Tuesday, 22 Sep 2026
পার্বত্য চট্টগ্রাম June 24, 2026

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাড়ছে ভূমি বেদখল ও হামলা: বান্দরবানে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা

হিল ভয়েস, ২৩ জুন ২০২৬, বান্দরবান: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া এবং ভূমি কমিশন কার্যকর না থাকায় পাহাড়িদের ভূমি বেদখল, তাদের উপর হামলা ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বান্দরবানের লামা উপজেলার নাজিরাম ত্রিপুরা পাড়ায় সাম্প্রতিক হামলা, ভূমি দখলের চেষ্টা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বক্তারা এই অভিযোগ করেন।

আজ মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, সকালে বান্দরবান মুক্ত মঞ্চের সামনে ‘বিক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্রজনতা’র উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা জানান, লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের নাজিরাম ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দা শিমন ত্রিপুরা, সইততি ত্রিপুরা ও গোদাই চন্দ্র ত্রিপুরা প্রায় ২০-২২ বছর ধরে তাঁদের বৈধ মালিকানাধীন ও ভোগদখলীয় জমিতে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি মো. বজলুর রহমান নামের এক সেটেলার বাঙালি ওই জমির মালিকানা দাবি করে দলবলসহ তা দখলের চেষ্টা চালান।

বক্তাদের দাবি, এই জমি বিরোধ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের উপস্থিতিতে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেসব বৈঠকে ভুক্তভোগী ত্রিপুরা পরিবারের মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র সঠিক প্রমাণিত হলেও, অভিযুক্ত বজলুর রহমানের দাখিল করা কাগজে বিভিন্ন অসঙ্গতি ও সীমানাগত অমিল পাওয়া যায়। এরপরও জোরপূর্বক জমিটি দখলের পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে।

সমাবেশ থেকে অভিযোগ করা হয়, গত ২১ জুন বিকেল ৩টায় মো. বজলুর রহমানের নেতৃত্বে একদল বহিরাগত ব্যক্তি লাঠিসোটা, দা, ছুরি ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ত্রিপুরাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় শিমন ত্রিপুরাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, একই দিন সন্ধ্যায় বজলুর রহমানের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল পুনরায় নাজিরাম ত্রিপুরা পাড়ায় প্রবেশ করে বসতবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালায়। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসী বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা।

পরবর্তীতে হামলাকারীরা ত্রিপুরা পরিবার ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালায় এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বর্তমানে নাজিরাম ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সমাবেশে জানানো হয়।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী ভূমি কমিশন পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর না হওয়ায় বহিরাগতদের মাধ্যমে পাহাড়িদের ভূমি দখলের ঘটনা বারবার ঘটছে। এর ফলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও পাহাড়িদের জানমালের নিরাপত্তায় অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ভূমি দখল বন্ধ এবং জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান বক্তারা। একই সাথে সমস্যা নিরসনে পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জোর দাবি তোলা হয়।

ক্লিটন ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নেলসন ত্রিপুরা, গোদাই চন্দ্র ত্রিপুরা, নারী নেত্রী এনুচিং মারমা, ছাত্রনেতা এডিসন চাকমা, থোয়াক্যজাই চাক ও তনয়া ম্রো প্রমুখ।