Tuesday, 22 Sep 2026
পার্বত্য চট্টগ্রাম May 24, 2026

পার্বত্য চট্টগ্রামে আরো ৩৪টি বিজিবি’র বিওপি স্থাপনের সিদ্ধান্ত

হিল ভয়েস, ২৩ মে ২০২৬, বিশেষ প্রতিবেদক: পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর আরো ৩৪টি নতুন বিওপি (বর্ডার আউট পোষ্ট) স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে যে, তিন পার্বত্য জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ও সীমান্ত সড়ককে কেন্দ্র করে উক্ত ৩৪টি ক্যাম্প স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজিবি মহাপরিচালক এর উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। উক্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ৩৪ টি নতুন বিওপি স্থাপন করা হবে।

উক্ত পরিকল্পনা মোতাবেক রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলাধীন ২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোনের আওতাধীন ঋষি পাড়া ক্যাম্প কর্তৃক একটি বিওপি এবং লংগদু উপজেলাধীন ৩৭ বিজিবি রাজনগর জোনের আওতাধীন মাঝিপাড়া ক্যাম্প কর্তৃক একটি বিওপি ও থলছড়া ক্যাম্প কর্তৃক আরেকটি বিওপি স্থাপনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

উক্ত তিনটি বিওপি স্থাপনের জন্য রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার বড় হরিণা ইউনিয়নে ১৬২নং চিবা বড় হরিণা মৌজায় বিজিবি কর্তৃক আদিবাসী জুম্মদের জুম ভূমি বেদখলের চেষ্টা এবং জুমচাষে বাধা প্রদান করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোন ও ৩৭ বিজিবি রাজনগর জোন কর্তৃক বরকলের ৫নং বড় হরিণা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে ৩ জুম্ম গ্রামবাসীর জুম ভূমি বেদখলের চেষ্টা এবং এমনকি তাদেরকে জুম চাষেও বাধা প্রদান করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিজিবি ক্যাম্প স্থাপনের নামে জোরপূর্বক এই ভূমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোন এর বিজিবি সদস্যরা তাদের ক্যাম্প স্থাপন করার কথা বলে সম্প্রতি বড় হরিণার ১নং ওয়ার্ডের ঋষিপাড়া গ্রামে সুপেন চাকমা (৩৮), পিতা-শিবচরণ চাকমা ও অমর জিৎ চাকমা (৩২), পিতা-সুশীল কুমার চাকমাকে তাদের ভূমি বেদখল করার জন্য চাপ দিচ্ছে।

অপরদিকে, ৩৭ বিজিবি রাজনগর জোনের বিজিবি সদস্যরা বড় হরিণার ১নং ওয়ার্ডের মাঝিপাড়া গ্রামে শেফালী রঞ্জন চাকমা (৫৬), পিতা-শান্তি কুমার চাকমা’র ৫ একর পরিমাণ বেদখলের জন্য চাপ দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া, ৩৭ বিজিবি রাজনগর জোনের বিজিবি সদস্যরা ক্যাম্প স্থাপনের নামে বড় হরিণার ২নং ওয়ার্ডের নুও আদাম গ্রামবাসীর সামাজিক বন দখল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলেও জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে, পূর্বের বিএনপি সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) পার্বত্য চট্টগ্রামে ৫৪টি বিওপি স্থাপন করা হয়েছিল। এর পর আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে (২০০৯-২০২৪) পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) প্রত্যাহার করে নেওয়া অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পগুলোর স্থানে ধাপে ধাপে ২২৪টি এপিবিএন (আর্মস পুলিশ ব্যাটেলিয়ন) ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

আরো উল্লেখ্য যে, বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে চার শতাধিক অস্থায়ী ক্যাম্প বলবৎ রয়েছে। এছাড়া ২০০১ সালে ‘অপারেশন উত্তরণ’ নামে পার্বত্য চট্টগ্রামে একপ্রকার সেনাশাসন জারি করা হয়, যা এখনো বলবৎ রয়েছে।