Tuesday, 22 Sep 2026
পার্বত্য চট্টগ্রাম June 29, 2026

বরকলে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ১২ তম  সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

হিল ভয়েস,২৮ জুন ২০২৬,বরকল: “সকল প্রকার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনে নারী সমাজ অধিকতর সামিল হউন” শ্লোগানে আজ ২৮ জুন ২০২৬, রবিবার বিকাল ৩.০০ঘটিকায় রাঙামাটি জেলার বরকলে হিল উইমেন্স ফেডারেশন বরকল থানা শাখার ১২তম বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হিল উইমেন্স ফেডারেশন বরকল থানা শাখার সদস্য বিশাখা চাকমার সভাপতিত্বে সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি রাঙ্গামাটির জেলা শাখার সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান বিধান চাকমা।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সদস্য শ্যাম রতন চাকমা, কার্বারি এসোসিয়েশন বরকল থানা কমিটি সভাপতি নন্দ বিকাশ চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শান্তিদেবী তঞ্চঙ্গ্যা ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ বরকল থানা শাখার সভাপতি ইলেন চাকমা প্রমুখ।

বিধান চাকমা বলেন,পৃথিবীতে অনেক জ্ঞানী-গুণী ব‍্যক্তির জন্মই হয়েছে নারীদের থেকে। নারীদের মধ‍্যে ইতিহাস, রাজনীতি, সমাজ সম্পর্কে সম‍্যক জ্ঞান রাখতে হবে। নাহলে নারীরা সবসময় পিছিয়ে থাকবে। লড়াই সংগ্রাম ব‍্যতীত অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে লড়াই সংগ্রামে সফল হওয়া সম্ভব হবে না।

তিনি আরো বলেন, সারাবিশ্ব যখন বিজ্ঞানের সুফল ভোগ করছে তখন পার্বত‍্য চট্টগ্রামের মানুষেরা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আছে। এখনো পাহাড়ের মানুষের অধিকার নিশ্চিত হয়নি, জুম্ম জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পার্বত‍্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লড়াই সংগ্রামে সামিল হতে হবে, নেতৃত্ব দিতে হবে। পার্বত‍্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের মধ‍্য দিয়েই নারী-পুরুষ, পাহাড়ি-বাঙালি সকলের অধিকার নিশ্চিত হবে।

শ্যাম রতন চাকমা বলেন, হিল উইমেন্স ফেডারেশন কিন্তু পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের চেয়ে এক বছর বড় । পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ যেমন লংগদু গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্যে দিয়ে জম্ম লাভ করে, ঠিক তেমনি হিল উইমেন্স ফেডারেশনও শাষকগোষ্ঠীর এবং বিজাতীয় শাসনশোষনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা হয়। মনে রাখবেন অধিকার কিন্তু কেউ কাউকে দেয়না, অধিকার আদায় করে নিতে হয়। তাই সবার উচিত পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের জন্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে লড়াই সংগ্রাম করে যুক্ত হওয়া।

নন্দ বিকাশ চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের পাশাপাশি হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেতৃত্ব বরকল উপজেলাতে প্রয়োজন। আপনাদের ন্যায় অন্যায় বুঝতে হবে। প্রতিবাদ করা শিখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র বরকল উপজেলার মধ্যে নেতৃত্ব দিলে হবে না, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়ার মন মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। তোমাদের বুঝতে হবে যে জুম্ম জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য একমাত্র যে সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে সেটা হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি । অনেকেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি করে যাচ্ছে কিন্তু জুম্ম জনগণের জন্য কেউ চিন্তা করে না। যে চিন্তা করে সেই সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি।

শান্তিদেবী তঞ্চঙ্গ্যা বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম সমাজের পারিবারিক জীবনে পুরুষের আধিপত্য এবং জাতীয় জীবনে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার শাসকদের চরম শাসন শোষণের শিকার জুম্ম নারীর জীবন সংগ্রাম এম এন লারমা প্রত্যক্ষ করেন। পারিবারিক রাজনৈতিক ও দাসত্ব থেকে মুক্তির মহান প্রয়াসে অধিকার সচেতন করে সংগঠিত করেন মহান নেতা এম এন লারমা।সে থেকে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচারণার মধ্য দিয়ে জুম্ম নারীসমাজকে রাজনৈতিক সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ ও সামিল করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন,পার্বত্য চট্রগ্রামে নারী সমাজ রাজনৈতিক বিমুখতা সেটার জন্য অনেক কারণ চিহ্নিত করা যায়। নারী সমাজকে পশ্চাৎপদভাবে ফেলে রাখা হয়েছে সে কারণে নারীরা রাজনীতি বিমুখ, প্রগতিবিমুখ এবং তারা নারীর মুক্তিতে বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র পাহাড়ে ভয়ের সংস্কৃতি জিইয়ে রেখেছে। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী বলয় সৃষ্টি করে রেখেছে। যার কারণে কেবলই নারী সমাজ নয় পুরো প্রজন্ম অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনে যথাযথভাবে সচেতন হতে পারছে না।জুম্ম জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে জুম্ম নারীদের সৎসাহসের সাথে এসব বাঁধা অতিক্রম করে জুম্ম জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই সংগ্রামে এগিয়ে আসতে হবে।

ছাত্র নেতা ইলেন চাকমা বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের রাজনীতি, সামাজিক রীতিনীতি, অস্তিত্ব নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের শেষ নেয়। সরকার বদল হয়েছে অনেকবার কিন্তু পাহাড় নিয়ে রাষ্ট্রের যে দৃষ্টি সেটি বদল হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্যাতন ও নিপীড়নের ইতিহাস ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনে নারী-পুরুষ সকলের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। জুম্ম জনগণের ওপর চলমান নিপীড়ন নিয়ে বর্তমান ছাত্র সমাজ কতটুকু ভাবছে তা প্রশ্ন থেকে যায়। আপনারা দেখেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক হামলায় শাসকগোষ্ঠী প্রত্যক্ষভাবে মদদ দিয়ে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামে জুম্ম জণগণের নিপীড়ন থেকে মুক্তির গতি পথ হচ্ছে বৃহত্তর আন্দোলন। বর্তমান তরুণ ছাত্র ও যুব সমাজকে তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার উপযুক্ত সময় উপস্থিত হয়েছে বলে মনে করি।

তিনি আরো বলেন আমরা যে অধিকার পাওয়ার স্বপ্ন দেখছি সেখানে তরুণ সমাজের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলনে অধিকতর সামিল হওয়ার আহবান জানান।

সবশেষে সম্মেলন ও কাউন্সিল শেষে অন্তরা চাকমাকে সভাপতি, নমনিতা চাকমাকে সাধারণ সম্পাদক ও মেঘলা চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট হিল উইমেন্স ফেডারেশন বরকল থানা শাখা গঠন করা হয়।

এইচডাব্লিউএফ বরকল থানা শাখার বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুনিয়া চাকমার সঞ্চালনায় নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথবাক্য পাঠ করান হিল উইমেন্স ফেডারেশন রাঙামাটি জেলা কমিটির সভাপতি কবিতা চাকমা এবং অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশন বরকল থানা শাখার বিদায়ী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শেফালি চাকমা।