Tuesday, 22 Sep 2026
আদিবাসী অধিকার March 7, 2026

মধুপুরের আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি অধিকার আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক- মধুপুরে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা

হিল ভয়েস, ৬ মার্চ ২০২৬, মধুপুর: প্রাকৃতিক শালবন ও প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস করে কৃত্রিম লেক খনন, কথিত উন্নয়ন প্রকল্পের নামে আদিবাসীদের প্রথাগত নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ১০ ঘটিকায় মধুপুরের আমলীতলা স্কুল মাঠে সম্মিলিত আদিবাসী ছাত্র জনতার উদ্যোগে এক ‘বিক্ষোভ সমাবেশ’ আয়েজন করা হয়েছে।

উক্ত বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস) এর কেন্দ্রীয় সভাপতি জন জেত্রা, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরাম এর সভাপতি টনি চিরান, গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন (জিএসএফ) কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রলয় নকরেক, সাংসারেক কমিউনিটির প্রতিনিধি শীতল স্নাল, আবিমা গারো ইয়ুথ এসোসিয়েশন আজিয়ার মহাসচিব সত্যজিৎ নকরেক, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ঢাকা মহানগরের সভাপতি কনেজ চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সদস্য কুর্নিকোভা চাকমা, আবিমার নারী নেত্রী অপর্না দফো, গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (গাসু) কেন্দ্রীয় কমিটির সংস্কৃতি বিষয়ক জানকী চিসিম, বাংলাদেশ ম্রো স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন এর রুমা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক পায়া ম্রো, বাগাছাস ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি সৃজন মৃ, বাগাছাস মধুপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব রেমা প্রমুখ।

বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সাবেক সভাপতি আন্তনী রেমা’র সভাপতিত্বে উক্ত সমাবেশে সঞ্চালনা করেন গারো স্টুডেন্ট ফেডারেশন (জিএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিয়াং রিছিল।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শাল অরণ্য পরিবেশ প্রতিবেশ প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস করে কৃত্রিম লেক তৈরি হতে পারেনা। শুধু শালবনের উপর নয় বনবাসী আদিবাসীদের জীবন ও সংস্কৃতির উপর অবিচার করা হবে। শালবন বেঁচে থাকুক তার আদিম চেহাড়ায় ও স্বমহিমায়। এই বনে স্মরণাতীত কাল থেকে গারো কোচদের বসবাস। প্রবীণদের ভাষ্যমতে, এই বনে বাঘ, ভাল্লুক, হরিণ, বন্য শুকর, বনবিড়ালের অবারিত বিচরণ ছিল। শত শত পাখি ও বনমোড়গের অবাধ বিচরণ। বনবাসীরা দৈনন্দিন যাপিত জীবনে তাদের খাদ্যাভ্যাসে বন আলু ও লতাগুল্ম ঔষধি সংগ্রহ করতো। আজ তা ধীরে ধীরে বিলীন হবার পথে।

বক্তারা আরো বলেন, ১৯৫০ সালের প্রজাসত্ব আইনের পর আদিবাসীদের শালবনে বনবিভাগ অনুপ্রবেশ করে। বনবিভাগের বিভিন্ন কথিত প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বনের সৌন্দর্য ও প্রকৃতি তার নিজস্বতা হাড়িয়ে ফেলেছে। বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্য দিয়ে লেক খনন, বিনোদনকেন্দ্র, হোটেল, রিসোর্ট নির্মানের মধ্য দিয়ে অবশিষ্ট যেটুকু বন আছে তা নষ্ট করে স্থানীয় গারো কোচ আদিবাসীদের উচ্চেদের পায়তারা চলছে।

এই সময় বক্তারা মধুপুরের আদিবাসী জনগন বন বিভাগের একক সিদ্ধান্ত মেনে নিবেনা অভিমত প্রকাশ করেন এবং আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমির অধিকার নিশ্চিত না করলে আগামী দিনে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে আগামী ঈদের মধ্যে মধুপুরের সমস্যা সমাধানের জন্য দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ঈদের পর ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এছাড়া সমাবেশ থেকে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ উত্থাপন করা হয় –

১। আদিবাসীদের ভূমিতে লেক খনন ও আদিবাসীদের স্বার্থ বিরোধী সকল উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করতে হবে।

২। সমতল আদিবাসীদের ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য পৃথক মন্ত্রনালয় ও ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে।

৩। আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে।

৪। আদিবাসীদের সকল হত্যাকান্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

৫। মধুপুরের আদিবাসীদের নামে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।