হিল ভয়েস, ২৪ আগস্ট ২০২৬, বিশেষ প্রতিবেদক: পার্বত্য চট্টগ্রামের অবিসংবাদিত মহান নেতা, জুম্ম জাতীয় জাগরণের অগ্রদূত, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক সংসদ সদস্য, নিপীড়িত মানুষের বন্ধু বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার (যিনি এম এন লারমা নামে সমধিক পরিচিত) আসন্ন ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
‘এম এন লারমার ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটি-২০২৬’ কর্তৃক গতকাল (২৩ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য তিনটি বিভাগ ও তিনটি বিষয় রয়েছে। প্রথম বিভাগে অংশগ্রহণ করবেন অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীগণ, তাদের প্রবন্ধের বিষয় হচ্ছে- ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জুম্ম জাতির জীবন ও জীবিকা’ (ন্যূনতম ৮০০ শব্দ)। দ্বিতীয় বিভাগে অংশগ্রহণ করবেন একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীগণ, তাদের প্রবন্ধের বিষয় হচ্ছে- ‘জুম্ম জাতীয়তাবাদ ও এম এন লারমা’ (ন্যূনতম ১০০০ শব্দ)। তৃতীয় বিভাগে অংশগ্রহণ করবেন অনার্স ও মাস্টার্স স্তরের ছাত্র-ছাত্রীগণ, তাদের প্রবন্ধের বিষয় হচ্ছে- ‘মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার জীবন ও দর্শন’ (ন্যূনতম ১৫০০ শব্দ)।
লেখা আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হবে। প্রবন্ধের সঙ্গে প্রতিযোগীর নাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম, শ্রেণি/বর্ষ, মোবাইল নাম্বার ও ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।
লেখা ই-মেইলের মাধ্যমে chakmajuwel61@gmail.com ঠিকানায় অথবা ডাকযোগে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, কল্যাণপুর, রাঙ্গামাটি-৪৫০০’ ঠিকানায় পাঠাতে হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য ০১৬০২০১৫৫৫৩ ও ০১৮১০২৭০১১৫ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
বেশ কয়েক বছর ধরে দিবসটি উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কারবিতরণীসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য, এম এন লারমার জন্ম ১৯৩৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলাধীন নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট মৌজার স্বনামখ্যাত মহাপুরম বা মাওরুম গ্রামে। ১৯৬০ দশকে কাপ্তাই বাঁধের ফলে সৃষ্ট কাপ্তাই হ্রদের নীচে অন্যান্য বহু গ্রামের সাথে এই গ্রামটিও ডুবে যায়।
তরুণ বয়সে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি ১৯৬৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নিবর্তনমূলক আইনে পুলিশ কর্তৃক চট্টগ্রামের পাথরঘাটাস্থ পাহাড়ি ছাত্রাবাস হতে গ্রেপ্তার হন।
তিনি ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁরই নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের নিকট ৪ দফা সম্বলিত আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিনামা পেশ করা হয়। ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে জুম্মদেরকে ‘বাঙালি’ হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রতিবাদে তিনি গণপরিষদ অধিবেশন বর্জন করেন। ১৯৭২ সালে তাঁরই নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠিত হয় এবং তিনি এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট থেকে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। এরপর তাঁর ও তাঁর ভাই সন্তু লারমার নেতৃত্বে জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র শাখা ‘শান্তিবাহিনী’ দিয়ে শুরু হয় সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তিনি ১৯৭৭ সালে জনসংহতি সমিতির প্রথম জাতীয় সম্মেলনে এবং ১৯৮২ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সম্মেলনে পরপর সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।
১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর ভোর রাতে বিভেদপন্থী গিরি-প্রকাশ-দেবেন-পলাশ চক্রের বিশ্বাসঘাতকতামূলক অতর্কিত এক আক্রমণে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাধীন পানছড়ি উপজেলার খেদারছড়া থুমে আট সহযোদ্ধাসহ নির্মমভাবে নিহত হন তিনি।