Tuesday, 22 Sep 2026
পার্বত্য চট্টগ্রাম August 4, 2026

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে দশ আদিবাসী সংগঠনের স্মারকলিপি পেশ

হিল ভয়েস, ৩ আগস্ট ২০২৬, বান্দরবান: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিষয়- স্বাস্থ্য বিভাগের অব্যবস্থাপনা, হাসপাতালগুলোতে তদারকির অভাব, স্বাস্থ্য বিভাগের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশসহ সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসা উপকরণ ও পর্যাপ্ত ওষুধ মজুদ করা এবং যথাযথভাবে চিকিৎসা সেবা সুনিশ্চিত করার দাবিতে বান্দরবান পার্বত্য জেলার ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে দশটি আদিবাসী সংগঠন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট স্মারকলিপি পেশ করেছে।

আজ (৩ জুলাই) সকাল ১০ টার দিকে বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে বান্দরবান ছাত্র-জনতার ব্যানারে উপরোক্ত বিষয়ে এক মানববন্ধন কর্মসূচি সম্পন্ন করার পরই দশটি আদিবাসী সংগঠন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট ৬ দফা দাবি সম্বলিত উক্ত স্মারকলিপি পেশ করে।

স্মারকলিপি পেশকারী দশটি সংগঠন হল- বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফোরাম, বাংলাদেশ ম্রো স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ চাক স্টুডেন্টস এসোসিয়েসন, বাংলাদেশ খেয়াং স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, বাংলাদেশ খুমী স্টুডেন্টস কাউন্সিল, ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম, বম স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করে বলা হয়- “উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অপর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স, চিকিৎসা উপকরণের স্বল্পতা, অ্যাম্বুলেন্সের ঘাটতি, অপ্রতুল ওষুধ ইত্যাদির কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র-অসহায় মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম থেকে জানা যায়, ঠিক মতো সেবা না পাওয়ায় অনেক গর্ভবতী মহিলা মারা যাচ্ছে, অ্যান্টিভেনম না থাকায় সাপে কাটা অনেক রোগী মারা যাচ্ছে, ডাক্তার ও নার্সদের গাফিলতির কারণে অনেক রোগী ভুল চিকিৎসা নিচ্ছে, ডাক্তার ও নার্সদের অসদাচরণের ফলে বেশির ভাগ মানুষ হাসপাতাল বিমুখ হয়ে পড়ছে ইত্যাদি কারণে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা।”

এতে আরও বলা হয়- “১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুসারে, জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পার্বত্য জেলা পরিষদের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে। অথচ পার্বত্য জেলা পরিষদের নাকের ডগায় সিভিল সার্জন অফিসে অনিয়ম হচ্ছে, চিকিৎসকরা সেবা দিতে অনিয়মিতভাবে উপস্থিত হচ্ছেন ইত্যাদির কারণে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ লাগামহীন হয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ দরিদ্র মানুষ। অপরদিকে জেলার বিভিন্ন জায়গায় গড়ে ওঠা অধিকাংশ বেসরকারি স্বাস্থ্য ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়েও সুচিকিৎসা মিলছে না। জেলা শহরের কিছু বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধেও ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।”

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিসমূহ নিম্নরূপ:

১. বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা সদর হাসপাতালসহ সকল উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো মানসম্মত ও অত্যাধুনিক করতে হবে।
২. ডাক্তার ও নার্সদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. জেলা সদর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলোতে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স, অক্সিজেন, অ্যান্টিভেনমসহ সকল প্রকার ভ্যাকসিন ও ওষুধপত্র মজুদ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে নৌ অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে ও মানসম্মত চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে তদারকি বাড়াতে হবে।
৫. জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এমআরআই মেশিন, সিসিউ, আইসিউ স্থাপনের দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।
৬. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুসারে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পার্বত্য জেলা পরিষদকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এছাড়া, নিম্নোক্ত পাঁচ কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপির অনুলিপি প্রেরণ করা হয়- ১. মাননীয় চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ; ২. মি. সাচিংপ্রু, মাননীয় সাংসদ, ৩০০নং পার্বত্য বান্দরবান; ৩. এড. মাধবী মারমা, মাননীয় সাংসদ, ৩৩৪নং সংরক্ষিত আসন; ৪. সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা; ৫. জেলা প্রশাসক, বান্দরবান পার্বত্য জেলা।

উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি বছরগুলোতে ডায়রিয়া এবং হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অনেক কোমলমতি শিশু মারা যাচ্ছে। বান্দরবান স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসারে চলতি বছরে মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে। তন্মধ্যে রুমা উপজেলায় প্রায় ৯ শিশু এবং আলীকদমে ১৩ জন মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।