেবে জিতবে কিনা এবং গণতান্ত্রিক মনাবিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ টিকবে কিনা তাই আসল ব্যাপার!
আবার সাংবিধানিকভাবেও হয়তো দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ এবং মীর হেলাল উদ্দিনের পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে বহাল থাকার ব্যাপারটা বৈধতা দেওয়া যাবে হয়তো কিন্তু সংবিধানে তো বৈপিরীত্যও আছে। কাজেই বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে হলে সংবিধানের ঐ বৈপরীত্যটাই গ্রহণ করতে হবে। আর সংবিধানের অধীনে এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতার প্রতি পূর্ণ ও অবিচল আনুগত্য রেখেই যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে। তাই এই চুক্তির পরে যে সমস্ত আইনী বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়েছে এবং হতে পারে তাহাই অন্যান্য আইন ও বিধি-বিধানের উপর প্রাধান্য পাবার কথা। কারণ আইনি ব্যাখ্যার মূলনীতি (Principles of Statutory Interpretation) অনুযায়ী, একটি বহুল ব্যবহৃত ল্যাটিন নীতি “জেনারেলিয়া স্পেশিয়ালিবাস নন-ডেরোগ্যান্ট”(Generalia Specialibus non derogant) এর ওপর ভিত্তি করে বিশেষ আইন সাধারণ আইনের উপর প্রাধান্য পায়। নতুবা জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তার পথ হারাবে!
তাই ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত আমরা গণতন্ত্রের লেবাসে যে সরকার পেয়েছিলাম তা বোঝানোর জন্য কোন ভাষায়-ই প্রকাশ করার অবশিষ্ট ছিলনা এবং আমরা রাখিনি। জনগণ সেই সরকারকে এক কথায় আখ্যা দিয়েছিল এবং এখনো দিয়ে যাচ্ছে যে সেই সরকার ফ্যাসিষ্ট সরকার, এই বেশ! কিন্তু সেই সরকার যে চরম মাসুল দিয়ে জনরোষের মুখে বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছে তা থেকে উত্তরণ ঘটানোর জন্যই তো বর্তমানের এই সরকার আমরা নির্বাচন করেছি তাই নয় কি! তাই এই সরকার সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে বলে মনে করার তেমন কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না! আর এটাই আমাদের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য যে স্বাধীনতার পর হতেই যে বাংলাদেশ ভুল পথে চলতে শিখেছে তা আর সংশোধন করতে পারছেনা এবং বারে বারে চলার পথে হোঁচট খাচ্ছে এবং সে কারণেই যে বাংলাদেশ সেই বাংলাদেশই রয়ে গেছে। আর হয়তো কোনদিন তার চলার গতিপথ ঠিক করতে পারবেনা এবং ফলত পরের নিকট পদানত হয়ে থাকতে হবে এবং কোনদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেনা! সরকার কি সেই ক্ষতি মেনে নিবে নাকি ভুলকে স্বীকার করে সংশোধনের মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জাতি, ধর্ম, নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকদেরকে দেশের কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে সবাইকে অন্তর্ভূক্তিকরণের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে যাবে এটাই শেষ দেখার অপেক্ষায় থাকলাম।
আর এই সরকার যদি সত্যি সত্যি বাংলাদেশকে ভালোবাসে এবং দেশকে সত্যিকার অর্থে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে চান তাহলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। আর সেই অনুসারে যদি সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাহলে এই সরকারের সবচেয়ে প্রথম এবং বড় ভুল যেটা ইতিমধ্যে করেছিলেন যেটি অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সেটি হচ্ছে দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগে বাধ্য করানো। তাই সেই ভুলের সমাধান আগে করতে হবে এবং সেই ভুল সংশোধন করার একমাত্র পথ খোলা আছে তা হলো দীপেন দেওয়ানকে তাঁর স্ব-পদে পুনর্বহাল করা। কারণ জনগণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নীতি অনুযায়ী সরকার দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ নিয়ে অনেকগুলো ব্যত্যয় ঘটিয়েছে। আর এখন সেই ব্যত্যয়গুলো সংশোধন করে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে দীপেন দেওয়ানকে তাঁর পদে পুনর্বহাল করা ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ খোলা নেই।
তবে এইটাও হতে পারে যা ইতিমধ্যে নানা সামাজিক ও সংবাদ মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে যে, দীপেন দেওয়ানের মন্ত্রীত্ব যেতে না যেতেই মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন মন্ত্রীর চেয়ারে বসে অফিস করেন এবং নাম ফলকে তার নাম লিখে দেন পরবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী যেন তিনিই। তাই এসব কিছু দেখেতো মনে হয় ক্ষমতাই কেবল কাজ করে রাষ্ট্রে! নীতি-নৈতিকতা আইন-কানুন বিধি-বিধান কিংবা নিয়ম-শৃংখলা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, রীতি-রেওয়াজ কোন কিছুই আর কাজ করে বলে মনে হয় না! বেশ ভালো! তবে তাতে রাষ্ট্রের কি! অন্যরা না থাকলে কি তারা তো আছেন! তাদের সরকার থাকলেই তো হলো, এখানে রাষ্ট্রের কি আসে যায়! আর জনগণ না থাকলে তাতে তাদের আরো ভালো, এতে তাদের কিছুই আসে যায় না! ক্ষমতাই তো আসল ব্যাপার। মানুষ-মনুষ্যত্ব, মানবিকতা, মূল্যবোধ কিসের দাম দেওয়া আবার! এসবতো পুরনো, সেকেলের এসব নিয়ে আধুনিক হবো কিসে! তাই এসবের প্রয়োজন নেই।
আবার ইদানিং দলগতভাবে ক্ষমতাসীন দলের কাজকর্মে ও কথাবার্তায় এটিও পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, সংসদের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বর্তমানে সাংসদরা গলা ফাটিয়ে ফেলছেন, কিন্তু জনগণের উপর কোন সার্বভৌমত্ব যে হতে পারেনা কিংবা জনগণের চেয়ে বেশি সার্বভৌমত্ব আর কেউ কিংবা কারো নেই সেটা তারা ভুলে গেছেন। কাজেই এটা মাথায় নিয়ে কাজ না করলে যে কোন সময় তাদের বিপদ আসতে পারে, যেমনি এসেছিল শেখ হাসিনার।
তাই দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের ঘটনা পরবর্তী কি প্রভাব পড়বে তা নির্ভর করছে এই বিষয়টা সরকার কিভাবে মোকাবিলা কিংবা সমাধান করতে যাচ্ছে তার উপর এবং তাতেই বোঝা যাবে এই সরকার কি হতে যাচ্ছে! এই সরকারও কি সেই সরকারের পথে হাঁটছে নাকি যে পরিবর্তনের বার্তা ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তার বাস্তবায়ন করবে! (সমাপ্ত)