হিল ভয়েস, ২১ জুন ২০২৬, বান্দরবান: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পুনঃগঠন, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিনকে অন্যত্র পদায়ন করাসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে- আজ রবিবার (২১ জুন) সকাল ৯:৩০ ঘটিকায় বান্দরবান প্রেস ক্লাব চত্ত্বরে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজ, বান্দরবান উদ্যোগে মানবন্ধন এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর এক স্মারকলিপি প্রদান কর্মসুচী পালন করা হয়।
উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদান করেন, কার্বারি মংক্যচিং মারমা, ছাত্রনেতা উক্যমং মারমা এবং আদিবাসী ফোরাম বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উছো মং মারমাসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক উছোমং মারমা, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সভাপতি অংচমং, সিএইচটি রাইটার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ক্যসামং মারমাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এই সময়, সিএইচটি রাইটার্স ইউনিয়ন ফোরামের বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ক্য সা মং মারমা”র সভাপতিত্বে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। দীর্ঘদিন পরও চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তারা চুক্তির আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে একজন পাহাড়ি আদিবাসীকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।
তারা অভিযোগ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ একটি নজিরবিহীন ঘটনা। তিনি পদত্যাগ পত্রে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করলেও জনমনে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় কী কারনে দীপেন দেওয়ান মন্ত্রীত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সু-স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে অবিলম্বে মন্ত্রণালয় পূর্ণগঠন এবং একজন আদিবাসী ব্যক্তিকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জোর দাবি জানান তারা।
তাদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সমস্যা,সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে গভীর ধারণা থাকা একজন প্রতিনিধির নেতৃত্বেই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে।
মানববন্ধন শেষে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।