-জিকো চাকমা
পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলি, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগকে শুধুমাত্র সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ আছে বলে মনে করছি না। এই পদত্যাগের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ভবিষ্যৎ, সরকার ও চুক্তি সম্পাদনকারী জেএসএসের সম্পর্ক এবং পাহাড়ের জনগণের বিএনপি সরকারের প্রতি রাজনৈতিক আস্থার প্রশ্ন সরাসরি জড়িত।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় তিন দশক পরও এর মৌলিক ধারাগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়িত হয়নি। আওয়ামীলীগ সরকার চুক্তি স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক শক্তি হওয়া সত্ত্বেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছিল। এর ফলে সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়। এক পর্যায়ে সেই দূরত্ব অবিশ্বাস ও বৈরিতায় রূপ নেয়। সংঘাত, হামলা ও মামলার ধারাবাহিকতা পাহাড়ের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে বোঝার জন্য ইতিহাস পাঠ জরুরি। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সময় বিএনপি এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা প্রকাশ্যে চুক্তির বিরোধিতা করেছিল। চুক্তির বিরুদ্ধে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটিকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছিল। ফলে পার্বত্য চুক্তি ও বিএনপির সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল বিরোধিতা ও অবিশ্বাসের মধ্য দিয়ে।
কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা সর্বদা পরিবর্তনশীল এবং রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় দায়িত্ব পালন ভিন্ন জিনিস। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসার পর রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রায়ই অতীতের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করতে হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। জনসংহতি সমিতি নিজে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে কৌশলগতভাবে পাহাড়ে বিএনপির প্রার্থীদেরকে বিজয়ের পথ সৃষ্টি করে দেয়। আমি মনে করি না এটি কেবল নির্বাচনী সমর্থন ছিল। বরং পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে বিএনপির প্রতি একধরনের সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত ছিল। এই সমর্থনের অন্তর্নিহিত বার্তা ছিল সুস্পষ্ট। জনসংহতি সমিতি সম্ভবত বিশ্বাস করেছিল যে, একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি বাস্তবায়নের প্রশ্নে নতুন অগ্রগতি অর্জন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অতীতের বিরোধিতার ইতিহাস অতিক্রম করে বিএনপির সঙ্গে একটি কার্যকর রাজনৈতিক সংলাপের ক্ষেত্র তৈরির প্রচেষ্টাও এতে নিহিত ছিল। এটাও হিসেবে থাকতে পারে যে, চুক্তির প্রাক্কালে বিএনপি চুক্তির বিরোধিতা করলেও পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি বরং চুক্তির বেশ কিছু ধারার বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখে। তাছাড়া, সাধারণ মানুষের এই ধারণাও ছিল যে, অতীতে বিএনপি অনেক ভুল করলেও, দীর্ঘ রাজনৈতিক নিপীড়ন, কঠিন বাস্তবতা ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে দলটির নতুন নেতৃত্ব নিশ্চয়ই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন ও ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করবে।
এই প্রেক্ষাপটে বিপুল ভোটে বিজয়ী দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া পাহাড়ের মানুষের কাছে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে প্রতিভাত হয়েছিল। কারণ তিনি পাহাড়ের বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের প্রশ্নে আন্তরিক ছিলেন এবং জেএসএসের সঙ্গে সরকারের রাজনৈতিক সংলাপের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছিলেন। এমনকি জেএসএস’র সভাপতি জে বি লারমা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েও তিনি আগ্রহী ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
কিন্তু একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চট্টগ্রামের একজন সংসদ সদস্যকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম দেয়। এই পদক্ষেপ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মৌলিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অনেকের কাছে প্রতীয়মান হয়। কারণ চুক্তির অন্যতম দর্শন হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে পাহাড়ের জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। ফলে মীর হেলালকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত পাহাড়ে নতুন করে সংশয় ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়।
মীর হেলালকে যখন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তখন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ও সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম আমরা। জনসংহতি সমিতি পদ্ধতিগতভাবে সরকারের কাছেও এ বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন করেছিল। কারণ আমরা মনে করেছিলাম, এই নিয়োগ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির চেতনা, পাহাড়ের জনগণের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং পার্বত্য অঞ্চলের বিশেষ বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মৌলিক প্রশ্ন।
অথচ সবচেয়ে জোরালোভাবে প্রতিবাদ করার কথা ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের। কিন্তু তখন তাদের অধিকাংশই কার্যত নীরব ছিলেন। কেউ প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেননি, কেউ রাজনৈতিক আপত্তি জানাননি। সেই সময়ই আমরা এই সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলাম। আজ যখন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও হস্তক্ষেপ নিয়ে নানা মহলে আলোচনা, অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে, তখন সেই সতর্কবার্তাগুলোর প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে সামনে এসেছে। শুরু থেকেই যদি বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হতো, তাহলে হয়তো আজকের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।
প্রশ্ন হলো, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে থেকে আসা একজন সংসদ সদস্য, যিনি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ নন এবং এখানকার ইতিহাস, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জটিলতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাও রাখেন না, তাকে যখন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তখন বিএনপির অধিকাংশ মানুষ নীরব ছিলেন কেন? আজ যে সংকট, সংশয় ও অসন্তোষের কথা উচ্চারিত হচ্ছে, তার বীজ তো সেই সিদ্ধান্তের মধ্যেই নিহিত ছিল। সেই নীরবতার রাজনৈতিক মূল্য আজ ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
তবে দেরিতে হলেও বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী এবং সমর্থক বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করতে শুরু করেছেন, এটি ইতিবাচক লক্ষণ। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের অন্যান্য সাধারণ প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের মতো কোনো সাধারণ মন্ত্রণালয় নয়। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ, আত্মদান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। হাজারো জুম্ম জনগণের রক্ত, ঘাম, অশ্রু ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক বাস্তবতা সৃষ্টি হয়েছে, তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল এই মন্ত্রণালয়।
সেজন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে ঘিরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত বা ক্ষমতার টানাপোড়েনকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এই প্রতিষ্ঠানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির চেতনা, পাহাড়ের জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে পরিচালিত হতে হবে। অন্যথায় শুধু একটি মন্ত্রণালয়ের মর্যাদাই ক্ষুণ্ন হবে না, বরং পাহাড়ে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই নিয়োগের পর পার্বত্য চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান প্রতিবাদ বা আপত্তি দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপির নেতারাও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রশ্ন তোলেননি। অথচ বিষয়টি শুরু থেকেই পাহাড়ের জনগণের একটি অংশের মধ্যে বিতর্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিল। এই নীরবতা অনেকের কাছেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
বর্তমানে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন ঘুরপাক খাচ্ছে। যদিও এসব তথ্যের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়, তবুও সেগুলোকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়াও অনেকের পক্ষে সহজ হচ্ছে না। বিভিন্ন মহলে প্রচারিত তথ্যানুযায়ী, পার্বত্য তিন জেলা পরিষদের গঠন ও চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রশ্নে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের সঙ্গে সরকারের একটি মহলের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। গুঞ্জন রয়েছে যে, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সক্রিয় তদারকি করেছিলেন এবং সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীরও সম্মতি ছিল।
অন্যদিকে দীপেন দেওয়ান এই প্রক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেননি বলে আলোচনা রয়েছে। বরং তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিমন্ত্রীর অযাচিত হস্তক্ষেপের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন এবং এভাবে চলতে থাকলে দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে কঠিন হবে বলেও ইঙ্গিত দেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা দ্রুত গ্রহণ করা হয় বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
যদিও এসব তথ্যের আনুষ্ঠানিক সত্যতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তবুও ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে এগুলোর একটি রাজনৈতিক সংযোগ রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলো উঠছে, সেগুলো কেবল একজন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রশ্ন নয়; বরং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থান, সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো এবং পাহাড়ের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নের সঙ্গেও জড়িত। ফলে দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক পদত্যাগ পাহাড়ে বিদ্যমান সংশয় ও অবিশ্বাসকে আরও গভীর করেছে।
যদি সত্যিই তিনি সরকার ও জেএসএসের মধ্যে একটি রাজনৈতিক সেতুবন্ধন তৈরির প্রয়াসে নিয়োজিত থেকে থাকেন, তাহলে পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর প্রস্থান কেবল একজন মন্ত্রীর বিদায় নয়; বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার সম্ভাব্য সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথের অবসানও হতে পারে। এর ফলে পাহাড়ে সরকারের সঙ্গে জনগণের যে সীমিত হলেও আস্থার পরিবেশ তৈরি হচ্ছিল, সেটিও সামনের দিনগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিএনপি সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, তারা কি পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে একটি রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করবে, নাকি এটিকে কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখবে? ইতিহাস বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকট মূলত রাজনৈতিক। তাই এর সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই হতে হবে। সংলাপ, আস্থা ও চুক্তি বাস্তবায়নের প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে কেবল প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা অতীতেও সফল হয়নি, ভবিষ্যতেও হওয়ার সম্ভাবনা নেই, এটা হলফ করে বলা যায়।
জনসংহতি সমিতির কৌশলগত সমর্থনকে যদি বিএনপি কেবল নির্বাচনী সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করে এবং এর অন্তর্নিহিত রাজনৈতিক তাৎপর্য অনুধাবনে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেটি বিএনপির জন্য একটি গুরুতর রাজনৈতিক ভুল হবে। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণ বারবার প্রমাণ করেছে যে, তারা রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত দিতে যেমন সক্ষম, তেমনি তাদের রাজনৈতিক প্রত্যাশা ভঙ্গ হলে তার প্রতিক্রিয়াও স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে জানে।
একই সঙ্গে এটি বিএনপি সরকারের জন্য একটি সতর্কবার্তাও। পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রশ্নে যদি তারা সংলাপ, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং চুক্তি বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর না হয়, তাহলে পাহাড়ে যে রাজনৈতিক সমর্থনের ভিত্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, সেটি দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পাহাড় থেকেই বিএনপির রাজনৈতিক সংকটের সূচনা ঘটলেও তা বিস্ময়ের কিছু হবে না।
লেখকঃ সভাপতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ