Tuesday, 22 Sep 2026
আন্তর্জাতিক July 24, 2026

‘বাংলাদেশে ট্রাইব্যালদের বিলুপ্তি কীভাবে মিজোরামকে প্রভাবিত করতে পারে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

হিল ভয়েস, ​২৩ জুলাই ২০২৬, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আজ (২৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় ভারতের মিজোরাম রাজ্যের রাজধানী আইজলের ট্রেজারি স্কোয়ারে অবস্থিত আইঅ্যান্ডপিআর (I&PR) মিলনায়তনে দ্যা জৌজাম টাইমসের (The Zozam Times) উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে ট্রাইব্যালদের (জুম্মদের) বিলুপ্তি কীভাবে মিজোরামকে প্রভাবিত করতে পারে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী কে. সাপডাঙ্গা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর (রাজনৈতিক) উপদেষ্টা, বিধায়ক ও জেডপিএম (ZPM)-এর সহ-সভাপতি শ্রী লালমুয়ানপুইয়া পুন্তে।

সেমিনারে ​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী কে. সাপডাঙ্গা বলেন, “বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল থেকে মিজোরামে পালিয়ে আসা জো (Zo) বংশোদ্ভূত ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষকে কীভাবে গ্রহণ করা হবে বা পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়ে আমাদের গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে।” ​

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, “বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী জো আদিবাসীদের এলাকায় দেশের সমতল থেকে বিপুল সংখ্যক মুসলিম প্রবেশ করছে এবং সেখানে বসবাস করতে চাইছে। এ কারণে নিরুপায় হয়ে নিরাপত্তার খোঁজে তারা পালিয়ে আসছে। ​ভবিষ্যতেও পালিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিতাড়িতদের মধ্যে চাকমা, মারমা(মগ) এবং ব্রু (Bru) সম্প্রদায়ও থাকবে। গির্জাগুলো (ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ) তাদের গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে তাদের দেখাশোনা করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (NGO) ও রাজনৈতিক দলগুলোও রাজ্যের নিরাপত্তা বজায় রেখেই তাদের আশ্রয় দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “এই পরিস্থিতিতে জো বংশোদ্ভূত এবং অন্য সম্প্রদায়ের মানুষদের কীভাবে গ্রহণ করা হবে তাও ভেবে দেখা দরকার। সরকারকেও হয়তো এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।”

​তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সেমিনারটি সরকার, জাতি, গির্জা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর চোখ খুলে দিতে সাহায্য করবে।

বিশেষ অতিথি মুখ্যমন্ত্রীর (রাজনৈতিক) উপদেষ্টা লালমুয়ানপুইয়া পুন্তে বলেন, প্রতিবেশী অঞ্চলের মানুষের অবস্থা এবং তাদের মিজোরামে প্রবেশের কারণগুলো স্পষ্টভাবে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রাজ্যের সামগ্রিক অবস্থাকে স্পষ্ট করে। এ ধরনের সময়োপযোগী সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানান।

​দ্যা জৌজাম টাইমসের সম্পাদক তুইখুয়াহথাঙ্গার সভাপতিত্বে এই আলোচনায় মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. লালরিননুঙ্গা মার সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পাছুংঙা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ড. লালথ্লামুয়ানা রালতের সঞ্চালনায় আলোচনা পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রী ড. লালরিননুঙ্গা মার তার প্রবন্ধ উপস্থাপনে বলেন, “১৯৪৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসংখ্যার অনুপাত ছিল পাহাড়ি ৯৮.৫ শতাংশ এবং বাঙ্গালী মাত্র ১.৫ শতাংশ ছিল, যেখানে ২০২২ সালের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী যথাক্রমে ৪৯ এবং ৫১ শতাংশে উপনীত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাশাসন উপস্থিত থাকায় বাঙালিরা সেটাকে সহায়ক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে।”

এই অধ্যাপক আরও বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি অনুপ্রবেশ ঠেকানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন।” কাজেই চুক্তি বাস্তবায়নের স্বপক্ষে সবাইকে একত্র হয়ে কাজ করতে পার্বত্যবাসীকে আহ্বান জানান এবং মিজোরাম সরকারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

​আমন্ত্রিত হিসেবে এই সেমিনারে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, রাজনৈতিক দল, এমজেডপি (MZP) এবং এমএসইউ (MSU), বিভিন্ন জাতিভিত্তিক ছাত্র সংগঠন ও বিভিন্ন কলেজের ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি, এই বিষয়ে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।